ভুয়া ডিবির টার্গেটে ঘোড়াঘাটের প্রাথমিক শিক্ষকরা, খোয়ালেন ২ লাখ টাকা

ভুয়া ডিবির টার্গেটে ঘোড়াঘাটের প্রাথমিক শিক্ষকরা, খোয়ালেন ২ লাখ টাকা

ঘোড়াঘাট (দিনাজপুর) প্রতিনিধি: দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটে এবার সংঘবদ্ধ এক ভুয়া ডিবি (গোয়েন্দা পুলিশ) প্রতারক চক্রের টার্গেটে পরিণত হয়েছেন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকরা। নিজেদের ‘ডিবি পুলিশের কর্মকর্তা’ পরিচয় দিয়ে সন্তানদের মাদক মামলায় আটকে রাখার ভয় দেখিয়ে ইতিমধ্যে অন্তত তিন শিক্ষকের কাছ থেকে প্রায় দুই লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে চক্রটি। একই কৌশলে আরও ১৩ থেকে ১৪ জন শিক্ষককে ফোন করা হলেও তারা সতর্ক থাকায় প্রতারণার হাত থেকে রক্ষা পেয়েছেন।

গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ভুক্তভোগী ও শিক্ষক প্রতিনিধিদের ১৫ থেকে ২০ জন ঘোড়াঘাট থানায় উপস্থিত হয়ে পৃথক পৃথক লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, প্রতারক চক্রটি প্রথমে শিক্ষকদের ফোন করে দাবি করে, তাদের সন্তানকে মাদকসহ হাতেনাতে আটক করেছে ডিবি পুলিশ। মামলা ও জেলহাজত থেকে সন্তানকে বাঁচাতে হলে দ্রুত বিকাশ বা নগদের মাধ্যমে মোটা অঙ্কের টাকা পাঠাতে হবে।

বিশ্বাসযোগ্যতা অর্জনের জন্য শিক্ষকের সন্তানের নাম-পরিচয় ব্যবহার করে পরিবারে চরম আতঙ্ক তৈরি করে টাকা লুটে নেয় চক্রটি। প্রতারকদের পাতা ফাঁদে বিভ্রান্ত হয়ে প্রধান শিক্ষক মাহবুবুর রহমান ধাপে ধাপে বিকাশ ও নগদের মাধ্যমে ৮৬ হাজার ৮০০ টাকা পাঠান।

একইভাবে নারায়ণপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক প্রীতি রানী সরকার হারিয়েছেন ৬৭ হাজার টাকা এবং ওহিউড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মাহফুজা বেগম খুইয়েছেন ৪১ হাজার টাকা। টাকা পাঠানোর পর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করে শিক্ষকরা বুঝতে পারেন যে, পুরো ঘটনাটি ছিল একটি সুপরিকল্পিত প্রতারণা। এরপর প্রতারকদের ব্যবহৃত নম্বরে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে সেগুলো বন্ধ পাওয়া যায়।

থানায় লিখিত অভিযোগে প্রধান শিক্ষক মাহবুবুর রহমান, শাহিনা বেগম, নাজমুননাহার ও শাহজাহান আলী উল্লেখ করেন, প্রতারকরা সন্তানদের ব্যক্তিগত তথ্য ব্যবহার করে মানসিকভাবে চাপ সৃষ্টি করে দ্রুত টাকা পাঠাতে বাধ্য করেছিল।

উপজেলা প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক সমিতির সভাপতি মুশফিকুর রহমান জানান, পুরো উপজেলা জুড়েই প্রধান শিক্ষকদের লক্ষ্য করে পরিকল্পিতভাবে এই প্রতারণা চালানো হচ্ছে। বিষয়টি ইতিমধ্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং থানাকে জানানো হয়েছে। আমরা দ্রুত এই চক্রকে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানাচ্ছি।

বিষয়টি নিশ্চিত করে ঘোড়াঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুল ইসলাম বলেন, ভুক্তভোগী শিক্ষকদের লিখিত অভিযোগ আমরা গ্রহণ করেছি। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তদন্ত সাপেক্ষে অপরাধীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” একই সাথে এ ধরনের কোনো ফোন কল পেলে আতঙ্কিত না হয়ে প্রথমে পরিবারের সদস্য এবং সংশ্লিষ্ট থানার সাথে যোগাযোগ করে নিশ্চিত হওয়ার জন্য তিনি সবাইকে পরামর্শ দেন।

পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/175725