বগুড়া সরকারি আজিজুল হক কলেজ রেলগেটে মেলেনি স্থায়ী নিরাপত্তা

বগুড়া সরকারি আজিজুল হক কলেজ রেলগেটে মেলেনি স্থায়ী নিরাপত্তা

শহর প্রতিনিধি (বগুড়া): সরকারি আজিজুল হক কলেজের নতুন ভবন ও পুরান বগুড়া রেলগেট এখনো অরক্ষিত। দীর্ঘ এক বছর আগে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে কর্তৃপক্ষ অস্থায়ী ভিত্তিতে গেটম্যান নিয়োগ দিলেও, স্থায়ী কাঠামো বা লোহার দণ্ড-প্রতিবন্ধকতা আজও নির্মিত হয়নি। ফলে প্রতিনিয়ত জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হচ্ছেন শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয়রা।

কলেজের নতুন ভবনে নিয়মিত শিক্ষাকার্যক্রম ছাড়াও বিভিন্ন পাবলিক ও চাকরির পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। ফলে এখানে বিশেষ পরীক্ষার দিন, সাপ্তাহিক ছুটির দিন হাজারো মানুষের সমাগম ঘটে। শিক্ষাকার্যক্রমের কর্মদিবসগুলোতে কলেজের প্রায় চল্লিশ হাজার শিক্ষার্থীর বৃহৎ অংশ এই রেলগেট দুইটি দিয়ে নিত্য ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হন।

কামারগাড়ী রেলগেটে সিগন্যাল ব্যবস্থা থাকলেও, গুরুত্বপূর্ণ এই দুটি গেট রেলওয়ের নথিভুক্ত নয়। অথচ স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, রেলপথের ১৫০ ফুটের মধ্যে অবৈধ দোকানপাট গড়ে তোলায় পথচারীদের নিরাপত্তা আরও কমেছে। এমনকি রাতের আঁধারে রেলের নির্দেশিকা বোর্ড সরিয়ে দোকান নির্মাণের ঘটনাও ঘটেছে।

গত বছরের জুলাই ও সেপ্টেম্বর মাসে ট্রেনের ধাক্কায় দুজন নিহতের মর্মান্তিক ঘটনার পর শিক্ষার্থীরা মানববন্ধনের মাধ্যমে স্থায়ী গেটম্যান ও প্রতিবন্ধকতার দাবি জানান। ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটামে কর্তৃপক্ষ গেটম্যান নিয়োগ দিলেও তা স্থায়ী কোনো সমাধান নয়। বর্তমানে দুইজন গার্ড সপ্তাহে তিন দিন পালাক্রমে দায়িত্ব পালন করেন। কিন্তু ছুটির দিন বা অনিয়মিত সময়ে অরক্ষিত হয়ে পড়ে গেটগুলো। কলেজ গেটের রেল ও কলেজ কর্তৃপক্ষের সমন্বয়ে গেটম্যান এবং স্থায়ী গার্ড রাখার বিষয়ে জানতে চাইলে মুঠোফোনে সরকারি আজিজুল হক কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. মাহফূজুল ইসলাম বলেন, রেলপথ এবং রেলগেট বাংলাদেশ রেলওয়ের নিয়ন্ত্রণাধীন, সাময়িকভাবে গেল বছর কলেজ থেকে রেলের সাথে সমন্বয় করে একজন গার্ড দেওয়া ছিল পরবর্তীতে স্থায়ী গার্ড বা গেটম্যানের বিষয়টি রেল কর্তৃপক্ষ দেখবে।

কলেজ গেটসংলগ্ন এলাকায় অবৈধ ফাস্টফুড ও চায়ের দোকানের কারণে সন্ধ্যা থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত বহিরাগতদের উপদ্রব চলে। এতে কলেজের শিক্ষার পরিবেশ বিঘ্নিত হচ্ছে সংশ্লিষ্টদের মতামতের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বহিরাগতদের পরিমাণ এতো বেশি যে তাদের স্বল্প জনবল দিয়ে নিয়ন্ত্রণ করা অত্যন্ত কঠিন। কলেজ গেটে কলেজের একজন গার্ড থাকেন এবং সিসিটিভি ক্যামেরা কার্যকর রয়েছে।

এদিকে, বাংলাদেশ রেলওয়ের বগুড়া দপ্তরের সহকারী নির্বাহি প্রকৌশলী নারায়ণ প্রসাদ সরকার বলেন, সরকারি আজিজুল হক কলেজের গেটে স্থায়ী গেট ও গেটম্যান নিয়োগে পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে চিঠি পাঠানো হয়েছিল কিন্তু পরবর্তী কোন উত্তর এখনও পাওয়া যায়নি। বর্তমানে যে দুইজন গার্ড রয়েছে তাদের একজন প্রকৌশল দপ্তর থেকে এবং অপরজন পিডব্লিআই বিভাগ স্টেশন ম্যানেজার থেকে দেওয়া হয়েছে । কলেজ কর্তৃপক্ষের সাথে রেলের সমন্বয় করে গেটম্যান দেওয়ার কথা থাকলেও তারা সমন্বয় করেননি। তারা স্থায়ীকরণের বিষয়ে কোন পদক্ষেপ নিয়েছেন বলে আমার জানা নেই । গার্ডরা যদি দায়িত্বে অবহেলা করে থাকে সে বিষয়ে তদন্ত করে তাদের জবাবদিহিতার আওতায় আনা হবে বলেও জানান তিনি।

শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের বলেন, কামারগাড়ীর মতো লোহার দণ্ড-কাঠামোর স্থায়ী গেইট নির্মাণ এবং ঝুঁকিপূর্ণ দোকানপাট উচ্ছেদ করা হলে অপ্রত্যাশিত ট্রেন দুর্ঘটনা ও অনাকাঙ্ক্ষিত পরিবেশ থেকে পরিত্রাণ পাওয়া সম্ভব। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে বড় ধরনের প্রাণহানির আশঙ্কা রয়েই যাচ্ছে।

পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/175636