দেওয়া পরীক্ষায় ফেল আর পরীক্ষা না দিয়েও পাস —সাত কলেজের ফল প্রকাশে বিতর্ক
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত সরকারি সাত কলেজের ইংরেজি বিভাগের তৃতীয় বর্ষের পরীক্ষায় ঢাকা কলেজের এক শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ না নিয়েও পাস করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে যে পরীক্ষায় তিনি অংশ নিয়েছিলেন, সেই কোর্সে তাকে অকৃতকার্য দেখানো হয়েছে। এ ঘটনায় ফলাফল প্রকাশ ও উত্তরপত্র মূল্যায়ন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন শিক্ষার্থীরা।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী রামিম ফকিরের দাবি, শারীরিক অসুস্থতার কারণে তিনি ৩০১ নম্বর কোর্সের (Elizabethan and Jacobean Drama) পরীক্ষায় অংশ নেননি এবং হাজিরা খাতায় স্বাক্ষরও করেননি। তবে সম্প্রতি প্রকাশিত ফলাফলে ওই কোর্সে তাকে ২.৫০ জিপিএ দিয়ে পাস দেখানো হয়েছে।
অন্যদিকে, Linguistics কোর্সের পরীক্ষায় অংশ নেওয়া সত্ত্বেও তাকে অকৃতকার্য দেখানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
রামিম ফকির বলেন, আমি ৩০১ নম্বর কোর্সের পরীক্ষাই দিইনি, হাজিরা খাতায় সাইনও করিনি। অথচ সেখানে আমাকে পাস করানো হয়েছে। আবার যে পরীক্ষাটা দিয়েছি, সেখানে ফেল দেখানো হয়েছে। পুরো বিষয়টি অত্যন্ত রহস্যজনক।
তিনি ফলাফল পুনর্মূল্যায়ন এবং বিষয়টি তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে ঢাকা কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক এ কে এম ইলিয়াস বলেন, বিষয়টি এখনো তার নজরে আনা হয়নি। তবে এ ধরনের কোনো অভিযোগ পাওয়া গেলে সেটি অবশ্যই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে জানানো হবে বলে জানান তিনি।
তিনি বলেন, যে সমস্যার কথা বলা হচ্ছে, সেটি আগে সঠিকভাবে শনাক্ত করতে হবে। কোথায় এবং কীভাবে ভুল হয়েছে, সেটি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষই তদন্ত করে নির্ধারণ করবে। ভুল চিহ্নিত হওয়ার পর অবশ্যই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং শিক্ষার্থীরা যেন সঠিক ফলাফল পায়, সে বিষয়টি নিশ্চিত করা হবে।
এ বিষয়ে কলেজের ইংরেজি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক অনুপমা পাল বলেন, এ বিষয়ে আমাদের কোনো হাত নেই। এই পরীক্ষার আয়োজন করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।
এর সমাধান হিসেবে একটি এপ্লিকেশন নিয়ে কন্ট্রোলার অফিসে রেকমেন্ডেশন নিয়ে গেলে তারা বিষয়টি সমাধান করবে। পরীক্ষার পর মার্কশিটগুলো কেন্দ্রীয় কমিটির কাছে পাঠানো হয় পরে তারা সেগুলো যাচাই বাছাই করে।
এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত সরকারি সাত কলেজের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক হিমাদ্রি শেখর চক্রবর্তী বলেন, শিক্ষকদের খাতা মূল্যায়নের অসংগতির কারণে এ ধরনের ঘটনা ঘটতে পারে। উত্তরপত্র তো শিক্ষকরা মূল্যায়ন করেন। তারা নম্বর না পাঠালে ফলাফল প্রকাশের প্রশ্নই আসে না। তবে ফলাফল প্রক্রিয়াকরণের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকেও যদি কোনো ত্রুটি বা অসাবধানতা হয়ে থাকে, সেটি আমাদের নজরে আনা হলে যাচাই-বাছাই করে দ্রুত সংশোধনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি আরো বলেন, আমাদের প্রথম ও প্রধান বিবেচনা শিক্ষার্থীর স্বার্থ। প্রত্যেক শিক্ষার্থী যেন তার প্রকৃত ও সঠিক ফলাফল পায়, সেটিই নিশ্চিত করতে আমরা কাজ করছি। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/175625