সাবেক শাশুড়িকে পেট্রোল ঢেলে পুড়িয়ে হত্যার দায়ে জামাইয়ের আমৃত্যু কারাদণ্ড

সাবেক শাশুড়িকে পেট্রোল ঢেলে পুড়িয়ে হত্যার দায়ে জামাইয়ের আমৃত্যু কারাদণ্ড

শাশুড়ির গায়ে পেট্রোল ঢেলে আগুন লাগিয়ে হত্যার দায়ে হাউস আলী নামে এক ব্যক্তিকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড (আমৃত্যু পর্যন্ত) দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ৬ মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) দুপুরে মেহেরপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক আলি মাসুদ শেখ এ রায় ঘোষণা করেন।

দণ্ডপ্রাপ্ত হাউস আলী মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার ষোলটাকা গ্রামের আহমদ আলীর ছেলে।

মামলার বিবরণে জানা যায়, নিহতের মেয়ে আম্বিয়া খাতুন একজন আনসার সদস্য। পারিবারিক নির্যাতনের কারণে তিনি স্বামী হাউস আলীকে তালাক দেন।

২০১৬ সালের ৮ মে রাতে আম্বিয়া ভোটের দায়িত্বে বাড়ির বাইরে ছিলেন। ওই রাতে হাউস আলী স্ত্রীকে খুঁজতে শ্বশুরবাড়িতে যান। সেখানে আম্বিয়ার মা ফুলসুরাতন (৭০) জানান, তার মেয়ে ভোটের ডিউটিতে বাইরে রয়েছেন।

এতে ক্ষিপ্ত হয়ে হাউস আলী সঙ্গে থাকা বোতল থেকে পেট্রোল ঢেলে শাশুড়ির গায়ে আগুন ধরিয়ে দেন। আগুনে দগ্ধ হয়ে ফুলসুরাতন চিৎকার করলে প্রতিবেশীরা ছুটে আসেন। তবে এর আগেই হাউস আলী পালিয়ে যান। প্রত্যক্ষদর্শীরা তাকে শনাক্ত করেন।

গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় ফুলসুরাতনকে মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হলে পরদিন চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

এ ঘটনায় নিহতের মেয়ে আম্বিয়া খাতুন বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ (সংশোধিত ২০০৩)-এর ৪(১) ধারায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।

মামলার তদন্ত শেষে ২০১৬ সালের ১৩ আগস্ট তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মনিরুজ্জামান আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেন। বিচার চলাকালে আদালত ১৮ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ, জেরা এবং উপস্থাপিত আলামত পর্যালোচনা করেন।

সব প্রমাণ বিশ্লেষণ করে আদালত হাউস আলীর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় তাকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড (আমৃত্যু পর্যন্ত), ৫০ হাজার টাকা জরিমানা এবং অনাদায়ে আরও ৬ মাসের কারাদণ্ড দেন।

মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে আইনজীবী ছিলেন পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মুস্তাফিজুর রহমান তুহিন এবং আসামিপক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট শহিদুল ইসলাম।

রায়ে আদালত আরও নির্দেশ দেন, দণ্ডপ্রাপ্ত হাউস আলীর সম্পদ বিক্রি করে জরিমানার অর্থ আদালতে জমা দিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন জেলা ম্যাজিস্ট্রেট। আদালতে অর্থ জমা হওয়ার পর তা নিহতের বৈধ উত্তরাধিকারীদের ক্ষতিপূরণ হিসেবে প্রদান করা হবে।

পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/175613