বগুড়ায় ফের সক্রিয় ‘হানি ট্র্যাপ চক্র
স্টাফ রিপোর্টার : বগুড়ায় ফের সক্রিয় ‘হানি ট্র্যাপ’ চক্র। চক্রের সদস্যরা সুন্দরী নারীর প্রলোভন দিয়ে মানুষকে ফাঁদে ফেলে জিম্মি করে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। কয়েকদিন আগেও বগুড়া মহানগরের বৃন্দাবনপাড়ায় মো.আজম আলী নামে এক যুবক ও তার তিন বন্ধুকে নারীর প্রলোভন দিয়ে বাড়িতে ডেকে নিয়ে গিয়ে জিম্মি করে মোটা অংকের টাকা নিয়ে ছেড়ে দিয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশ আঁখি খাতুন (২৫) নামে এক নারীকে গ্রেফতার করে মুক্তিপণ নেয়া ৪০ হাজার টাকা উদ্ধার করেছে।
পুলিশ সূত্র জানায়, ভুক্তভোগী মো. আজম আলী (২৭) মহানগরের বৃন্দাবনপাড়ার লিটন মিয়া ওরফে রফিকুল ইসলাম ও তার স্ত্রীর আঁখি খাতুনের সাথে বেশ কিছুদিন আগে মোবাইল ফোনে পরিচয় হয়। এই পরিচয়ের সূত্র ধরে তাদের সাথে তার সখ্যতা গড়ে ওঠে। এই সম্পর্কের এক পর্যায়ে গত ২ জুলাই বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬ টার দিকে আজম আলী তার তিন বন্ধুকে নিয়ে আঁখি খাতুনের স্বামী লিটন মিয়া ওরফে রফিকুল ইসলামের সাথে দেখা করার জন্য বৃন্দাবনপাড়ায় তার ভাড়া বাড়িতে যান। কিন্তু তারা জানেননা যে,লিটন মিয়া ও তার স্ত্রী আঁখি খাতুনও হ্যানিট্রাপ চক্রের সদস্য।
ওই বাড়িতে যাওয়ার পর বাড়ির ভাড়াটিয়া লাকি বেগমের একটি কক্ষে আজম ও তার তিনবন্ধুকে আটকে রেখে দেশীয় ধারালো অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে এক লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবী করে ওই আসামিরা। এসময় তারা টাকা দিতে অস্বীকার করলে তারা তাদেরকে বেদম মারপিট করে আহত করে।
এই টাকা না দিলে তারা তাদেরকে ছেড়ে দিবে না বলেও হুমকি দেয়। এসময় আজম ও তার বন্ধুরা নিরুপায় হয়ে যান। এরপর আটক আজম তার মোবাইল নম্বরে তার বাড়ীর লোকজনের সাথে মোবাইল ফোনে কথা বলে তার বিকাশ নম্বরে (০১৭৩৭-৫২৫২২৩) পঞ্চাশ হাজার টাকা নেন।
এরপর তার বিকাশ হতে অপহরণকারীরা বিকাশ (০১৭৬৫৬২৩৯৯৩) ৯ হাজার ৯৯০ টাকা, আরো এক বিকাশ (০১৩৩৮৮৪৬১১০) নম্বরে ৩০ হাজার টাকাসহ সর্বমোট ৩৯ হাজার ৯৯০ টাকা অপহরণকারীরা ক্যাশ আউট করে নেয়। এছাড়া তিনিসহ তার তিন বন্ধুর কাছে থাকা আরো ১০ হাজার টাকাও হাতিয়ে নেয়া হয়।
এই টাকা নিয়ে পরের দিন সকালের দিকে তাদেরকে ছেড়ে দেয়া হয়। অপহরণকারীদের কাছ থেকে মুক্তি পেয়ে তারা বিষয়টি সদর থানায় জানালে পুলিশ এসে আসামি আঁখি খাতুনকে গ্রেফতার করে। সেইসাথে মুক্তিপণের ৪০ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়।
বগুড়া সদর থানার ওসি মো.ইব্রাহীম আলী জানান, এঘটনায় ৩জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়েছে। ১ নম্বর আসামি আঁখি খাতুনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মামলার পলাতক আসামি আঁখির স্বামী সদরের সাত শিমুলিয়া গ্রামের লিটন মিয়া ওরফে রফিকুল ইসলাম ও মহানগরের মালগ্রামের বাবুর স্ত্রী লাকি বেগম (৩২)কে গ্রেফতারে অভিযান চলমান আছে।
ওসি আরো বলেন, এঘটনায় জড়িত আসামিরা ‘হানিট্র্যাপ চক্রের সদস্য। বগুড়াতেও এই চক্র সক্রিয়। তবে এই চক্রের সদস্যদের গ্রেফতারে কাজ করছে পুলিশ। ডিবির ওসি মো. ইকবাল বাহার বলেন, ডিবি বগুড়ার সাইবার ইউনিট কাজ করছে এ সব অপরাধ নিয়ে। প্রায়ই এ ধরণের অভিযোগ আসছে সাইবার ইউনিটে। ডিবির হাতে ধরা পড়ছে হানিট্রাপে জড়িত অপরাধীরা। এ ধরনের অপরাধের সঙ্গে জড়িত বেশ কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
তিনি বলেন, হোয়াটসঅ্যাপে কোন অপরিচিত কোন নারী যদি ভিডিও কল দেয় তা ধরবেন না। কল ধরলেই বিপদে পড়বেন। এটি স্ক্রিনশট দিয়ে রেখে আপনারকে ভয় দেখিয়ে প্রতারণা করে অর্থ হাতিয়ে নেবে। তাই সাবধান হতে হবে নিজ থেকেই।
তিনি আরও বলেন,প্রতারক চক্রের ওই নারীরা ফেসবুকে নিজের আবেদনময়ী ছবি ও টিকটকে ভিডিও পোস্ট করবে। উচ্চবিত্তদের টার্গেট করে ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠিয়ে ফেলবে প্রেমের জালে। পরে ঘনিষ্ঠ মুহূর্তের ভিডিও, অডিও ও ভিডিওতে হওয়া কথোপকথন রেকর্ড করে ব্লাকমেইল করে হাতিয়ে নিবে মোটা অঙ্কের টাকা। এ কারনে এসব থেকে সাবধান থাকতে হবে।
তিনি বলেন নিজে যদি ধরা না দেন কেউ আপনাকে বিপদে ফেলতে পারবে না। তাই এই সব নারী থেকে নিজে দূরে থাকতে হবে। একাধিক পুলিশ কর্মকর্তা বলেন,হানিট্র্যাপের মতো ঘটনা ঘটলে ভয় না পেয়ে পুলিশের সাইবার ইউনিটের সহযোগিতা নিতে হবে। পাশাপাশি অপরিচিতদের সঙ্গে একান্ত আলাপ বা ভিডিও কল করা যাবে না।
অপরিচিত আইডি থেকে কোনো এসএমএস বা মেসেজ আসলে তার সঙ্গে বন্ধুত্ব করার দরকার নেই। বন্ধুত্ব করলেও সেক্ষেত্রে সাবধানে কথা বলতে হবে। কারও প্রতি বিশ্বাস করে গোপন চ্যাট বা ভিডিও কলে কথা বলা যুক্তিযুক্ত নয়।
পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/175400