বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে জাহাজ রিসাইক্লিং করা হচ্ছে: বাণিজ্যমন্ত্রী
বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবুল মুক্তাদির বলেছেন, এখন বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে জাহাজ রিসাইক্লিং করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক কমপ্লায়েন্স ও পরিবেশগত মানদণ্ড অনুসরণ করা হচ্ছে। এটি দেশের জন্য গর্বের বিষয়। সরকারের লক্ষ্য দেশের সব শিপ রিসাইক্লিং ইয়ার্ডকে পর্যায়ক্রমে গ্রিন সার্টিফিকেশনের আওতায় আনা। যাতে বৈশ্বিক বাজারে বাংলাদেশের গ্রহণযোগ্যতা আরো বৃদ্ধি পায়।
আজ সোমবার (৬জুলাই) সকাল ১০টায় চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে পিএইচপি শিপ ব্রেকিং অ্যান্ড রিসাইক্লিং ইয়ার্ড পরিদর্শন শেষে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।
পরে তিনি বাংলাদেশ শিপ ব্রেকার্স অ্যান্ড রিসাইক্লার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিএসবিআরএ) নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে মিলিত হয়ে শিল্পের বিভিন্ন সমস্যা, সম্ভাবনা এবং উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করেন।
মন্ত্রী বলেন, একসময় পরিবেশদূষণ, শ্রমিক নিরাপত্তাহীনতা এবং অস্বাস্থ্যকর কর্মপরিবেশের কারণে বাংলাদেশের জাহাজভাঙা শিল্প আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছিল। কিন্তু গত কয়েক বছরে এ শিল্পে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। আধুনিক প্রযুক্তি, উন্নত নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং আন্তর্জাতিক পরিবেশগত মানদণ্ড অনুসরণের ফলে দেশের কয়েকটি শিপ রিসাইক্লিং ইয়ার্ড ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জন করেছে।
খন্দকার আবুল মুক্তাদির বলেন, কয়েক বছর আগেও বিশ্বের রিসাইক্লিংয়ের জন্য বিক্রিত প্রায় ৪৫ শতাংশ জাহাজ বাংলাদেশে ভাঙা হতো। সে সময় বৈশ্বিক শিপ রিসাইক্লিং শিল্পে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল শীর্ষে। তবে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা, পরিবেশগত বাধ্যবাধকতা এবং বিভিন্ন নীতিগত চ্যালেঞ্জের কারণে সেই অবস্থান কিছুটা দুর্বল হয়েছে। সরকার এখন শিল্পটিকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করে আবারো শীর্ষস্থান পুনরুদ্ধারে কাজ করছে।
তিনি আরো জানান, আন্তর্জাতিক শিপ রিসাইক্লিং শিল্পের দুটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি—হংকং কনভেনশন ও বাসেল কনভেনশন—সম্পর্কে বাংলাদেশের নীতিগত অবস্থান পর্যালোচনা করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ ও জাতীয় স্বার্থ সংরক্ষণের মধ্যে ভারসাম্য রেখে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
এসময় বাংলাদেশ শিপ রিসাইক্লিং বোর্ডের মহাপরিচালক এ কে এম শফিউল আলম তালুকদার, বাংলাদেশ শিপ ব্রেকার্স অ্যান্ড রিসাইক্লার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোহাম্মদ মহসিন চৌধুরী, সহসভাপতি নুর উদ্দিন রুবেলসহ বিভিন্ন সরকারি সংস্থা ও শিল্পখাতের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/175214