বগুড়ার সারিয়াকান্দিতে জমি নিয়ে সংঘর্ষে নিহতের ঘটনায় ৪৫ জনকে আসামি করে মামলা
সারিয়াকান্দি (বগুড়া) প্রতিনিধি: সারিয়াকান্দিতে জমি নিয়ে সংঘর্ষে নিহত লিটন সাকিদার (৩৫) হত্যার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগ এনে ৪৫ জনকে আসামি করে থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। ৪৫ জনের মধ্যে ৩২ জনকে নামীয় আসামি করে লিটনের ভাই রওশন জামিল রিপন (৩১) বাদী হয়ে গত শুক্রবার রাতে মামলাটি করেছেন।
মামলার ভিত্তিতে ৭ জনকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছে পুলিশ। গতকাল শনিবার বিকাল ৫ টার দিকে লিটন সাকিদারের দাফন সম্পন্ন করা হয়েছে। সারিয়াকান্দি থানা সূত্রে জানা গেছে, গত শুক্রবার সকালে জমি নিয়ে সংঘর্ষে নিহত লিটন সাকিদার হত্যার সাথে জড়িত থাকার অপরাধে ৪৫ জনের নামে থানায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলায় ১৩ জনকে অজ্ঞাত এবং ৩২ জনকে নামীয় আসামি করা হয়েছে।
তারা হলো, সারিয়াকান্দি ফুলবাড়ি ইউনিয়নের মাঝবাড়ী গ্রামের এবং গাবতলি উপজেলার বটিয়াভাঙ্গা গ্রামের জাহিদ হাসান (৩১), আমিরুল ইসলাম পিন্টু (৪৩), আতাউর রহমান আরিফ প্রামানিক (৪২), মুকুল মিয়া (৪২), সুমন মিয়া (৪২), আতিকুর রহমান লাজু প্রামানিক (৩৯), জিতু মিয়া (২৬), আব্দুল কুদ্দুস প্রামানিক (৬২), খাজা নাজিমুদ্দিন (৬৫), আব্দুর রাজ্জাক প্রামানিক (৫৮), নাহিদ হাসান তন্ময় (৩৪), আব্দুল হান্নান প্রামানিক (৫২), আব্দুল মান্নান প্রামাণিক (৫৪), লিয়াকত আলী (৫৮), বকুল মিয়া (৪২), হৃদয় মিয়া (২৩), রানা মিয়া (৩৪), সাইফুল ইসলাম প্রামানিক (৪৫), সবুজ মিয়া (২৮), জাকির প্রামানিক (৪৭), আব্দুল করিম প্রামানিক (৪৩), তাজুল ইসলাম (৩৯), জাহাঙ্গীর আলম (৬৫), শাজাহান প্রামানিক (৬৫), জলিল প্রামানিক (৫৩), সাধন প্রামানিক (৪১), তামজিদ আলম (২১), তাহেরুল ইসলাম (৪৭), সোহেল রানা (৩২), শাহীনূর রহমান শাহীন (৪৬), ওসমান মেম্বার (৭০) এবং ওয়েজ কুরুনি (৫১)।
মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে, ফুলবাড়ি মাঝবাড়ী মধ্যপাড়া গ্রামের ৬ বিঘা জমি ডিক্রিপ্রাপ্ত হয়ে মইফুল সাকিদার গংরা ভোগদখল করে আসছেন। এমতাবস্থায় জাহিদ হাসান গংরা উক্ত জমি নিজেদের দখলে নেয়ার চেষ্টা করে। গত শুক্রবার সকাল ৯ টার দিকে জাহিদ হাসানের নেতৃত্বে প্রায় ৪০ থেকে ৪৫ জন উক্ত জমিতে হালচাষ করতে আসে।
পরে মইফুল সাকিদারের লোকজন বাঁধা দিতে গেলে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। সংঘর্ষে ঘটনাস্থলে উভয় পক্ষের ৯ জন আহত হয়। পরে এলাকাবাসী আহতদের সারিয়াকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপাতালে নিয়ে যায়।
আহতদের মধ্যে লিটন সাকিদারসহ ৩ জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় লিটন সাকিদার মারা যান। গতকাল শনিবার বিকাল ৫ টার দিকে লিটন সাকিদারের দাফন সম্পন্ন করা হয়েছে।
এ ঘটনায় সারিয়াকান্দি থানার পুলিশ মামলার ৭ জন আসামিকে গ্রেফতার করেছে। তারা হলো, আমিরুল ইসলাম পিন্টু, আতাউর রহমান আরিফ প্রামানিক, মুকুল মিয়া, সুমন মিয়া, আতিকুর রহমান নাজু প্রামাণিক, তাহেরুল ইসলাম এবং মামুন মিয়া।
হত্যার শিকার লিটন সাকিদারের স্ত্রী সনিয়া বেগম বলেন, আমার স্বামীকে যখন অন্যায়ভাবে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে তখন আমি অন্তঃসত্ত্বা ছিলাম। গতকাল শনিবার আমার স্বামীর দাফন হয়েছে। আজ রোববার (৫ জুলাই) বগুড়া নাজমা ক্লিনিকে আমার মেয়ে সন্তানের জন্ম হয়েছে। জন্মের একদিন আগে আমার মেয়ে বাবা হারা হয়েছে। মাত্র দুইদিনের জন্য আমার স্বামীও তার মেয়ের মুখ দেখে যেতে পারলো না।
এ হৃদয়বিদারক ট্রাজেডি আমি কিভাবে মেনে নেব। আমার স্বামীর হত্যাকারীদের উপযুক্ত বিচার আমি যেনো অতি দ্রুত দেখতে পাই। সারিয়াকান্দি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আ ফ ম আসাদুজ্জামান বলেন, জমাজমি সংক্রান্ত বিবাদে হত্যার শিকার লিটন সাকিদারের মরদেহ ময়নাতদন্তের পর তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ বিষয়ে থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলার ভিত্তিতে ৭ জন আসামিকে আমরা গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছি।
পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/175120