বগুড়া মহানগরের ফুটপাত অবৈধ দখল মুক্ত করতে কঠোর সিটি প্রশাসন

বগুড়া মহানগরের ফুটপাত অবৈধ দখল মুক্ত করতে কঠোর সিটি প্রশাসন

স্টাফ রিপোর্টার : বগুড়া মহানগরের ফুটপাত ও সড়ক অবৈধ দখল মুক্ত করতে কঠোর অবস্থান নিয়েছে সিটি কর্পোরেশন। অবৈধ দখলদারদের সতর্ক করে গত কয়েক দিনের মাইকিংয়ের পর আজ রোববার (৫ জুলাই) কোমর বেঁধে মাঠে নামে সিটি প্রশাসন।

নিজেদের নিয়োগকৃত স্বেচ্ছাসেবক, নগর পুলিশ ও অন্যান্য নিজস্ব জনবল এবং ট্রাক নিয়ে বিকেলে অবৈধ দখল উচ্ছেদ অভিযান শুরু করেন মহানগরের সচিব পপি খাতুন। যদিও কয়েক দিনের মাইকিংয়ের পর এদিন বেশিরভাগ ভ্রাম্যমাণ দোকানিদের আনাগোনা খুব একটা চোখে পড়েনি।

মহানগরের কোর্ট চত্বরের সামনে থেকে বিকেল সাড়ে ৫টায় শুরু হয় এই অভিযান। সেখান থেকে সার্কিট হাউজের সামনের সড়ক এবং জিলা স্কুলের সামনের ফুটপাতে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়।  এরপর উচ্ছেদ অভিযান চলে মহানগরের প্রাণকেন্দ্র সাতমাথায়। সাতমাথা থেকে সচিব পপি খাতুনের নেতৃত্বে অভিযানকারী দলটি স্টেশন রোডের দক্ষিণ পাশের ফুটপাত ধরে বগুড়া রেলওয়ে মার্কেটের সামনে থেকে উত্তর পাশের ফুটপাতের অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করেন।

এরপর তিনি মহানগরের সপ্তপদী মার্কেটে ভেতরে প্রতিটি দোকানের সামনে বসা অস্থায়ী দোকানীদের মালামাল জব্দের নির্দেশ দেন এবং প্রত্যেক ব্যবসায়ীকে সর্তক করেন। সেখানে অবস্থানের পর টেম্পল রোড, গালাপট্টিতে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ ও মালামাল জব্দের পর, ফতেহ আলী বাজার মোড় এবং ফতেহ আলী ব্রিজের ওপর উচ্ছেদ অভিযান শুরু করেন। অভিযানের অংশ হিসেবে ব্রিজটির পূর্বপাশ পর্যন্ত তিনি দখল মুক্ত করতে বিভিন্ন ধরনের মালামাল জব্দ করেন।

এরপর চাঁদনী বাজার মোড়সহ আশেপাশের ফুটপাত দখল মুক্ত করেন। এসময় ফুটপাত দখলকারী এবং মার্কেটের সামনের রাস্তা ও ফুটপাত আবার দখল হলে বা টাকার বিনিময়ে অবৈধভাবে ভাড়া দেওয়া হলে মার্কেটের ব্যবসায়ীদের লাইসেন্স বাতিলসহ জরিমানার হুঁশিয়ারি দেন। সেখান থেকে কাজী নজরুল ইসলাম সড়কসংলগ্ন ব্যবসায়ীদের ফুটপাত দখল না করতে এবং জনসাধারণের চলাচলের সকল বাধা অপসারণের নির্দেশ দেন।

তবে অন্যান্য দিনের মতো জনগুরুত্বপূর্ণ এই সড়কে কোন ভ্রাম্যমাণ দোকানীদের নজরে পড়েনি। সন্ধ্যার পর বগুড়া পোস্ট অফিসের পিছনের সড়কে অভিযান চালিয়ে বেশকিছু পণ্য জব্দ করা হয়। এদিকে গত কয়েক দিনের মাইকিংয়ের পর গতকাল শহরের ফুটপাত ছিল তুলনামূলক ফাঁকা।

যদিও বেশ কয়েকটি জায়গায় ভ্রাম্যমাণ দোকানীদের ব্যবসার পসরা সাজিয়ে বসে থাকতে দেখা যায়। তবে উচ্ছেদ অভিযানের খবর পেয়ে অনেক দোকানী মার্কেটের অলি-গলিতে লুকিয়ে পড়েন।

অনেক তাড়াহুড়ো করে উঠতে গিয়ে তাদের পণ্য ফেলেই চলে যান। অপরদিকে সিটি প্রশাসনের এমন কঠোর উচ্ছেদ অভিযানে সাধারণ মানুষের মাঝে স্বস্তি ফিরে আসে। তারা এই অভিযানের ভূয়সী প্রশংসা করে, এমন অভিযান অব্যাহত রাখার আহবান জানান।

অভিযানের ব্যাপারে জানতে চাইলে বগুড়া সিটি কর্পোরেশনের প্রথম সচিব পপি খাতুন বলেন, সিটি প্রশাসক এম আর ইসলাম স্বাধীনের অগ্রাধিকার কাজের মধ্যে অন্যতম যানজটমুক্ত ও ফুটপাতের অবৈধ দখল মুক্ত মহানগর। তার ধারাবাহিকতায় ৫০ জন স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগ করা হয়েছে। শহরকে যানজটমুক্ত ও অবৈধ দখল মুক্ত করতে এসব জনবল কাজ করবে।

তিনি বলেন, মহানগরের ফুটপাত থেকে অবৈধ দখলদারদের দখল ছেড়ে দিতে গত কয়েক দিন ধরেই মাইকিং করে ৫ জুলাই পর্যন্ত সময় বেঁধে দেওয়া হয়। এরপরেও যারা দখল ছাড়ছে না তাদের বিরুদ্ধে উচ্ছেদ অভিযান শুরু হয়েছে। এই অভিযান শুধু এক-দুই দিনের জন্য না, দুই-তিন মাস ধরে চালানো হবে। তিনি আরও বলেন, যারা কথা শুনছেন না তাদের বিরুদ্ধে সিটি প্রশাসন কঠোর অবস্থান গ্রহণ করবে।

মালামাল জব্দসহ আর্থিক জরিমানা এবং যেসব মার্কেটের ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে ফুটপাত ও রাস্তা অবৈধভাবে ভাড়া দেওয়ার অভিযোগ ও প্রমাণ পাওয়া যাবে তাদের লাইসেন্স বাতিল করা হবে। সিটি কর্পোরেশনের এই সচিব আরও বলেন, কাউকে কোনভাবেই ফুটপাত ও সড়ক দখল করতে দেওয়া হবে না। ফুটপাত দখল মুক্ত করার পর যানজট নিরেসনেও পরিকল্পনা অনুযায়ী কঠোর পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে সিটি প্রশাসন।

ভ্রাম্যমাণ দোকানীদের পুনর্বাসনের ব্যাপারে জানতে চাইলে এই কর্মকর্তা বলেন, ফুটপাত দখলকারীদের পুনর্বাসনের পরিকল্পনা সিটি প্রশাসনের আছে। তবে এটি একটি দীর্ঘমেয়াদী ব্যাপার। এসব মানুষের জন্য সঠিক পরিকল্পনা প্রণয়ন করে তাদের পর্যায়ক্রমে পুনর্বসান করা হবে।

পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/175107