সীতাকুণ্ডে শ্বাসনালী কেটে শিশু ইরা মনি হত্যা মামলার রায় মঙ্গলবার

সীতাকুণ্ডে শ্বাসনালী কেটে শিশু ইরা মনি হত্যা মামলার রায় মঙ্গলবার

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে আট বছর বয়সী শিশু ইরা মনিকে শ্বাসনালী কেটে হত্যার আলোচিত মামলার রায় ঘোষণা করা হবে আগামী মঙ্গলবার (৬ জুলাই)। ঘটনার মাত্র চার মাসের মাথায় মামলাটি রায়ের পর্যায়ে পৌঁছেছে।

গত বৃহস্পতিবার চট্টগ্রামের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৪–এর বিচারক জান্নাতুল ফেরদৌস যুক্তিতর্ক শুনানি শেষে রায় ঘোষণার জন্য আগামী মঙ্গলবার দিন ধার্য করেন।

ট্রাইব্যুনালের বেঞ্চ সহকারী আব্বাস হোসেন বলেন, যুক্তিতর্ক শেষে আদালত মামলার রায় ঘোষণার জন্য মঙ্গলবার দিন নির্ধারণ করেছেন।

মামলার একমাত্র আসামি ৪৫ বছর বয়সী বাবু শেখ গত ৩০ জুন আদালতে সাফাই সাক্ষ্য দেন। এর আগে মাত্র ছয় কার্যদিবসে ১৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হয়। অভিযোগ গঠনের পর মাত্র ১০ কার্যদিবসেই মামলাটি রায়ের পর্যায়ে এসেছে।

নিহত জান্নাতুল নেসা ওরফে ইরা মনির বাড়ি সীতাকুণ্ড উপজেলার ছোট কুমিরা মাস্টারপাড়ায়। তার বাবা মনিরুল ইসলাম পেশায় একজন টমটমচালক। ইরা স্থানীয় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।

ঘটনার পর গত ৩ মার্চ কুমিরা এলাকা থেকে বাবু শেখকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তার বাড়ি গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার মধ্যম পুলুপাড়ায়। তিনি সীতাকুণ্ডে ইরা মনির পরিবারের পাশের একটি ঘরে ভাড়া থাকতেন।

ঘটনার পর সংবাদ সম্মেলনে চট্টগ্রামের তৎকালীন পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নাজির আহমেদ খান জানান, ইরা মনির বাবা মনিরুল ইসলামের সঙ্গে বিরোধের জেরে বাবু শেখ শিশুটিকে হত্যার পরিকল্পনা করেন। সেই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে তাকে পাহাড়ে নিয়ে গিয়ে প্রথমে ধর্ষণের চেষ্টা এবং পরে গলা কেটে হত্যার চেষ্টা চালান।

তদন্তে জানা যায়, গত ১ মার্চ সকালে চকলেট কিনে দেওয়া ও ঘুরতে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে ইরা মনিকে বাড়ি থেকে বের করে আনেন বাবু শেখ। পরে বাসে করে কুমিরা থেকে সীতাকুণ্ডে গিয়ে বোটানিক্যাল গার্ডেনসংলগ্ন পাহাড়ি এলাকায় নিয়ে যান।

সেদিন দুপুরে সড়ক সংস্কারকাজে নিয়োজিত শ্রমিকরা পাহাড়ে গলাকাটা অবস্থায় ইরা মনিকে দেখতে পান। জঙ্গল থেকে হেঁটে শ্রমিকদের কাছে পৌঁছায় শিশুটি। পরে তাকে প্রথমে সীতাকুণ্ড উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং পরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে দুই দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর ৩ মার্চ তার মৃত্যু হয়।

পুলিশ জানায়, জিজ্ঞাসাবাদে বাবু শেখ স্বীকার করেন, ধর্ষণের চেষ্টা ব্যর্থ হলে এবং শিশুটি বিষয়টি জানিয়ে দেওয়ার ভয় দেখালে তিনি চাকু দিয়ে তার গলা কেটে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান।

এ ঘটনায় ইরা মনির মা মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্ত শেষে গত ১১ জুন আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয় পুলিশ। ১৮ জুন অভিযোগ গঠন করা হয় এবং ২১ জুন থেকে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়।

পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/175105