সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ঝুঁকিপূর্ণ ভবন বেদখল হয়ে গেছে, ব্যাহত শিক্ষা কার্যক্রম

সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ঝুঁকিপূর্ণ ভবন বেদখল হয়ে গেছে, ব্যাহত শিক্ষা কার্যক্রম

উল্লাপাড়া (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি: সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার মোহনপুর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভূমি বেদখল হয়ে গেছে। স্কুল ভবনটিও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। দখলকৃত ভূমি উদ্ধারের উদ্যোগ নেই। নেই ভবন সংস্কারের ব্যবস্থা।

এমন পরিস্থিতি ও পরিবেশে চলছে শিক্ষা কার্যক্রম। প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে ক্লাস করছে শিশুরা। বিদ্যালয়ের ৪৪ শতাংশ জমির মধ্যে প্রায় ৩০শতাংশই দখল করে সেখানে পুকুর খনন করেছে স্থানীয় প্রভাবশালীরা এমনটাই অভিযোগ উঠেছে। ফলে বন্ধ হয়ে গেছে শিশুদের খেলাধুলা ও প্রাত্যহিক সমাবেশে জাতীয় সংগীত ডিসপ্লে কার্যক্রম।

জানা যায়, ১৯১৯ সালে ওই বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত। বিদ্যালয়ের দু’টি দ্বিতল ভবনের মধ্যে ১৯৯২ সালে নির্মিত একটি ভবনের ছাদের পলেস্তারা খসে রড বেরিয়ে বিভিন্ন স্থানে বড় বড় ফাটল দেখা দিয়েছে। অপর ভবনের নিচের অংশে পুকুরের দিকে মাটি সরে যাওয়ায় পিলার ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ ও ব্যবহারের অনুপযোগির অভিযোগ রয়েছে।

শিক্ষার্থীরা জানায়, প্রায়ই শ্রেণিকক্ষে ছাদের পলেস্তারা খসে তাদের গায়ের উপর পড়ে এবং ছোটখাটো দুঘর্টনা প্রায়ই ঘটে। এতে আতঙ্কের মধ্যে তাদেরকে ক্লাস করতে হয়।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ফয়জুল আরাফাত বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের বিষয়টি একাধিকবার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। এছাড়াও বিদ্যালয়ের  বিদ্যালয়ের ৪৪ শতাংশ জমির মধ্যে প্রায় ৩০ শতাংশ জমি স্থানীয় প্রভাবশালীদের বেদখলে চলে গেছে।

জমি বেদখল হয়ে যাওয়ায় শিক্ষার্থীদের খেলাধুলা ও প্রাত্যাহিক সমাবেশ ব্যাহত হচ্ছে। দ্রুত নতুন ভবন নির্মাণ এবং বেদখল হওয়া জমি উদ্ধার না করলে ব্যাহত হবে শিক্ষার সার্বিক পরিবেশ।

অভিভাবকরা বলেন, প্রতিদিন সন্তানদের স্কুলে পাঠিয়ে উদ্বেগে থাকতে হয়। যেকোনো সময় বড় ধরণের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তাই দ্রুত ঝুঁকিপূর্ণ ভবন সংস্কার করে অথবা নতুন ভবন নির্মাণ এবং বিদ্যালয়ের বেদখল হওয়া জমি উদ্ধার করে নিরাপদ শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ রায়হানুল ইসলাম বলেন, বিদ্যালয়ের জমি দখলের বিষয়ে এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/175095