খামেনির নেতৃত্ব ইরানের সীমানা পেরিয়ে প্রতিরোধের বার্তা ছড়িয়ে দিয়েছে : পেজেশকিয়ান
আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, মুসলিম দেশগুলো যদি ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতো, তাহলে গাজা, লেবানন ও ফিলিস্তিনের মতো অঞ্চলে সংঘাত ও মানবিক সংকট এভাবে চলতে পারতো না। তিনি মুসলিম বিশ্বের ঐক্যকে রাজনৈতিক স্লোগান নয়, বরং কৌশলগত প্রয়োজন বলে উল্লেখ করেছেন। ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনা এ খবর জানিয়েছে।
শনিবার তেহরানে ‘ইমাম খামেনি; প্রতিরোধের চিরন্তন নেতা’ শীর্ষক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি দেশি-বিদেশি অতিথিদের স্বাগত জানান। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই সম্মেলন মুসলিম বিশ্বের মধ্যে ঐক্য আরও জোরদার করবে এবং সহিংসতা, সন্ত্রাসবাদ ও বৈশ্বিক আধিপত্যবাদের নীতির বিরুদ্ধে সহযোগিতা বাড়াতে সহায়ক হবে। প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির শাহাদাতকে তিনি একই সঙ্গে বেদনাদায়ক ও অনুপ্রেরণামূলক ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, আল্লাহপ্রদত্ত নেতৃত্বের পথ, আদর্শ ও বার্তা শাহাদাতের মধ্য দিয়ে শেষ হয় না; বরং তা ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে ন্যায়, সত্য ও প্রতিরোধের পথে অনুপ্রাণিত করতে থাকে।
পেজেশকিয়ান বলেন, খামেনির নেতৃত্ব ইরানের সীমানা ছাড়িয়ে ঐক্য, স্বাধীনতা, মর্যাদা ও প্রতিরোধের বার্তা ছড়িয়ে দিয়েছে। আজ বিভিন্ন জাতি ও ভিন্ন ধর্মের অনুসারীদের মধ্যেও সেই বার্তা প্রতিধ্বনিত হচ্ছে। তিনি বলেন, মুসলমানদের একজন আল্লাহ, একজন নবী ও একটি পবিত্র কিতাব। তাই সাম্প্রদায়িক বা রাজনৈতিক মতপার্থক্যকে বিভেদের কারণ হতে দেওয়া উচিত নয়। ইমাম আলী (আ.) ও মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর শিক্ষার প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, ইসলামী সমাজের ভিত্তি ভ্রাতৃত্ব ও সম্প্রীতির ওপর প্রতিষ্ঠিত এবং ইতিহাসে মুসলমানদের শক্তির প্রধান উৎস ছিল তাদের ঐক্য।
পেজেশকিয়ান আরও বলেন, ইসলামী বিভিন্ন মাজহাব ও জাতিগত বিভাজন বাইরের শক্তিগুলোকে আঞ্চলিক উত্তেজনা কাজে লাগানোর সুযোগ করে দেয়। তিনি অঞ্চলে ইসরায়েলের ‘নৃশংসতা’ এবং এতে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনেরও নিন্দা জানান। তার অভিযোগ, এ অঞ্চলে পরিকল্পিতভাবে বুদ্ধিজীবী, বিজ্ঞানী ও প্রভাবশালী ব্যক্তিদের হত্যা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে মানবাধিকার রক্ষার দাবি করা আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। ইসলামী বিশ্বের আলেম, ধর্মীয় নেতা, নীতিনির্ধারক ও বুদ্ধিজীবীদের মুসলিম দেশগুলোর পাশাপাশি অন্যান্য একেশ্বরবাদী ধর্মের অনুসারীদের মধ্যেও সংলাপ, পারস্পরিক বোঝাপড়া ও সহযোগিতা বাড়ানোর আহ্বান জানান ইরানের প্রেসিডেন্ট।
বক্তব্যের শেষে পেজেশকিয়ান ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা, ইসলামী সংহতি সুদৃঢ় করা এবং ঐক্যের মাধ্যমে আঞ্চলিক শান্তি বজায় রাখার প্রতি ইরানের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, মুসলিম দেশগুলো যদি তাদের অভিন্ন মূল্যবোধ এবং সম্মিলিত সংকল্পের চারপাশে ঐক্যবদ্ধ থাকে, তবে বাইরের কোনও শক্তিই তাদের অগ্রগতি থামাতে পারবে না।
পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/175035