ইরানের জন্য হরমুজ ‘পারমাণবিক অস্ত্রের’ মতোই শক্তিশালী হাতিয়ার : দিমিত্রি মেদভেদেভ
আন্তর্জাতিক ডেস্ক : হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের নিয়ন্ত্রণ দেশটির জন্য ‘পারমাণবিক অস্ত্রের’ মতোই এক শক্তিশালী হাতিয়ার বলে মন্তব্য করেছেন রাশিয়ার নিরাপত্তা পরিষদের ডেপুটি চেয়ারম্যান দিমিত্রি মেদভেদেভ। আনাদোলু এজেন্সির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
মেদভেদেভের মতে, এ গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে জাহাজ চলাচল নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতাই তেহরানের কৌশলগত সক্ষমতার বড় প্রমাণ। ইরান সফর শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মেদভেদেভ বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে আরও বড় সংঘাত ছড়িয়ে পড়লে তেহরান বাব এল-মান্দেব প্রণালিতেও জাহাজ চলাচল আটকে দিতে পারে। এমন পদক্ষেপ বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেল ও বাণিজ্যিক পণ্য পরিবহন পুরোপুরি স্থবির করে দিতে পারে বলে সতর্ক করেন তিনি।
রাশিয়ার সাবেক এই প্রেসিডেন্ট ও অন্যতম শীর্ষস্থানীয় নেতা বলেন, আমি আশা করি, পরিস্থিতি এত দূর গড়াবে না। তবে মধ্যপ্রাচ্যে যারা যুদ্ধ ও সংঘাত উসকে দিতে চাইছে, তাদের সবারই এ বিষয় মাথায় রাখা উচিত। সম্প্রতি ইরানের ওপর চালানো মার্কিন হামলার তীব্র সমালোচনা করেন মেদভেদেভ। কোনো রকম উসকানি ছাড়াই এ হামলা করা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, যখন দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা চলছিল, তখন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ইরান কোনো ধরনের হুমকি তৈরি করছিল না। মেদভেদেভ আরও বলেন, এ হামলা আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করেছে। ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে তৈরি হওয়া উদ্বেগ দূর করতে রাশিয়া এর আগেই একটি শান্তিপূর্ণ সমাধানের প্রস্তাব দিয়েছিল বলে তিনি দাবি করেন।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার সাম্প্রতিক সমঝোতা স্মারকের বিষয়ে মেদভেদেভ বলেন, সংঘাতের চেয়ে যেকোনো আলোচনা বা সমঝোতা সব সময়ই শ্রেয়। তবে একটি চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানো অত্যন্ত কঠিন হবে বলে তিনি সতর্ক করেন। বিশেষ করে তেহরানের ওপর থেকে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং ইরানের পুনর্গঠনে অর্থায়নের মতো বিষয়গুলোতে একমত হওয়া সহজ হবে না। মেদভেদেভ বলেন, পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার শিকার দেশগুলো যাতে তাদের ওপর আরোপ করা নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে পারে, সে জন্য এক যৌথ প্ল্যাটফর্ম তৈরির বিষয়ে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে তার আলোচনা হয়েছে। রাশিয়া শুরু থেকেই এসব নিষেধাজ্ঞাকে অবৈধ বলে আসছে।
মেদভেদেভ আরও বলেন, বেশ কয়েক বছর আগে তেহরানের পক্ষ থেকেই প্রথম এই প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। নিষেধাজ্ঞাকবলিত দেশগুলোকে নিয়ে এটি একটি আনুষ্ঠানিক চুক্তি বা সংস্থায় রূপ নিতে পারে।
পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/175024