বগুড়ার মোকামতলায় ৮২ বছর বয়সেও খাইরুনের জীবন চলে ভিক্ষা করে
মোকামতলা (বগুড়া) প্রতিনিধি : উপযুক্ত তিন ছেলে ঘরে থাকার পরও ৮২ বছর বয়সী বিধবা খাইরুন নেছা ভিক্ষা করে জীবিকা নির্বাহ করছেন। ওই বিধবার বাড়ি বগুড়ার মোকামতলা উপজেলার মোকামতলা ইউনিয়নের ছোট হরিপুর গ্রামে।
মোকামতলা বাজারে বিধবা খাইরুন নেছা এক হোটেলে একটু খাবার চাইতে গেলে দেখা হয় তার সাথে। পাশে বসিয়ে গল্প শুরু করিলে তার চোখের পানি ও কান্নাজড়িত কন্ঠে বলতে শুরু করেন, তার জীবন দুঃখের কাহিনী। স্বামী মোসলেম উদ্দিন মারা যায় প্রায় সাত বছর আগে। স্বামীর বাড়ির ভিটা ছাড়া আবাদি কোন জমি নাই। ঘরে আছেন উপযুক্ত তিন ছেলে।
তারা সবাই দিনমজুরি করে সংসার চালায়। এক মাকেই তারা খাবার দিতে চায় না। তবে হঠাৎ বাড়িতে ভালো খাবার হলে সে দিন একটু তার খাবার জোটে। জীবন বাঁচার তাগিদে হাতে লাঠির ভরে ভিক্ষা করেন তিনি। বয়স কত চলছে জানতে চাইলে বিধবা খাইরুন নেছা হাতের আঙ্গুল টিপিয়ে বলেন ৪ কুড়ি ২ বছর হবে। নিজের কোন ঘর নেই এক ছেলের ভাঙা ঘরে রাত যাপন করেন। মাঝে মাঝে তারা ঘর থেকেও বের করে দেয়। সকাল থেকে সন্ধ্যার আগ পর্যন্ত বিভিন্ন গ্রাম ও বাজারে ভিক্ষা করে যেটুকু পান তাই দিয়ে তার চলে জীবন।
উপজেলা সমাজসেবা অফিস থেকে তার নামে বিধবা কার্ড করে দেওয়া হয়েছে। এই বিধবা ভাতার কার্ডের টাকা প্রথম দুই থেকে তিন মাস নিজে হাতে পেয়েছেন। তারপর থেকে টাকা চোখে দেখেন না। তার ধারণা বিধবা ভাতার টাকা আসে হয়তো সেই টাকা তার কোন ছেলেরা ভোগ করে থাকেন। কারণ মোবাইল ফোন তার হাতে থাকে না। শরীরে বিভিন্ন রোগ বাসাও বেঁধেছে।
এই রোগাক্রান্ত শরীর নিয়ে তাকে আর ভিক্ষা করতে মন চায় না। এই বয়সে একটু অবসর নেয়ার জন্য আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করছেন। স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফাইমা আক্তার জানান, তিনি ওই বিধবার খোঁজখবর নিবেন এবং তার একটা ভালো ব্যবস্থা করে দিবেন।
পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/174981