দৃষ্টি প্রতিবন্ধীদের পাশে দাঁড়াতে চান কুড়িগ্রাম মিঠাপুকুরের হাফেজ মারুফ

দৃষ্টি প্রতিবন্ধীদের পাশে দাঁড়াতে চান কুড়িগ্রাম মিঠাপুকুরের হাফেজ মারুফ

রাজারহাট (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি: ‘সবাই পারলে আমি কেন পারবো না’, এই জেদ থেকেই সমস্ত অপবাদ-লাঞ্ছনাকে পাশ কাটিয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার এইচএসসি পরীক্ষার টেবিলে বসতে পেরেছে দৃষ্টি প্রতিবন্ধী হাফেজ মো: মারুফ উল্যাহ।

কুড়িগ্রামের রাজারহাট ফাজিল মাদ্রাসার দোতলা ভবনের শেষ প্রান্তে বসে পরীক্ষা দিচ্ছে সে। শ্রুতি লিখনে তাকে সহযোগিতা করছে তার ভাতিজি ছুম্মা আক্তার। তার এই পথচলাটা মসৃন ছিল না, ছিল কণ্টকময়। চারদিক থেকে বাঁধা, অর্থনৈতিক টানাপোড়ন আর প্রতিকূল পরিবেশ তাকে আটকাতে পারেনি। চোখে না দেখলেও মনের চোখ দিয়ে জ্ঞান আহরণে যেন বদ্ধপরিকর দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী হাফেজ মো. মারুফ উল্যাহ।

মারুফ জানায়, চোখে না দেখার কারণে আমাকে বাড়ির পাশের স্কুল থেকে বের করে দেয়া হয়। শিক্ষকরা মুখের উপর বলেছেন, একে দিয়ে পড়াশুনা হবে না। চোখে দেখো না গ্রামার শিখে লাভ কি! আমার পড়াশুনাটা সহকর্মীরা যেন মেনে নিচ্ছিল না। শিক্ষকরাও বিরক্ত হতেন। আমি পড়তে গিয়ে অনেক বাজে ট্রলের শিকার হয়েছি। তারপরও আমি থেমে থাকিনি।

আমার কাছে পরীক্ষাটা মূল উদ্দেশ্য ছিল না, মূল উদ্দেশ্য ছিল জ্ঞান অর্জন করা। এভাইে নিজের জীবনের কন্টকময় দিকগুলোর কথা তুলে ধরলেন পরীক্ষার্থী হাফেজ মো. মারুফ উল্যাহ। রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের বুজরুক নূরপুর গ্রামের সন্তান হাফজ মারুফ উল্যাহ। সে আলিম পরীক্ষার্থী। পরিবারে দু’ভাইয়ের মধ্যে সে ছোট।

বড় ভাই সেনাবাহিনীতে চাকরি করে। বাবা গোলজার হোসেন মারা গেছেন ২০১৯ সালে। মা শাহজাদি বেগমের উৎসাহে ও প্রতিবেশীদের সহাযোগিতায় আজ সে এতদূর আসতে পেরেছে। মারুফ নিজের অভিজ্ঞতার আলোকে দৃষ্টি প্রতিবন্ধীদের উদ্দেশ্যে বলেন, একটা বিষয় মাথায় রাখতে হবে, খারাপ সময় কখনো না কখনো চলে যাবে। তোমাকে কেউ দেখতে পারে না, এজন্য পড়াশুনা করে কি হবে? এসব চিন্তা করা যাবে না। হয়তো বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে প্রতিবন্ধীরা ভালো কিছু করেছে বলে আমার জানা নেই। তবে পড়াশুনা করে যদি কিছুই না হয়, সন্তানদেরকে মানুষ করতে পারবে।

সড়কে বা রেললাইনে ভিক্ষাবৃত্তি না করে পরিশ্রমের মাধ্যমে একটা স্টাবলিস্ট জীবন যাপন করতে পারবে। নিজের মতামতটা দিতে পারবে। কুড়িগ্রাম আলিয়া কামিল মাদ্রাসার মোফাচ্ছির মাজিদুর রহমান জানান, প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও মারুফ সুদূর রংপুর থেকে কুড়িগ্রাম আলিয়া কামিল মাদ্রাসায় ভর্তি হয়েছে।

ছাত্র হিসেবে সে আমাদের মন জয় করেছে। তার জানার আগ্রহ আমাদের অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে। সে একজন হাফেজ। ক্লাসে তার রেসপন্স অনেক ভালো। সে উচ্চ শিক্ষা গ্রহণ করে নিজের পায়ে দাঁড়াক এই কামনা করছি।

পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/174852