লেবাননে এক লাখ শিশুর শিক্ষাজীবন ঝুঁকিতে: ইউনিসেফ
আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ইসরায়েলি হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত স্কুলগুলোর অবকাঠামো মেরামত না করা হলে লেবাননের অন্তত এক লাখ শিশু স্কুলে শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হতে পারে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের শিশুবিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফ। দেশটির শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দেশব্যাপী এক জরিপে এ তথ্য উঠে এসেছ।
এত বলা হয়েছে, ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধের সময় দেশটির ৩৪০টি সরকারি, বেসরকারি ও কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে ১৭টি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর মধ্যে রয়েছে দক্ষিণ লেবাননের নাবাতিয়েহ, বেকা উপত্যকা, বালবেক-হারমেল, বৈরুত এবং মাউন্ট লেবানন।
লেবাননে ইউনিসেফের প্রতিনিধি মার্কোলুইজি কর্সি বলেন, স্কুল মানেই কেবল ভবন নয়। এগুলো এমন জায়গা যেখানে শিশুরা পড়াশোনা করে, নিরাপদ বোধ করে এবং সংকট কাটিয়ে উঠতে শুরু করে। তিনি বলেন, সেপ্টেম্বরে নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরুর আগেই মেরামতের জন্য ‘জরুরি বিনিয়োগ প্রয়োজন’।
জাতিসংঘের এই সংস্থাটি সতর্ক করে বলেছে, শিক্ষাকার্যক্রমে দীর্ঘস্থায়ী কোনো ব্যাঘাত শিশুদের পড়াশোনা, মানসিক স্বাস্থ্য এবং ভবিষ্যতের সম্ভাবনার ওপর দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতি বয়ে আনতে পারে। একই সঙ্গে শিক্ষার সুযোগের অভাব তাদের বাল্যবিবাহ ও শিশুশ্রমের মুখে পড়ার আশঙ্কাও বাড়িয়ে দেয়।
কর্সি বলেন, একটি শিশু যত দিন স্কুলের বাইরে থাকে, তার শেখার ক্ষতি হওয়া এবং ঝরে পড়ার ঝুঁকি ততই বাড়ে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার জন্য শিক্ষার অপেক্ষা করা চলে না; বরং শিক্ষা নিজেই সেই পুনরুদ্ধারের প্রক্রিয়ার একটি অপরিহার্য অংশ। স্কুল পুনর্বাসনের অর্থ কেবল দেয়াল বা শ্রেণিকক্ষ মেরামত করা নয়; এর মাধ্যমে আশা পুনরুদ্ধার ও সুরক্ষা নিশ্চিত করা হয় এবং প্রতিটি শিশুকে শেখার ও নিজেদের ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার সুযোগ করে দেওয়া হয়।
লেবাননজুড়ে স্কুল পুনর্বাসন, শিক্ষার ধারাবাহিকতা বজায় রাখা এবং শিক্ষা ব্যবস্থার পুনরুদ্ধারে সহায়তা করতে ইউনিসেফ শিক্ষা ও উচ্চশিক্ষা মন্ত্রণালয়, দাতা সংস্থা এবং অংশীদারদের সাথে যৌথভাবে কাজ করছে। যদিও টিআরইএফ-এর দাতারা বছরের পর বছর ধরে শিক্ষা খাতে উল্লেখযোগ্য সহায়তা দিয়ে আসছেন। এরপরও ক্ষয়ক্ষতির ব্যাপকতা বিবেচনায় নিয়ে পরবর্তী শিক্ষাবর্ষ শুরুর আগেই নিরাপদ শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনার জন্য বিনিয়োগ আরও অনেক বাড়ানো প্রয়োজন বলে জানিয়েছে ইউনিসেফ।
সূত্র: আলজাজিরা।
পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/174806