১ লাখের বেশি শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হবে: শিক্ষামন্ত্রী
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন ধরে শূন্য থাকা ৩৬ হাজার ২৩৫টি প্রধান শিক্ষকের পদে পদোন্নতির প্রক্রিয়া শুরু করেছে সরকার। একই সঙ্গে এসব পদে পদোন্নতি সম্পন্ন হলে সৃষ্ট শূন্যপদসহ মোট ৩৮ হাজার ৪৪৩ জন সহকারী শিক্ষক নিয়োগের প্রস্তুতি চলছে। পাশাপাশি বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও প্রায় ৭০ হাজার শিক্ষক-প্রভাষক নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
বৃহস্পতিবার রাজধানীর ইন্টার কন্টিনেন্টাল হোটেলে ইউনেসকো আয়োজিত ‘গ্লোবাল পার্টনারশিপ এডুকেশন সিস্টেম ট্রান্সফরমেশন গ্র্যান্ট অ্যান্ড মাল্টিপ্লায়ার গ্র্যান্ট ফর বাংলাদেশ’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে এবং পরে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব তথ্য জানান।
মন্ত্রী বলেন, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শূন্য থাকা ৩৬ হাজার ২৩৫টি প্রধান শিক্ষকের পদে পদোন্নতির প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। আপিল বিভাগের রায় পাওয়ার পরই তিনি পিএসসি চেয়ারম্যানের সঙ্গে কথা বলেছেন। পিএসসি দ্রুত চাহিদাপত্র পাঠাতে বলেছে এবং অল্প সময়ের মধ্যেই তা পাঠানো হবে, যাতে বিশেষ ব্যবস্থায় নিয়োগ কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া যায়।
তিনি জানান, প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতি সম্পন্ন হলে নতুন করে ৩৬ হাজার ২৩৫টি সহকারী শিক্ষক পদ শূন্য হবে। আগে থেকেই শূন্য থাকা পদসহ মোট ৩৮ হাজার ৪৪৩টি সহকারী শিক্ষক পদে দ্রুত নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হবে। এছাড়া বিভিন্ন বেসরকারি এমপিওভুক্ত স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রায় ৭০ হাজার শিক্ষক-প্রভাষক নিয়োগ দেওয়া হবে।
বর্তমানে দেশে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা ৬৫ হাজারের বেশি। বিদ্যমান নিয়োগবিধি অনুযায়ী প্রধান শিক্ষক পদের ৮০ শতাংশ সহকারী শিক্ষকদের পদোন্নতির মাধ্যমে এবং বাকি ২০ শতাংশ সরাসরি নিয়োগের মাধ্যমে পূরণ করা হয়।
মন্ত্রী আরও জানান, এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রায় ৭৮ হাজার শূন্যপদে নিয়োগের জন্য নতুন পদ্ধতি চালুর প্রস্তুতি নিচ্ছে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ)। নতুন ব্যবস্থায় নিবন্ধন পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের শুধু আবেদন নেওয়ার পরিবর্তে সরাসরি লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার মাধ্যমে শূন্যপদে নিয়োগের সুপারিশ করা হবে।
অনুষ্ঠানে শিক্ষাখাতে ঝরে পড়ার হার নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেন, এসএসসি পাসের পর একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি না হওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা উদ্বেগজনক। সাধারণ ধারায় প্রায় ৩৩ শতাংশ, কারিগরি শিক্ষায় ৫৪ শতাংশ এবং মাদ্রাসা শিক্ষায় ৪৪ শতাংশ শিক্ষার্থী উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে পৌঁছানোর আগেই ঝরে পড়ছে।
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পদে দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা পদোন্নতি কার্যক্রম আপিল বিভাগের রায়ের মাধ্যমে পুনরায় শুরু হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, দীর্ঘদিনের আইনি জটিলতার অবসান হওয়ায় এখন শিক্ষা প্রশাসনে নতুন গতি আসবে এবং শূন্য পদগুলো দ্রুত পূরণ করা সম্ভব হবে।
তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতে শিক্ষকরা যাতে চাকরিতে থেকে নির্বাচনে অংশ নিতে না পারেন, সে বিষয়ে আইন প্রণয়নের প্রয়োজন রয়েছে। কোনো শিক্ষক নির্বাচন করতে চাইলে আগে চাকরি ছেড়ে দিতে হবে।
এছাড়া প্রতিষ্ঠান প্রধান নিয়োগসংক্রান্ত মামলায় সরকারের পক্ষে স্থগিতাদেশ পাওয়া গেছে জানিয়ে তিনি বলেন, আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যেই প্রতিষ্ঠান প্রধান নিয়োগের ভাইভা শুরু হবে।
পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/174773