এক ম্যাচ, দুই কিংবদন্তি, একজনের বিদায়-বিশ্বকাপে আজ ইতিহাসের অপেক্ষা
স্পোর্টস ডেস্ক : বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে ফুটবলপ্রেমীদের জন্য অপেক্ষা করছে এক ঐতিহাসিক দ্বৈরথ। সাবেক দুই রিয়াল মাদ্রিদ সতীর্থ ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো ও লুকা মদ্রিচ এবার বিশ্বমঞ্চে প্রথমবারের মতো একে অপরের প্রতিপক্ষ হতে যাচ্ছেন। শুক্রবার ভোর ৫টায় কানাডার টরন্টো স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হবে পর্তুগাল ও ক্রোয়েশিয়া।
নানা কারণেই ম্যাচটি বাড়তি গুরুত্ব পাচ্ছে। সবচেয়ে বড় বিষয়, বিশ্বকাপের ইতিহাসে এবারই প্রথম ৪০ বছরের বেশি বয়সী দুই আউটফিল্ড খেলোয়াড় একই ম্যাচে মুখোমুখি হতে যাচ্ছেন। এর আগে ৪০ পেরিয়ে বিশ্বকাপে আউটফিল্ড খেলোয়াড় হিসেবে মাঠে নামার কীর্তি ছিল শুধু ক্যামেরুনের কিংবদন্তি রজার মিলার। এবার সেই অনন্য তালিকায় যুক্ত হয়েছেন রোনালদো ও মদ্রিচ।
রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে একসঙ্গে ছয় মৌসুম খেলেছেন এই দুই মহাতারকা। সেই সময় চারটি উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগসহ অসংখ্য শিরোপা জিতেছেন তারা। বয়সকে হার মানিয়ে এখনো সর্বোচ্চ পর্যায়ে খেলে যাওয়া এই দুই তারকার জন্য এবারের বিশ্বকাপই শেষ বিশ্বমঞ্চ হতে পারে বলে মনে করছেন অনেকেই।
৪১ বছর বয়সী রোনালদো উজবেকিস্তানের বিপক্ষে জোড়া গোল করে বিশ্বকাপের ছয়টি ভিন্ন আসরে গোল করা প্রথম ফুটবলার হিসেবে ইতিহাস গড়েছেন। ম্যাচ শেষে আবেগঘন কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘আমি ফিরে এসেছি।’ তবে গ্রুপ পর্বে উজবেকিস্তানের বিপক্ষে ৫-০ গোলের বড় জয়ের পরও কঙ্গো ডিআর ও কলম্বিয়ার বিপক্ষে জয় পায়নি পর্তুগাল। ফলে নকআউটে তুলনামূলক কঠিন পরীক্ষার মুখে পড়েছে দলটি।
সমালোচনার জবাবে রোনালদো বলেন, ‘২৩ বছর ধরে পেশাদার ফুটবল খেলছি। যখনই কিছুটা খারাপ সময় আসে, তখনই বলা হয়, ক্রিশ্চিয়ানো শেষ, সে বুড়ো হয়ে গেছে।’ গ্রুপ পর্বের প্রতিটি ম্যাচেই পুরো ৯০ মিনিট খেলেছেন তিনি। পর্তুগালের বিদায়ী কোচ রবার্তো মার্তিনেজও তাকে বেঞ্চে বসানোর কোনো ইঙ্গিত দেননি। কলম্বিয়ার বিপক্ষে প্রতিপক্ষের বক্সে মাত্র দুটি বল স্পর্শ করলেও কোচ বলেন, ‘ক্রিশ্চিয়ানোর ৯০ মিনিট খেলার ক্ষেত্রে শারীরিক বা মানসিক কোনো সমস্যা নেই।’
তবে অনেকের মতে, রোনালদোকে ঘিরে অতিরিক্ত নির্ভরশীলতার কারণে পর্তুগালের প্রতিভাবান প্রজন্মের পুরো সামর্থ্য কাজে লাগানো যাচ্ছে না। জোয়াও নেভেস ও বার্নার্দো সিলভার মতো ফুটবলারদেরও গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে বেঞ্চে বসে থাকতে হয়েছে।
অন্যদিকে ৪০ বছর বয়সী লুকা মদ্রিচের বিশ্বকাপ শুরুটা সুখকর ছিল না। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ৪-২ গোলে হারের ম্যাচে একটি পেনাল্টি উপহার দেওয়ার পাশাপাশি এক ঘণ্টা পূর্ণ হওয়ার আগেই তাকে মাঠ থেকে তুলে নেন কোচ জ্লাতকো দালিচ। তবে এরপর ঘুরে দাঁড়ায় ক্রোয়েশিয়া। পানামার বিপক্ষে ১-০ গোলের জয়ের ম্যাচে আন্তর্জাতিক ফুটবে নিজের ২০০তম ম্যাচ খেলেন মদ্রিচ। এতে রোনালদোর সঙ্গে আন্তর্জাতিক ফুটবলে ২০০ ম্যাচ খেলা চতুর্থ ফুটবলার হওয়ার কীর্তি গড়েন তিনি।
ঘানার বিপক্ষে ২-১ গোলের জয়ে নিকোলা ভ্লাসিচের জয়সূচক গোলে অ্যাসিস্টও করেন মদ্রিচ। ২০১৮ বিশ্বকাপের রানার্সআপ এবং ২০২২ আসরের সেমিফাইনালিস্ট ক্রোয়েশিয়ার সাফল্যের অন্যতম প্রধান কারিগর ছিলেন তিনি। মাত্র ৪০ লাখেরও কম জনসংখ্যার দেশটিকে বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম শক্তিতে পরিণত করতে মদ্রিচের অবদান অনস্বীকার্য।
ম্যাচটি ঘিরে উত্তেজনার পারদ তুঙ্গে। দুই দলই শেষ আটে জায়গা নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ লড়াই করবে। তবে এই লড়াইয়ের সবচেয়ে আবেগঘন বাস্তবতা হলো, ফুটবল ইতিহাসের দুই কিংবদন্তি রোনালদো ও মদ্রিচের একজনের বিশ্বকাপ যাত্রা শেষ হয়ে যাবে এই ম্যাচেই।
পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/174765