পাবনা সদরে সাময়িক বরখাস্তের পরও স্কুল চালাচ্ছেন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জহুরুল

পাবনা সদরে সাময়িক বরখাস্তের পরও স্কুল চালাচ্ছেন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জহুরুল

পাবনা প্রতিনিধি: আদালতের নির্দেশে জেলহাজতে যাওয়ায় সরকারি বিধি মোতাবেক সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। কিন্তু সেই আদেশ তোয়াক্কা না করে নিয়মিত বিদ্যালয়ে হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করছেন এবং দাপ্তরিক কাজকর্মও চালিয়ে যাচ্ছেন মো. জহুরুল ইসলাম নামের এক ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক। পাবনা সদর উপজেলার দড়িভাউডাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটেছে।

অভিযোগ উঠেছে, উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট ক্লাস্টারের সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার পরোক্ষ যোগসাজশেই সরকারি আইন ও বিধিমালা লঙ্ঘন করে এই অনিয়ম চালানো হচ্ছে। এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও অভিভাবকেরা।

প্রাথমিক শিক্ষা অফিস ও মামলা সূত্রে জানা যায়, পাবনার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলী আদালত-১-এ দায়েরকৃত একটি ফৌজদারি মামলায় গত ৩ জুন জামিন নামঞ্জুর হলে জহুরুল ইসলামকে জেলহাজতে পাঠানো হয়। তিনি দড়িভাউডাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ও ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্বে ছিলেন।

এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ৯ জুন পাবনা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. আশরাফুল কবীর স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে ওই শিক্ষককে গত ৩ জুন থেকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়। কিন্তু তিনি সরকারকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে নিয়মিত বিদ্যালয়ে হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করছেন।

সরকারি এই আদেশের তিন সপ্তাহ পর গত মঙ্গলবার জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার বরাবর এ অনিয়মের বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন মো. মুনসুর আলম নামের এক স্থানীয় ব্যক্তি। অভিযোগে বলা হয়েছে, বরখাস্তকৃত শিক্ষক জহুরুল ইসলাম সরকারি চাকরি আইনের ৩৯ (২) ধারা অমান্য করে স্কুলের সব কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। আর এই কাজে তাকে সরাসরি সহযোগিতা করছেন পাবনা সদর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা এবং ওই স্কুলের দায়িত্বে থাকা সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা।

জানতে চাইলে অভিযুক্ত সাময়িক বরখাস্তকৃত ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জহুরুল ইসলাম বিদ্যালয়ে কাজ করা এবং গত মঙ্গলবারও হাজিরা খাতায় সই করার কথা স্বীকার করেন। এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম দায় চাপান মূল শিক্ষা কর্মকর্তার ওপর।

জানতে চাইলে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আশরাফুল কবীর বলেন, কোনো শিক্ষক বিদ্যালয়ে কাজের যোগ্য নন বিবেচিত হলেই তাকে বরখাস্ত করা হয়। সেখানে তাকে কাজ করার অনুমতি দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। শিক্ষা কর্মকর্তারা এমনটি করে থাকলে সেটি খতিয়ে দেখে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/174649