বগুড়ায় ৫ মাসে সড়ক দূর্ষটনায় নিহত ৬৩, হেলমেট বিহীন তরুনদের বেপোরয়াগতি
স্টাফ রিপোর্টার : চলতি বছরের গত ৫ মাসে সড়ক দুর্ঘনায় বগুড়া জেলায় ৬৩ জন নিহত হয়েছে। এর মধ্যে জানুয়ারিতে ১৩ জন, ফেব্রুয়ারিতে ১০ জন,মার্চে ১৪ জন, এপ্রিলে ১২ জন ও মে মাসে ১৪ জন নিহত হয়েছে। এর আগে গত বছর ২০২৫ সালে বগুড়া জেলায় সড়কে নিহত হন আরো ১২০ জন। সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতদের মধ্যে একটি উল্লেখ্যযোগ্য সংখ্যক কিশোর, তরুণ ও শিক্ষার্থী।
বিশেষ করে কিশোর ও তরুণরা হেলমেট ছাড়াই বেপরোয়া গতিতে মহাসড়কে মোটরসাইকেল চালাতে গিয়ে নিহত হচ্ছে। বেশিরভাগ তরুণ মোটরসাইকেল চালক হেলমেট ব্যবহার করেনা । যে কারণে সড়ক দুর্ঘটনায় মাথায় আঘাত পেয়ে তরুণরা বেশি নিহত হচ্ছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
গতকাল সোমবার বগুড়া জেলা পুলিশের কাছ থেকে পাওয়া এক পরিসংখ্যান থেকে জানা গেছে, বগুড়া জেলায় সড়ক দুর্ঘটনায় গত বছর ২০২৫ সালে ১২০ জন নিহত হন। এছাড়া চলতি বছর ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে মে পর্যন্ত ৫ মাসে জেলায় নিহত হন ৬৩ জন। সব মিলিয়ে এক বছর ৫ মাসে সড়ক দুর্ঘটনায় জেলায় মোট নিহত হন ১৮৩ জন।
বিশ্লেষকরা বলেন, বগুড়ায় সড়কে মৃত্যুর ঘটনা আরো বেশি। সব তথ্যই পুলিশ পায়না। অনেক স্থানে সড়ক দুর্ঘটনায় মানুষ ম্রাা গেলে তা পুলিশকে জানানো হয়না। পুলিশকে জানালে আইনি প্রক্রিয়ায় মাধ্যমে যেতে হয়। পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য মর্গে পাঠায় এই কারণে স্বজনরা পুলিশকে সব সময় জানায় না। অনেক সময় স্বজনরা আইনি ঝামেলা এড়াতে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হওয়ার বিষয়টি পুলিশকে জানাতে চায় না। স্বজনরা পুলিশকে না জানিয়েই লাশ দাফন করে ফেলে। এ জন্য সব সময় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতের সঠিক হিসাব পাওয়া যায়না।
এব্যাপারে বগুড়ার বিশিষ্ট চিকিৎসক এসএম হাবিবুর রহমান বলেন, মহাসড়কে মোটরসাইকেল চালাতে গেলে নিজের নিরাপত্তা নিজেকেই দিতে হবে। হেলমেট ব্যবহার করতে হবে। হেলমেট ব্যবহার না করলে মৃত্যুঝুঁকি বেড়ে যাবে। তিনি বলেন,হেলমেট না থাকায় মাথায় আঘাত জনিত মৃত্যুর ঘটনা বাড়ছে।
নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) সংগঠনের বগুড়া জেলা সভাপতি মোস্তাফিজার রহমান বলেন,অদক্ষ চালক,ফিটনেসবিহীন গাড়ি, চালকদের প্রশিক্ষণের অভাব, যাত্রী ও পথচারীদের অসচেতনতা, চলন্ত অবস্থায় চালকের মোবাইল ফোন ব্যবহার, মোটরসাইকেল চালক ও আরোহীদের হেলমেট ব্যবহার না করা, মহাসড়কে সিএনজি চালিত আটোরিকশা ও মোটরসাইকেলগুলোর চালকদের লিংক রোড় বা পার্শ্বরোড ব্যবহার না করা, কার আগে, কে যাবে মহাসড়কে এই প্রতিযোগিতা, ওভারক্রসিং, অতিরিক্ত গতি ট্রাফিক আইন অমান্য করা,বিপজ্জনকভাবে বেপরোয়া গাড়ি চালানোসহ বিভিন্ন কারণে সড়ক দুর্ঘটনা বাড়ছে।
এ ব্যাপারে গণসেচেতনতা বাড়াতে হবে। গণসচেতনতা বাড়লে দুর্ঘটনা কমে আসবে। বগুড়া সদর ট্রাফিক বিভাগের ইনচার্জ টিআই (প্রশাসন) মো: সালেকুজ্জামান খাঁন বলেন সড়ক দুর্ঘটনার অন্যতম কারণগুলো হলো, ত্রুটিপূর্ণ ও ফিটনেসবিহীন যানবাহন,গাড়ি চালানোর সময় মোবাইল ফোন ব্যবহার, হেলমেট ব্যবহার না করে বেপরোয়া গতিতে মোটরসাইকেল চালানো, বাস ও ট্রাকে অতিরিক্ত যাত্রী এবং পণ্য পরিবহন, ট্রাফিক আইন না মানা, চালকদের বেপরোয়া মনোভাব, অদক্ষতা ও অসতর্কতা ও পথচারীদের রাস্তা পারাপারে অসচেতনতা,যেখানে যেখানে যাত্রী ওঠানামা করাসহ নানাবিধ কারণে সড়কে দুর্ঘটনা বেড়েই চলেছে।
বিশেষ করে মোটরসাইকেলের তরুন-–কিশোর চালকরা হেলমেট ব্যবহার না করায় সড়কে মাথায় আঘাত পেয়ে মারা যাচ্ছে বেশি। তিনি বলেন. আরো বলেন,ট্রাফিক আইন মানলে এবং এ ব্যাপারে গণসচেতনতা বাড়াতে পারলে সড়ক দুর্ঘটনা কমবে।
পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/174413