শীর্ষ ২০০ প্রতিষ্ঠানের কাতারে আসবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ২০ বছরের একাডেমিক প্ল্যানের পরিকল্পনা

শীর্ষ ২০০ প্রতিষ্ঠানের কাতারে আসবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়,  ২০ বছরের একাডেমিক প্ল্যানের পরিকল্পনা

ঢাবি প্রতিনিধি: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে বিশ্বের শীর্ষ ২০০ একাডেমিক প্রতিষ্ঠানের কাতারে শামিল করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম। এই লক্ষ্য অর্জনে ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় একাডেমিক প্ল্যান (২০২৬-২০৪৬)’ প্রণয়নের ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। ‘অন্তর্ভুক্তিমূলক উদ্ভাবন ও নৈতিক নেতৃত্বের জন্য অনুপ্রেরণার প্রতিষ্ঠান হওয়া’— এই মূল দর্শনকে ধারণ করে প্রণীত মহাপরিকল্পনাটি আগামী দুই দশকে উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়ন ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারে একটি কৌশলগত ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে বলেও মন্তব্য করেছেন উপাচার্য।

আজ সোমবার (২৯ জুন) বিকেল ৩টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে বার্ষিক সিনেট অধিবেশনে তিনি এসব কথা বলেন।

উপাচার্য বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১২৫তম বর্ষকে কেন্দ্র করে প্রণয়ন করা হয়েছে ২০ বছর মেয়াদি ‘ঢাকা ইউনিভার্সিটি একাডেমিক প্ল্যান (ডিইউএপি) (২০২৬-২০৪৬)’। এর মূল দর্শন— ‘অন্তর্ভুক্তিমূলক উদ্ভাবন ও নৈতিক নেতৃত্বের জন্য অনুপ্রেরণার প্রতিষ্ঠান হওয়া’। তিনি জানান, ডিইউএপি বাস্তবায়নের জন্য পাঁচটি ধাপ নির্ধারণ করা হয়েছে।

এর মধ্যে ওনারশিপ ফেজ ২০২৬ থেকে ২০২৮ সাল পর্যন্ত। এ সময়ে পরিকল্পনার প্রতি দায়বদ্ধতা ও অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হবে। এরপর ২০২৮ থেকে ২০৩৩ সালে অ্যাক্সেলেরেশন ফেজ, যেখানে কাঠামোগত ও কার্যক্রমভিত্তিক অগ্রগতি ত্বরান্বিত করা হবে। ২০৩৩-২০৩৮ সালে ট্রান্সফরমেশন ফেজে শিক্ষা, গবেষণা ও প্রশাসনে দৃশ্যমান পরিবর্তন আনা হবে। আর রেনেসাঁ ফেজ চলবে ২০৩৮ থেকে ২০৪৩ পর্যন্ত। এই সময়ে জ্ঞান, মূল্যবোধ ও উদ্ভাবনের পুনর্জাগরণ ঘটবে। সর্বশেষ ইন্সপাইরেশন ফেজে (২০৪৩-২০৪৬) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে একটি অনুপ্রেরণার প্রতিষ্ঠান হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা হবে।

উপাচার্য বলেন, এই পরিকল্পনা কোনো সাধারণ নীতিপত্র নয়, এটি আগামী দুই দশকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রূপান্তরের একটি কৌশলগত ভিত্তি। এটি বিস্তৃত গবেষণা, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা, শিক্ষক-শিক্ষার্থী-অ্যালামনাই-শিল্পখাত ও নীতিনির্ধারকদের অংশগ্রহণ, এবং বাস্তবভিত্তিক বিশ্লেষণের মাধ্যমে প্রস্তুত করা হয়েছে। তিনি জানান, এই পরিকল্পনার ভিত্তি গড়ে উঠেছে ১১টি কৌশলগত স্তম্ভের উপর। এগুলো হচ্ছে— নেতৃত্ব, গবেষণা ও উদ্ভাবন, শিক্ষা আধুনিকায়ন, উদ্যোক্তা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান, সরকার-শিল্প-বিশ্ববিদ্যালয় সহযোগিতা, সক্ষমতা বৃদ্ধি, সম্পদ ব্যবস্থাপনা, প্রশাসনিক উৎকর্ষ, নৈতিক ও মানবিক ক্যাম্পাস সংস্কৃতি, অন্তর্ভুক্তি এবং জাতিগত ও ঐতিহ্য সংরক্ষণ।

তিনি বলেন, এমন একটি বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তোলার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে, যেখানে গবেষণা হবে কেন্দ্রীয় শক্তি, শিক্ষা হবে ভবিষ্যৎমুখী, প্রশাসন হবে দক্ষ এবং উদ্ভাবন ও উদ্যোক্তা উন্নয়ন হবে বিশ্ববিদ্যালয় সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ।

ড. ওবায়দুল ইসলাম বলেন, এই পরিকল্পনার একটি বিশেষ তাৎপর্য হলো, এটি কেবল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য নয়, বরং বাংলাদেশের অন্যান্য উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানও এটিকে একটি টেমপ্লেট ও অনুপ্রেরণামূলক কাঠামো হিসেবে গ্রহণ করতে পারবে। ফলে এর প্রভাব বিশ্ববিদ্যালয়ের সীমানা অতিক্রম করে জাতীয় উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থার রূপান্তরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষার্থী, তিন দশকেরও বেশি সময়ের একজন শিক্ষক, এবং বর্তমান উপাচার্য হিসেবে আমার বিশ্বাস— আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে বিশ্বের শীর্ষ ২০০ একাডেমিক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ, প্রভাবশালী ও মর্যাদাপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে পরিণত করা।

পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/174338