রংপুরের পীরগাছায় পালিয়ে বিয়ে করায় শ্বাসরোধে হত্যা, গ্রেফতার ভাই-ভাবি
পীরগাছা (রংপুর) প্রতিনিধি: রংপুরের পীরগাছায় পালিয়ে গিয়ে বিয়ে করেছিলেন নুসরাত জাহান নুপুর। ছেলের পরিবার গরিব হওয়ায় এ বিয়ে মেনে নেয়নি নুপুরের পরিবার। পরে কৌশলে বাড়িতে ডেকে এনে নির্যাতন করা হয় নুপুর ও তার স্বামীকে। মার খেয়ে স্বামী চলে গেলে এলাকায় প্রচার করা হয় নুপুর গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে।
লাশ উঠানে রেখে আত্মহত্যার কাহিনী সাজান পরিবারের লোকজন। তখন পুলিশ লাশ ময়না তদন্তের জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায় এবং একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করে। অবশেষে দীর্ঘ ৪ মাস পর ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে শ্বাসরোধে হত্যার তথ্য উঠে আসায় নিহত নুসরাত জাহান নুপুরের(২৬) আপন ভাই ও ভাবীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ১৮ ফেব্রুয়ারি নুসরাত জাহান নুপুর (স্বামী: আহাদ আলী), উপজেলার সতন্তরা গ্রামের মৃত নুরনবী সরকারের মেয়ে, বাবার বাড়িতে মারা যান। এ ঘটনায় সেদিন পীরগাছা থানায় অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয় এবং মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। ময়নাতদন্ত শেষে হাসপাতালের ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের লেকচারার ডা. জামিল আহমেদ লিখিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন, নুপুরের মৃত্যু শ্বাসরোধে হত্যার ফলে হয়েছে।
এর পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল শুক্রবার পীরগাছা থানা পুলিশ নিহতের ভাই মো. খালিদ হাসান মিলু(২৫) ও ভাবী মোছা. দিলরুবা আক্তার দিসাকে(২২) আটক করে থানায় নিয়ে আসে। পরে নিহতের স্বামী আহাদ আলী বাদি হয়ে নির্যাতন ও হত্যা মামলা দায়ের করেন। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নুসরাত জাহান নুপুর ভালোবেসে আহাদ আলীকে বিয়ে করেছিলেন। তবে তাদের এ বিয়ে নুপুরের পরিবার মেনে নেয়নি।
পীরগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ কে এম খন্দকার মুহিব্বুল ইসলাম গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, এ ঘটনায় নিহতের স্বামী আহাদ আলী বাদি হয়ে নুপুরের ভাই, ভাবী, মা ও ফুফুকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতরা ঘটনার দায় কৌশলে এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। তাদের রিমান্ড আবেদন করা হবে।
পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/174141