নওগাঁয় অজ্ঞান করে বৃদ্ধার স্বর্ণালঙ্কার লুট, হাসপাতালে বৃদ্ধার মৃত্যু
নওগাঁ প্রতিনিধি: নওগাঁয় সম্মোহনের মাধ্যমে ফাতেমা খাতুন(৬৯) নামে এক বৃদ্ধাকে অজ্ঞান করে স্বর্ণালঙ্কার ও টাকা লুট করে নিয়েছে একটি চক্র। পরবর্তীতে বৃদ্ধা ফাতেমা খাতুন রাজশাহী মেডিকেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেছেন। এ ব্যাপারে নওগাঁ সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়রি লিপিবদ্ধ হয়েছে।
জানা যায়, নওগাঁ শহরের উকিলপাড়া (গাড়িয়ালপাড়া) নিবাসী অবসরপ্রাপ্ত কলেজ শিক্ষক অধ্যাপক মো: শহিদুল ইসলাম এবং তার স্ত্রী ফাতেমা বেগম প্রায়ই একসাথে বাজার করেন এবং বিভিন্ন হোটেলে খাওয়া দাওয়া করেন। এরই ধারাবাহিকতায় গত ২০ জুন বেলা ১১টায় বাসা থেকে বের হন। মিষ্টি খাওয়ার জন্য শহরের মিষ্টিপট্টি ‘মিষ্টান্ন্ ভান্ডারে’ গিয়ে রিকশা থেকে নামেন।
নামার সাথে সাথে ৩৫-৪০ বছর বয়সের মোটাসোটা এক নারী দৌঁড়ে এসে ফাতেমা খাতুনকে সালাম দিয়ে খুব আাপন মানুষ হিসেবে একান্তে আসে এবং কথা বলে। এরমধ্যে অধ্যাপক শহিদুল ইসলাম মিষ্টান্ন ভান্ডারের ভিতরে প্রবেশ করেন। এদিকে বাসা দেখার নাম করে ওই প্রতারক নারী ফাতেমা খাতুনকে তাদের পরিকল্পিত রিকশায় নিয়ে অজ্ঞাত স্থানে চলে যায়। পরে অধ্যাপক শহিদুল ইসলাম তার স্ত্রীকে আর খুঁজে পাননি।
এদিকে দুপুরে এক অজ্ঞাত বৃদ্ধা মহিলাকে শহরের কোমাইগাড়ী সাবেক ভাগার (মলফ্যালা) এলাকায় অজ্ঞান অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন পথচারীরা। এক সময় পথচারীদের এক মহিলা ফাতেমা খাতুনকে চিনতে পেরে তাকে বাড়িতে পৌঁছে দেন। ওই চক্র ফাতেমা খাতুনের ৩ ভড়ি ওজনের একটি মোটা সোনার চেইন, একজোড়া কানের দুল, হাতের দু’টি আংটি ছিনিয়ে নেয়। হাতের চুরি চেষ্টা করেও খুলতে পারে নি। ছিনিয়ে নেয়া স্বর্ণালঙ্কারের মূল্য প্রায় ৮ লাখ টাকা। এছাড়া হ্যান্ড ব্যাগে ৫-৬ হাজার টাকা নিয়ে যায়।
দুপুর দেড়টায় পরিবারের লোকজন তাকে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় নওগাঁ সদর হাসপাতালে ভর্তি করে দেন। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে রাত ৮টায় রাজশাহী মেডিকেল হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। অবস্থার আরও অবনতি হলে গত ২৪ জুন তাকে আইসিই্তে নেয়া হয়। গত ২৫ জুন সাড়ে ৮টায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাজশাহী মেডিকেল হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন ফাতেমা খাতুন। ময়না তদন্ত শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/174136