বগুড়ার সোনাতলায় চিল্লিপাড়া-কাতলাহার খাল খননের দাবি আজও বাস্তবায়িত হয়নি
সোনাতলা (বগুড়া) প্রতিনিধি : বগুড়ার সোনাতলা উপজেলার দিগদাইড় ইউনিয়নের বুক চিরে বয়ে যাওয়া চিল্লিপাড়া-কাতলাহার প্রায় ৭ কিলোমিটার খালটি এখন মৃতপ্রায়। এর উৎপত্তি উপজেলার গোবরচাপা বিলে। সেখান থেকে চিল্লিপাড়া-কাতলাহার হয়ে খালটি গাবতলী উপজেলার সোনারায় ইউনিয়নের ইছামতি নদীতে গিয়ে মিলিত হয়েছে।
এক সমযয়ের প্রমত্তা খাল দীর্ঘ এক যুগেরও বেশি সময় ধরে খনন না করায় পলি জমে ভরাট হয়ে গেছে। ফলে শুষ্ক মৌসুমে পানির চরম সংকট এবং বর্ষায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়ে প্রতি বছর বিঘ্নিত হচ্ছে হাজার হাজার একর জমিতে ফসল চাষাবাদ। খালটি পুনঃখননের মাধ্যমে কৃষিকাজ সচল ও জীববৈচিত্র্য রক্ষার দাবিতে এখন সোচ্চার স্থানীয় এলাকাবাসী ও ভুক্তভোগী কৃষকেরা।
স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, দিগদাইড় ইউনিয়নের চিল্লিপাড়া, কাতলাহারসহ আশপাশের বেশ কয়েকটি গ্রামের কয়েক হাজার মানুষের কৃষিকাজ ও গৃহস্থালি কাজের প্রধান উৎস ছিল খালটি। একসময় এই খাল থেকে পানি সেচ দিয়ে কৃষকেরা বোরো, আমনসহ বিভিন্ন রবি শস্যের আবাদ করতেন। কিন্তু দীর্ঘদিন সংস্কার ও খনন না করায় খালের তলদেশ ভরাট হয়ে বর্তমানে একটি সরু নালায় পরিণত হয়েছে। শীত ও গ্রীষ্মকালে পুরোপুরি শুকিয়ে ধু ধু মাঠে পরিণত হয়। এতে সেচ খরচ দিন দিন কৃষকদের সাধ্যের বাইরে চলে যাচ্ছে।
কাতলাহার গ্রামের আব্দুল মজিদ, লিয়াকত আলী, মোর্শেদা জাহান, আব্দুল লতিফ, শাহিন মিয়া, আনারুল কবির বলেন, খাল ভরাট হওয়ার কারণে আমরা দুই দিক দিয়েই মরছি। বর্ষাকালে একটু বৃষ্টি হলেই পানি সরতে পারে না, ফলে মাঠের ফসল তলিয়ে যায়।
আবার শুষ্ক মৌসুমে খালে পানি না থাকায় কৃষক জমিতে সেচ দিতে পারে না। এক সময় এই খালের পানি দিয়ে কৃষক জমিতে সেচ দিতে পারতেন, এখন এটাই গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। খালটি খনন করা হলে কেবল সেচ সুবিধাই বাড়বে না, বরং দেশীয় প্রজাতির মাছের বংশবিস্তার ঘটবে এবং হাঁস পালনসহ বিকল্প কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে।
তারা দাবি করছেন, বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) বা সংশ্লিষ্ট স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর যেন দ্রুত খালটি পুনঃখননের উদ্যোগ নেয়। খাল পুনরুজ্জীবিত হলে দিগদাইড় ইউনিয়নের কৃষি অর্থনীতিতে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে।
এ বিষয়ে স্থানীয় দিগদাইড় ইউপি চেয়ারম্যান শহিদুল হক টুল্লু বলেছেন, বর্তমান সরকার খাল খনন প্রকল্প হাতে নিয়েছে। সেই ধারাবাহিকতায় খালটি খননের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে আবেদন করা হয়েছে। এ বিষয়ে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা রেফাউল আজম বলেন, এই মুহূর্তে খাল খননের কোন পরিকল্পনা নেই। বরাদ্দ পাওয়া গেলে খনন করা হবে।
পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/173817