নরওয়ের স্বপ্নযাত্রার নায়ক এখন বিশ্বকাপের গোলমেশিন
বিশ্বকাপে নরওয়ের রূপকথার যাত্রার কেন্দ্রে দাঁড়িয়ে আছেন একজনই- আরলিং হালান্ড। সেনেগালের বিপক্ষে ৩-২ ব্যবধানে জয়ের ম্যাচে আবারও জোড়া গোল করে দলকে শেষ ৩২-এ তুলেছেন তিনি। আর ম্যাচ শেষে নিজের ফর্ম নিয়ে বলতে গিয়ে হালান্ডের সোজাসাপ্টা মন্তব্য, 'গোল করা আমার বিশেষত্ব।'
সেনেগালের বিপক্ষে জোড়া গোল করে এবারের বিশ্বকাপে নিজের গোলসংখ্যা চারটিতে নিয়ে গেছেন ২৫ বছর বয়সী এই স্ট্রাইকার। গোলদাতাদের তালিকায় তিনি এখন কিলিয়ান এমবাপের সমান এবং কেবল লিওনেল মেসির পেছনে আছেন। আরও তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হলো, টানা দুই ম্যাচে জোড়া গোল করেছেন হালান্ড।
হালান্ডের দুর্দান্ত ফর্মে ভর করেই ১৯৯৮ সালের পর প্রথমবার বিশ্বকাপে খেলতে এসে নকআউট পর্ব নিশ্চিত করেছে নরওয়ে। তবে ব্যক্তিগত সাফল্যের চেয়ে দলের অর্জনকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। তার মতে, নরওয়ের জন্য এই মুহূর্ত উপভোগ করাটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
সেনেগাল ম্যাচের পর ফ্রান্সের বিপক্ষে গ্রুপসেরা হওয়ার লড়াই নিয়ে প্রশ্ন করা হলে হালান্ড বাস্তববাদী উত্তর দেন। তিনি বলেন, 'আমরা তো ইতোমধ্যেই পরের রাউন্ডে উঠে গেছি। ফ্রান্স সম্ভবত আমাদের হারাবে, এমনকি পুরো বিশ্বকাপও জিততে পারে।'
নরওয়ের কোচ স্টেলে সোলবাক্কেন অবশ্য নিজের তারকাকে নিয়ে উচ্ছ্বসিত। তার বিশ্বাস, হালান্ডকে ঘিরেই নরওয়ে আরও বড় কিছু করতে পারে। কোচের ভাষায়, বিশ্বের সেরা স্ট্রাইকারদের একজন হয়েও হালান্ড ফ্রান্স বা আর্জেন্টিনার মতো শক্তিশালী দলে খেলেন না, তবু বিশ্বমঞ্চে নিয়মিত গোল করে যাচ্ছেন।
বিশ্বকাপের শুরুতেই ইরাকের বিপক্ষে জোড়া গোল, এরপর সেনেগালের বিপক্ষেও একই কীর্তি। নরওয়ের দীর্ঘ ২৮ বছরের বিশ্বকাপ অপেক্ষার অবসানের গল্পে তাই সবচেয়ে উজ্জ্বল নাম এখন একটাই—এরলিং হালান্ড। আর তার নিজের ভাষায়, গোল করা তো তার “বিশেষত্ব” বটেই।
পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/173614