ঢাবি ক্যাম্পাসকে শিক্ষার নিরাপদ প্রাঙ্গণ করার দাবিতে প্রক্টরকে স্মারকলিপি দিল ছাত্রশিবির
ঢাবি প্রতিনিধি: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসকে শিক্ষার নিরাপদ প্রাঙ্গণ হিসেবে গড়ে তোলা এবং ফুটবল বিশ্বকাপের খেলা প্রদর্শনকে কেন্দ্র করে ক্যাম্পাসে সৃষ্ট অনিয়ন্ত্রিত পরিবেশ ও নিরাপত্তাহীনতা দূর করার দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করেছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ।
আজ (২৩ জুন) বিকাল ৩টা ৩০ মিনিটে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অফিসে সংগঠনের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সেক্রেটারি কাজী আশিক এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য দায়িত্বশীল নেতৃবৃন্দ প্রক্টর মহোদয়ের সাথে সাক্ষাৎ করে এই স্মারকলিপি প্রদান করেন।
স্মারকলিপিতে নেতৃবৃন্দ উল্লেখ করেন, সাম্প্রতিক সময়ে ফুটবল বিশ্বকাপের খেলা প্রদর্শনকে কেন্দ্র করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অনিয়ন্ত্রিত জনসমাগম, বহিরাগতদের অবাধ বিচরণ এবং নিরাপত্তাহীনতা আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। টিএসসি, ভিসি চত্বর, মুহসীন হলের মাঠ ও হলপাড়াসহ বিভিন্ন স্থানে মাসব্যাপী খেলা দেখার আয়োজনে কোনো সুনির্দিষ্ট ও নিয়ন্ত্রিত ব্যবস্থা না থাকায় ক্যাম্পাসের স্বাভাবিক একাডেমিক পরিবেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
নেতৃবৃন্দ চরম উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, গত এক সপ্তাহেই ক্যাম্পাসে একাধিক নারী শিক্ষার্থী হেনস্তার শিকার হয়েছেন, যা অত্যন্ত অনভিপ্রেত ও উদ্বেগজনক। এছাড়া কিছু বহিরাগত ব্যক্তির অসদাচরণ, মোটরবাইকের বেপরোয়া গতি, উচ্চশব্দে চিৎকার এবং যত্রতত্র মলমূত্র ত্যাগের কারণে ক্যাম্পাসের সামগ্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে।
উদ্ভুত পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের অধিকার ও নিরাপত্তা রক্ষায় ছাত্রশিবিরের পক্ষ থেকে প্রক্টর বরাবর ৪ দফা দাবি পেশ করা হয়
দাবিসমূহ হলো:
বহিরাগত নিয়ন্ত্রণ: বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বহিরাগতদের অনিয়ন্ত্রিত প্রবেশ বন্ধে অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।
নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা: খেলা প্রদর্শনসহ বড় জনসমাগমের স্থানগুলোতে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা, প্রক্টরিয়াল টিম ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সার্বক্ষণিক তদারকি নিশ্চিত করতে হবে।
নারী শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা: খেলা প্রদর্শনের ভেন্যুগুলোতে ছাত্রীদের জন্য নিরাপদ ও হয়রানিমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে আয়োজকদের কঠোর নির্দেশনা দিতে হবে।
সুস্থ পরিবেশ নিশ্চিতকরণ: ভেন্যুগুলোতে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা করতে হবে এবং ধূমপায়ীদের জন্য আলাদা জোন নির্ধারণ করতে হবে।
স্মারকলিপি প্রদান শেষে নেতৃবৃন্দ আশা প্রকাশ করেন,
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন শিক্ষার্থীদের এই যৌক্তিক দাবির গুরুত্ব অনুধাবন করে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে এবং ঢাবি ক্যাম্পাসকে একটি নিরাপদ ও শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ হিসেবে গড়ে তুলতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে।