নাটোরের লালপুুরে আম চাষে উৎপাদন বেশি হলেও লোকসান গুনছেন চাষিরা
লালপুর (নাটোর) প্রতিনিধি : সাড়ে ৫ বিঘা জমিতে হাড়িভাঙ্গা আমের বাগান। গাছ থেকে আম পেকে পড়ে যাচ্ছে। এখনও বাগান বিক্রি হয়নি। বিগত মৌসুমগুলোতে বেপারিরা এসে আগে ভাগেই বাগান কিনত। এবার বাজারে দাম কম, এই দোহাই দিয়ে বাগান কিনতে চাচ্ছে না।
স্থানীয় আড়তে গিয়েও একই অবস্থা। তার ওপর ৪৮ কেজিতে মণ, এই ওজনে বিক্রি করতে হয়। আম পাড়া থেকে শুরু করে পরিবহন, সবমিলে অনেক লোকসান আর লোকসান। ভরা মৌসুমেও আম নিয়ে এমন গল্প লালপুর উপজেলার প্রায় আম চাষির। গত ৫ বছর ধরেই লোকসানের মুখে এখানকার চাষিরা।
বিশেষজ্ঞরা বলছে, কৃষকদের সাথে কৃষি বিভাগের সমন্বয় না থাকা, পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণের অভাব, সঠিক বাজার ব্যবস্থাপনা, আধুনিক জাতের আমের চাষ না করা। ফলে শুধু সঠিক প্যাকেজিংএর অভাবে প্রতিবছর আম বাগান থেকে ভোক্তা পর্যন্ত পৌঁছাতে মোট উৎপাদিত আমের ৩০ শতাংশ নষ্ট হচ্ছে। যার বাজারমূল্য মোট আমের প্রায় ৩ ভাগের এক ভাগ।
হিমসাগর ও আম্রপালী জাতের আম চাষী আব্দুল ওয়াহাব বলেন, তার ৫ বিঘা আমের বাগানে এবার ফলনও ভালো ছিলো। তবে দাম না থাকায় ৩ লাখ টাকার বাগান দেড় লাখ টাকা বিক্রি করতে হয়েছে। যেখানে এই বাগান পরিচর্যাতেই এক বছরে তার খরচ হয়েছে ১ লাখ টাকা।
লালপুর উপজেলা কৃষি বিভাগের তথ্য বলছে, চলতি মৌসুমে উপজেলায় এক হাজার ৮০৫ হেক্টর জমিতে আমের বাগান আছে। এই সকল বাগান থেকে হেক্টর প্রতি ১২ টন হারে ২১ হাজার ৬৬০ মেট্রিকটন আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। যার বর্তমান বাজারমূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৩৫ টাকা কেজি দরে প্রায় ৭৫৮ কোটি টাকা।
কৃষকদের কথা ও বাজারের পরিস্থিতি ভিন্ন কথা বলছে এবিষয়ে কৃষি কর্মকর্তার প্রীতম কুমার হোড় বলেন, বাজারে আমের সরবরাহ বৃদ্ধির কারণে আমের দাম কম। কয়েকদিন পরে আমের চাহিদা বৃদ্ধি পাবে। তবে এবিষয়ে কৃষি বিপণন বিভাগ বলতে পারবে।
কৃষি বিভাগের পরিসংখ্যান বলছে, গত ২০২৫ মৌসুমে আমের বাগান ছিলো ১৮১০ হেক্টর। সে বছর আমের উৎপাদন হয়েছিলো হেক্টর প্রতি ১২ দশমিক ৭ মেট্রিকটন হারে ২২ হাজার ৯২৩ টন। এবার ২০২৬ মৌসুমে আমের বাগান ৫ হেক্টর কমে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৮০৫ হেক্টরে। সরকারি হিসেবে এক বছরে আমের বাগান কমেছে ১ হেক্টর সমান ৭ দশমিক ৪৭ বিঘা সমান ৩৭ বিঘা। তবে কৃষকরা আম বাগান কাটার পরিমান দাড়াবে ১শ’ বিঘার বেশি।
আধুনিক কৃষি পদ্ধত্বি যেমন হাই-ডেনসিটি ম্যাংগো বা অতি উচ্চ ঘনত্বের আম চাষ, উত্তম কৃষিচর্চা (জিএপি) ও নিরাপদ আম তৈরি করা কিভাবে করা যায় এবিষয়ে কৃষকদের প্রশিক্ষণে ব্যবস্থা করতে হবে। ব্যবসায়ী, মধ্যস্বত্বভোগীদেরকে বিভিন্ন প্লাটফর্মের মাধ্যমে আমের পোস্ট হারভেস্ট বিষয়ে আমের ভালো প্যাকেজিং এর জন্য প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে।
পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/173533