বগুড়ার মহাস্থানগড় মাজারের উন্নয়ন কাজে প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের বাধা, এলাকাবাসী ও মুসল্লিদের প্রতিবাদ
শিবগঞ্জ (বগুড়া) প্রতিনিধি: বগুড়ার শিবগঞ্জের ঐতিহাসিক মহাস্থানগড়ে অবস্থিত হযরত শাহ সুলতান বলখী (রহ.) মাহীসওয়ারের পবিত্র মাজার শরিফের দীর্ঘদিনের পরিকল্পিত উন্নয়ন ও সংস্কার কাজে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর (আর্কিওলজি ডিপার্টমেন্ট) কর্তৃক বাধা প্রদানের ঘটনায় ফুঁসে উঠেছে এলাকাবাসী ও মাজার কমিটি।
উন্নয়ন কাজে বাধা দেওয়ার প্রতিবাদে আজ রোববার (২১ জুন) বিকেলে মহাস্থান মাজার মসজিদের পেশ ইমাম মাওলানা আলহাজ এমদাদুল হকের সভাপতিত্বে মাজারের প্রধান ফটকের সামনের সড়কে এক মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধন চলাকালে বক্তারা অভিযোগ করে বলেন, ঐতিহাসিক এই মাজার শরিফে প্রতিদিন দেশ-বিদেশ থেকে হাজার হাজার ভক্ত, আশেকান ও সাধারণ মুসল্লি জিয়ারত এবং নামাজ আদায়ের জন্য আসেন। কিন্তু মাজারে পুরুষদের নামাজের পর্যাপ্ত জায়গা থাকলেও নারীদের জন্য সুনির্দিষ্ট কোনো ব্যবস্থা নেই।
এর ফলে নারী মুসল্লিরা নিরুপায় হয়ে মাজার চত্বরেই নামাজ আদায় করেন। বিশেষ করে জুমার নামাজ ও ধর্মীয় উৎসবের দিনগুলোতে জায়গা সংকুলান না হওয়ায় তীব্র রোদ কিংবা বৃষ্টিতে ভিজে তাদের বাইরে নামাজ আদায় করতে হয়।
এই চরম জনভোগান্তি দূর করতে মাজার কমিটি নিজস্ব অর্থায়নের পাশাপাশি সরকারি অনুদান এবং ধর্মপ্রাণ মানুষের দানে মাজার প্রাঙ্গণ সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়নের একটি প্রকল্প হাতে নেয়। কিন্তু কাজ শুরু করতেই প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর ঐতিহাসিক কাঠামোর সুরক্ষার অজুহাত দেখিয়ে কাজে নিষেধাজ্ঞা জারি করে এবং কাজ বন্ধ করে দেয়।
প্রতিবাদ সমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন মাজার কমিটির সিনিয়র প্রশাসনিক কর্মকর্তা এএইচএম রবিউল ইসলাম, তাহেরুল ইসলাম, উপজেলা বিএনপির সভাপতি এসএম তাজুল ইসলাম, মোকামতলা কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের খতিব মাওলানা আমিনুর রহমান, পেশ ইমাম হাফেজ মামুনুর রশিদ, ব্যবসায়ী রহেদুল ইসলাম, আব্দুস সামাদ সোহাগ, সাবেক ইউপি সদস্য তোফাজ্জল হোসেন তোফা, হাফেজ মাওলানা বুলু মিয়া, আছালতজ্জামান এবং আলহাজ আতাহার রহমান টুকু প্রমুখ।
সমাবেশে বক্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, মাজার সম্প্রসারণ কাজে প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের দেওয়া বাধা অবিলম্বে প্রত্যাহার করা না হলে আগামী মঙ্গলবার কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। একই সাথে আগামী শুক্রবার মহাস্থান জাদুঘর ঘেরাও ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করা হবে বলে মানববন্ধন থেকে আলটিমেটাম দেওয়া হয়।
বক্তারা আরও যোগ করেন, প্রত্নতাত্ত্বিক আইনের দোহাই দিয়ে সাধারণ মানুষের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানার অপচেষ্টা ও ষড়যন্ত্র করছে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর, যা কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না।
পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/173380