বিশ্বকাপের হাজারতম ম্যাচ, ইতিহাসের খাতায় নতুন অধ্যায়

বিশ্বকাপের হাজারতম ম্যাচ, ইতিহাসের খাতায় নতুন অধ্যায়

ফিফা বিশ্বকাপের ইতিহাস গড়ে উঠেছে হাজারো ম্যাচে। তবে কিছু ম্যাচ আছে, যেগুলো শুধুই একটি খেলা নয়, বরং বিশ্ব ফুটবলের ইতিহাসে বিশেষ মাইলফলক হিসেবে জায়গা করে নিয়েছে। ২০২৬ বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে মন্টেরেতে জাপান ও তিউনিসিয়ার মধ্যকার ম্যাচটি তেমনই একটি উপলক্ষ। কারণ এই ম্যাচটি বিশ্বকাপ ইতিহাসের ১০০০তম ম্যাচ হিসেবে রেকর্ডবুকে স্থান করে নিয়েছে।

১৯৩০ সালের ১৩ জুলাই বিশ্বকাপের যাত্রা শুরু হয়েছিল উরুগুয়েতে। সেই আসরের প্রথম ম্যাচেই মুখোমুখি হয়েছিল ফ্রান্স ও মেক্সিকো। ৩-১ গোলের জয়ে ইতিহাসের প্রথম বিশ্বকাপ ম্যাচ নিজেদের করে নেয় ফ্রান্স। শুধু তাই নয়, ওই ম্যাচেই বিশ্বকাপ ইতিহাসের প্রথম গোলটি করেছিলেন ফরাসি ফুটবলার লুসিয়েন লরাঁ। ফলে ম্যাচটি চিরকাল স্মরণীয় হয়ে আছে।

বিশ্বকাপের ১০০তম ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়েছিল ১৯৫৪ সালের সুইজারল্যান্ড বিশ্বকাপে। ৩ জুলাই জুরিখে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল অস্ট্রিয়া ও উরুগুয়ে। সেই ম্যাচে জয় পেয়ে তৃতীয় স্থান অর্জন করেছিল অস্ট্রিয়া এবং বিশ্বকাপ ইতিহাসে নিজেদের নাম লিখিয়েছিল একটি বিশেষ মাইলফলকের অংশ হিসেবে।

১৯৬৬ সালের ৩০ জুলাই ইংল্যান্ডের বিখ্যাত ওয়েম্বলি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপ ফাইনাল ছিল ইতিহাসের ২০০তম ম্যাচ। স্বাগতিক ইংল্যান্ড সেই ম্যাচে পশ্চিম জার্মানিকে হারিয়ে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ শিরোপা জিতে নেয়। জুলে রিমে ট্রফি হাতে তোলার সেই ঐতিহাসিক রাত বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম স্মরণীয় অধ্যায় হয়ে আছে।

১৯৮৬ সালের ১৬ জুন মেক্সিকোর পুয়েব্লায় অনুষ্ঠিত আর্জেন্টিনা ও উরুগুয়ের মধ্যকার ম্যাচটি ছিল বিশ্বকাপ ইতিহাসের ৪০০তম ম্যাচ। রিও দে লা প্লাতা অঞ্চলের দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীর লড়াইয়ে ১-০ গোলের জয় পেয়েছিল আর্জেন্টিনা। পরে সেই আসরেই বিশ্বকাপ জিতে নেয় দিয়েগো ম্যারাডোনার দল।

১৯৯০ সালের ইতালি বিশ্বকাপে অনুষ্ঠিত ৫০০তম ম্যাচটি ছিল নকআউট পর্বের একটি লড়াই। ২৩ জুন বারিতে চেকোস্লোভাকিয়া ৪-১ গোলে হারিয়েছিল কোস্টারিকাকে। কোস্টারিকার জন্য ম্যাচটি ছিল বিশেষ, কারণ প্রথমবারের মতো তারা বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে খেলেছিল।

বিশ্বকাপের ৯০০তম ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়েছিল ২০১৮ সালের ১৫ জুলাই মস্কোতে। সেই ম্যাচটি ছিল ফ্রান্স ও ক্রোয়েশিয়ার মধ্যকার ফাইনাল। ফ্রান্স জয় পেয়ে নিজেদের ইতিহাসে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ শিরোপা জিতে নেয় এবং ম্যাচটি বিশ্বকাপের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে জায়গা করে নেয়।

এরপর আরও ১০০ ম্যাচ পেরিয়ে বিশ্বকাপ ইতিহাসে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো। ২০২৬ বিশ্বকাপের জাপান ও তিউনিসিয়ার মধ্যকার ম্যাচটি এখন থেকে বিশ্বকাপ ইতিহাসের ১০০০তম ম্যাচ হিসেবে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/173365