যুক্তরাষ্ট্রের ভ্রমণ-নিষেধাজ্ঞা নিয়ে ফিফার কাছে ইরানের অভিযোগ

যুক্তরাষ্ট্রের ভ্রমণ-নিষেধাজ্ঞা নিয়ে ফিফার কাছে ইরানের অভিযোগ

২০২৬ বিশ্বকাপে কঠোর মার্কিন ভ্রমণ-নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়ে ফিফার কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জানিয়েছে ইরান। দেশটির ফুটবল ফেডারেশন (এফএফআইআরআই) দাবি করেছে, এসব বিধিনিষেধ দলের প্রস্তুতি ও খেলোয়াড়দের রিকভারি প্রক্রিয়াকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। তবে মার্কিন কর্তৃপক্ষ বলছে, এই শর্তগুলো আগেই উভয় পক্ষের সম্মতিতে নির্ধারিত হয়েছিল।

২০২৬ বিশ্বকাপে জাতীয় দলের ওপর আরোপিত ভ্রমণ-সংক্রান্ত নিয়ম নিয়ে ফিফার কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ করেছে ইরান ফুটবল ফেডারেশন। বর্তমান ব্যবস্থায় ইরানকে ম্যাচের মাত্র একদিন আগে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে এবং ম্যাচ শেষ হওয়ার পর কয়েক ঘণ্টার মধ্যে দেশটি ছাড়তে হচ্ছে।

এক বিবৃতিতে এফএফআইআরআই বলেছে, এই বিধিনিষেধ অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করার নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় এবং এটি দলের প্রস্তুতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। ইরান ফুটবল ফেডারেশনের ভাষ্য, ‘এ ধরনের ব্যবস্থা সব অংশগ্রহণকারী দলের জন্য সমান পরিবেশ নিশ্চিত করার নীতির পরিপন্থী এবং দলের প্রস্তুতি প্রক্রিয়াকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।’

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘এর ফলে ফেডারেশন আনুষ্ঠানিকভাবে অসন্তোষ প্রকাশ করছে এবং যথাযথ প্রক্রিয়ায় ফিফার কাছে অভিযোগ দাখিল করবে। সর্বোত্তম টেকনিক্যাল ও শারীরিক প্রস্তুতির জন্য ইরান জাতীয় দলের প্রতিটি ম্যাচের অন্তত দুই দিন আগে আয়োজক শহরে পৌঁছানো এবং ম্যাচের পরদিন বেজ ক্যাম্পে ফেরা প্রয়োজন।’

ফেডারেশন আরও জানিয়েছে, ম্যাচের ৪৮ ঘণ্টা আগে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি চেয়ে করা আবেদন দুইবার প্রত্যাখ্যাত হয়েছে। এর মধ্যে লস অ্যাঞ্জেলেসে বেলজিয়ামের বিপক্ষে ম্যাচের আগের আবেদনও ছিল। ইরানের দাবি, অতিরিক্ত সময় পেলে খেলোয়াড়রা স্থানীয় পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নিতে, অনুশীলন সম্পন্ন করতে এবং চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিতে পারতেন।

যুক্তরাষ্ট্রে দীর্ঘ সময় অবস্থানের আবেদন নাকচ হওয়ার পর ইরান বর্তমানে মেক্সিকোর তিহুয়ানায় তাদের অনুশীলন চালিয়ে যাচ্ছে। বৃহত্তর নিরাপত্তা উদ্বেগ এবং ইরানকে ঘিরে রাজনৈতিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এই বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।

মার্কিন অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বিভাগের (ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি) একজন মুখপাত্র বিবিসিকে বলেন, ‘ইরান জাতীয় ফুটবল দল এই শর্তগুলো মেনে নিয়েছিল।’

এদিকে হোয়াইট হাউসের ফিফা টাস্কফোর্সের নির্বাহী পরিচালক অ্যান্ড্রু জুলিয়ানি সিবিএস নিউজকে বলেন, ‘দলটিকে ম্যাচের একদিন আগে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে। ম্যাচ শেষ হওয়ার দিন সন্ধ্যাতেই তাদের চলে যেতে হবে। লস অ্যাঞ্জেলেসের ক্ষেত্রেও একই নিয়ম প্রযোজ্য হবে।’

বিষয়টি ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফ্যান্তিনোরও নজরে এসেছে। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ড্রয়ের পর তিনি ইরানের ড্রেসিংরুম পরিদর্শন করেন। ফলে ইরানের উদ্বেগ নিয়ে পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থাটির ওপর চাপ আরও বেড়েছে। ইরানের সামনে এখনো যুক্তরাষ্ট্রে দুটি গুরুত্বপূর্ণ গ্রুপ পর্বের ম্যাচ বাকি রয়েছে- লস অ্যাঞ্জেলেসে বেলজিয়ামের বিপক্ষে এবং সিয়াটলে মিশরের বিপক্ষে।

এফএফআইআরআইয়ের দাবি, বর্তমান ভ্রমণব্যবস্থা দলটিকে প্রতিযোগিতামূলকভাবে পিছিয়ে দিচ্ছে। এখন ফিফার সামনে চ্যালেঞ্জ হলো- টুর্নামেন্টের নিয়মকানুন এবং মার্কিন কর্তৃপক্ষের আরোপিত বিধিনিষেধের মধ্যে ভারসাম্য রেখে কোনো সমাধানের পথ বের করা যায় কি না। ইরানের বিশ্বকাপ অভিযান যত এগোবে, ততই বিষয়টি নিবিড় পর্যবেক্ষণের মধ্যে থাকবে।

পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/173124