এখন কি আমরা বলব—সবার আগে বগুড়া: সংসদে এনসিপির এমপি
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সংসদ সদস্য আতিকুর রহমান মোজাহিদ বলেছেন, নিন্দুকেরা বলে— একসময় বলা হতো সবার আগে গোপালগঞ্জ। এখন কি আমরা বলবো সবার আগে বগুড়া? আমরা এই বাংলাদেশ চাই না। সবার আগে বাংলাদেশ হলে প্রতিটা প্রান্তের মানুষের জন্য সমান ধরনের বাজেট থাকতে হবে।
বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে এসব কথা বলেন তিনি। এসময় সংসদ অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল। বিগত নির্বাচনে বিএনপির স্লোগান ছিল- ‘সবার আগে বাংলাদেশ’।
আতিকুর রহমান মোজাহিদ বলেন, ইদানীং নিন্দুকেরা বলে, নতুন একটা উপজেলার আবির্ভাব ঘটেছে— এটাকে নবাবি উপজেলা বলা হচ্ছে। আমি বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার কথা বলছি। যেখানে অন্যান্য এলাকায় বাজেট পায় না, সেখানে এক উপজেলায় কী এক ক্যারিশম্যাটিং মিরাকল সেখানে ৭৬ কোটি টাকা চলে যায়!
প্রতিরক্ষা খাতে বাজেট বরাদ্দের বিষয়ে তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় যদি প্রতিরক্ষা খাতে যথেষ্ট বরাদ্দ ও অস্ত্র থাকত, আধুনিক অস্ত্র থাকলে আমাদের লোক দিয়ে, একক কর্তৃত্বে স্বাধীনতা অর্জন করতে পারতাম। শহীদ জিয়াউর রহমানকে যুদ্ধের সময় ভারতের পক্ষ থেকে একটা ভাঙা ওয়ারলেস দেওয়া হয়েছিল। রাগ করে ফেলে দিয়ে ভারতীয় কমান্ডোকে তিনি বলেছিলেন- অস্ত্র যখন দিবা, সরঞ্জামদি যখন দিবা, তখন এমন জিনিস দাও, যেটা ফাংশান করে, ডিসফাংশনাল দিও না, এটা আমাদের বাধাগ্রস্ত করে।
প্রতিরক্ষা খাতে ৪২ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাবের কথা তুলে ধরে এনসিপির এ সংসদ সদস্য বলেন, যার মধ্যে ৩৫ হাজার কোটি টাকাই পরিচালন ব্যয়। বাকি সাত হাজার কোটি টাকা দিয়ে কি আমাদের প্রতিরক্ষা হবে?
প্রতিরক্ষার আধুনিক অস্ত্র দিয়ে দেশের মানুষের নিরাপত্তা দেওয়ার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, প্রতিদিন আমাদের বিভিন্ন সীমান্ত থেকে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এ বাজেটে প্রতিরক্ষা খাতে তেমন বরাদ্দ দেওয়া হয়নি। আমাদের মিয়ানমার সীমান্তে (মিয়ানমারের অভ্যন্তরে) যুদ্ধ চলমান। পার্বত্য তিনটি জেলায় তিনটা বিদ্রোহী গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে, কুকি চিনের বিরুদ্ধে আর্মির দুটি ডিভিশন কাজ করছে।
এসময় আকাশ ও নৌ প্রতিরক্ষায় আধুনিক সরঞ্জাম প্রয়োজন বলেও উল্লেখ করেন আতিকুর রহমান মোজাহিদ। তিনি বলেন, ভারত জিডিপির ২ দশমিক ৫ শতাংশ বরাদ্দ দেয়, মিয়ানমার জিডিপির ৩ দশমিক ৫ শতাংশ বরাদ্দ দেয়। পৃথিবীর সব দেশে গড়ে ২ দশমিক ২ শতাংশ বাজেট বরাদ্দ দেয়। কিন্তু আমাদের সেটা নেই। এই আজাদি ভূমিকে রক্ষার জন্য যদি এক বেলা না খেয়েও থাকতে হয়, স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষার স্বার্থে প্রতিরক্ষা খাতে যেন বেশি বরাদ্দ দেওয়া হয়। কারণ, প্রতিনিয়ত আমাদের সীমান্ত হুমকির মুখে আছে। আমাদের সবার দেশ রক্ষা করতে হবে।
পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/173040