বগুড়ার নন্দীগ্রামে জন্মনিয়ন্ত্রণ উপকরণ সংকট, বিপাকে সেবাগ্রহীতারা

বগুড়ার নন্দীগ্রামে জন্মনিয়ন্ত্রণ উপকরণ সংকট, বিপাকে সেবাগ্রহীতারা

নন্দীগ্রাম (বগুড়া) প্রতিনিধি : বগুড়ার নন্দীগ্রাম উপজেলায় দীর্ঘদিন ধরে জন্মনিয়ন্ত্রণ উপকরণের সংকট দেখা দেওয়ায় বিপাকে পড়েছেন সেবাগ্রহীতারা। কনডম, জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ি, ইনজেকশন ও অন্যান্য উপকরণ সরবরাহ না থাকায় পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। বিনামূল্যে সেবা না পেয়ে অনেকেই বাজার থেকে কিনে ব্যবহার করছেন। এতে নিম্ন আয়ের মানুষের ওপর বাড়তি আর্থিক চাপ সৃষ্টি হয়েছে।

উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত আট মাস ধরে কনডম, বড়ি, ইনজেকটেবল ও অন্যান্য জন্মনিয়ন্ত্রণ উপকরণের সরবরাহ নেই। বর্তমানে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র এবং পরিবার পরিকল্পনা সেবা কেন্দ্রে এসব উপকরণের মজুদ শেষ হয়ে গেছে।

ফলে মাঠপর্যায়ে কর্মরত পরিবার কল্যাণ সহকারী ও পরিদর্শকদের নিয়মিত সেবা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এই উপজেলায় সক্ষম দম্পত্তির সংখ্যা ৪৩ হাজার ৪৮০ জন এর মধ্যে প্রায় ৩৪ হাজার ৪৭০ জন দম্পতি পরিবার পরিকল্পনা কার্যক্রমের আওতায় রয়েছেন।

প্রতি মাসে গড়ে ৩ হাজার ৪৮২ জন নারী ইনজেকশন পদ্ধতি গ্রহণ করেন। এছাড়া মাসে প্রায় ২ হাজার ৫৬৬ জন কনডম গ্রহীতা এবং খাবার বড়ি গ্রহীতা রয়েছে ২ হাজার ১৫৭ জন। দীর্ঘদিন সরবরাহ বন্ধ থাকায় অনেক সেবাগ্রহীতা প্রয়োজনীয় উপকরণ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নারী সেবাগ্রহীতা বলেন, আগে পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের মাধ্যমে বিনামূল্যে বড়ি ও কনডম পেতাম।

কিন্তু কয়েক মাস ধরে কিছুই পাওয়া যাচ্ছে না। তাই বাধ্য হয়ে ফার্মেসি থেকে কিনে আনতে হচ্ছে। এতে প্রতি মাসে অতিরিক্ত খরচ করতে হচ্ছে। আরেকজন পুরুষ সেবাগ্রহীতা বলেন, আগে বিনামূল্যে কনডম পাওয়া যেত।

এখন বাজার থেকে কিনতে হচ্ছে। নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য এটি বাড়তি চাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে। নন্দীগ্রাম সদর ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের পরিবার কল্যাণ পরিদর্শক ফাহিমা খাতুন বলেন, উপকরণ না থাকায় অনেক সেবাগ্রহীতাকে ফিরে যেতে হচ্ছে।

দ্রুত সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে পরিবার পরিকল্পনা কার্যক্রমে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। পরিবার কল্যাণ সহকারী তামান্না আক্তার বলেন, মাঠপর্যায়ে গিয়ে সেবাগ্রহীতাদের চাহিদা অনুযায়ী উপকরণ দিতে না পারায় বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়তে হচ্ছে। অনেকেই অসন্তোষ প্রকাশ করছেন।

এ বিষয়ে উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) ডা. এসএম শফিকুর রহমান সজীব বলেন, জন্মনিয়ন্ত্রণ উপকরণ সরবরাহের বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। দ্রুত সরবরাহ স্বাভাবিক হবে বলে আশ্বাস পাওয়া গেছে। তবে মা ও শিশু স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম যথারীতি চালু রয়েছে এবং এ সংক্রান্ত সেবায় কোনো সমস্যা হচ্ছে না।

পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/172955