বগুড়ার সারিয়াকান্দির চরাঞ্চল থেকে অপহৃত ৪ মহিষের রাখাল অবশেষে উদ্ধার

বগুড়ার সারিয়াকান্দির চরাঞ্চল থেকে অপহৃত ৪ মহিষের রাখাল অবশেষে উদ্ধার

সারিয়াকান্দি (বগুড়া) প্রতিনিধি : দীর্ঘ ৭ দিন পরে বগুড়া সারিয়াকান্দির চরাঞ্চল থেকে অপহরণ হওয়া ৪ জন রাখাল অবশেষে উদ্ধার হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার রাতে সিরাজগঞ্জের নৌঘাটে তাদের  রেখে গেছে অজ্ঞাত নৌকা। বিষয়টি নিশ্চিত করে, সেখান থেকে তাদের উদ্ধার করে সিরাজগঞ্জ নৌ থানার হেফাজতে রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছে সিরাজগঞ্জ নৌ পুলিশ।

উল্লেখ্য যে, গত ১১ জুন বৃহস্পতিবার বগুড়া সারিয়াকান্দি উপজেলার চালুয়াবাড়ী ইউনিয়নের একটি চরের মহিষের বাথান থেকে ৪ জন রাখালকে অপহরণ করে নিয়ে যায় অজ্ঞাত ব্যক্তিরা। অপহরণের শিকার রাখালরা হলো নাটোর জেলার লালপুর উপজেলার বিলবাড়িয়া গ্রামের মৃত ইনসার মন্ডলের ছেলে ইউনুস মন্ডল (৫০), মৃত মোহাম্মদ মন্ডলের ছেলে মফের মন্ডল (৪০), লালপুর ইউনিয়নের চকবাদিকুল পাড়া গ্রামের কুদ্দুস মন্ডলের ছেলে মাসুদ মন্ডল (৩২), এবং বিলবাড়িয়া মহড়কয়া গ্রামের মাজেদ মন্ডলের ছেলে ফারুক মন্ডল (৪২)।

তারা প্রতিদিনের মতো মহিষের দেখাশোনা শেষে রাতে ঘুমিয়ে পরেন। রাত দেড়টার দিকে বাথানে একটি নৌকাযোগে ১০ থেকে ১২ জন যুবক অস্ত্রসজ্জিত হয়ে বাথানে প্রবেশ করে। বাথানে এসে তারা উল্লেখিত রাখালদের হাত পা এবং চোখ বেঁধে ফেলে। পরে বাথানের অপর রাখালরা চিৎকার শুরু করলে আশেপাশের লোকজন এগিয়ে আসেন। পরে অজ্ঞাত যুবকরা দ্রুত ওই ৪ জন রাখালকে নৌকায় তুলে নিয়ে পালিয়ে যায়। এ বিষয়ে বাথান কর্তৃপক্ষ সারিয়াকান্দি থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

তারপর থেকে রাখালদের উদ্ধারে নানা অভিযান পরিচালনা করেও তাদের কোনও খোঁজখবর পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে দৈনিক করতোয়া পত্রিকায় "সারিয়াকান্দির চরে মহিষের বাথান থেকে ৪ রাখালকে অপহরণ" এবং পরবর্তীতে "কি ঘটেছে সারিয়াকান্দির চরাঞ্চল থেকে অপহৃত চার রাখালের ভাগ্যে" শিরোনামে দুটি সংবাদ প্রকাশিত হয়।

বিষয়টি নিশ্চিত করে সিরাজগঞ্জ সদর নৌ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম বলেন, এ সংক্রান্ত মামলার উপর ভিত্তি করে আমাদের নৌ পুলিশের একাধিক দল নিখোজ রাখালদের উদ্ধার করতে কাজ করেছে। এরপর গতকাল মঙ্গলবার রাত ১০ টার দিকে অজ্ঞাত নৌকাযোগে তাদের যমুনা নদীর সিরাজগঞ্জ মতিন সাহেবের ঘাটে রেখে যাওয়া হয়েছে। সংবাদ পেয়ে তাদের সেখান থেকে উদ্ধার করে সিরাজগঞ্জ সদর নৌ থানার হেফাজতে রাখা হয়েছে।

পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/172935