ডিম টাটকা না কয়েক দিনের পুরোনো সহজে বুঝবেন যেভাবে
ডিমকে বলা হয় প্রোটিনের অন্যতম সেরা উৎস। সকালের নাস্তা থেকে শুরু করে দুপুর বা রাতের খাবারে প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় ডিমের উপস্থিতি প্রায় অপরিহার্য। সহজলভ্য, পুষ্টিকর এবং বহুমুখী এই খাবারটি শিশু থেকে বয়স্ক সবার কাছেই সমান জনপ্রিয়। তবে সমস্যা হলো, ডিম বাইরে থেকে দেখে বোঝা খুব কঠিন যে সেটি টাটকা নাকি বেশ কয়েক দিনের পুরোনো।
বাজারে ডিম কিনতে গিয়ে অনেক সময় এমন ডিম কিনে ফেলি, যা বাসায় এনে ভাঙার পর দেখা যায় নষ্ট হয়ে গেছে। এতে যেমন খাবার নষ্ট হয়, তেমনি অর্থেরও অপচয় ঘটে। আবার দোকানে দাঁড়িয়ে ডিম ভেঙে পরীক্ষা করাও সম্ভব নয়। তাই কিছু সহজ কৌশল জানা থাকলে ডিম কেনার সময়ই তার সতেজতা সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়।
শুধু তারিখ দেখে নয়
অনেকেই ডিমের কার্টনে লেখা তারিখ দেখে সিদ্ধান্ত নেন ডিম ভালো না খারাপ। কিন্তু এই তারিখ সবসময় ডিমের সতেজতার সঠিক নির্দেশক নয়। অনেক ক্ষেত্রে সেখানে প্যাকেজিং বা বাজারজাত করার তারিখ লেখা থাকে, ডিম পাড়ার তারিখ নয়। ফলে তারিখ দেখে ডিমের প্রকৃত বয়স বোঝা কঠিন হতে পারে। বিশেষ করে খোলা ট্রে বা কার্টন থেকে বিক্রি হওয়া ডিমের ক্ষেত্রে বিষয়টি আরও জটিল। তাই ডিমের গুণগত মান যাচাই করতে কয়েকটি সহজ পদ্ধতি জানা প্রয়োজন।
পানিতে ভাসানোর সহজ পরীক্ষা
ডিম টাটকা কি না তা জানার সবচেয়ে জনপ্রিয় উপায় হলো ‘ফ্লোট টেস্ট’ বা পানিতে ভাসানোর পরীক্ষা। এর জন্য একটি গভীর বাটিতে ঠান্ডা পানি নিন। এরপর ডিমটি ধীরে পানির মধ্যে ছেড়ে দিন। যদি ডিমটি একেবারে তলিয়ে গিয়ে পাশ ফিরে শুয়ে থাকে, তাহলে বুঝবেন সেটি টাটকা। যদি ডিমটি নিচে গিয়ে সোজা দাঁড়িয়ে থাকে বা সামান্য কাত হয়ে থাকে, তাহলে সেটি কিছুটা পুরোনো। তবে সাধারণত এমন ডিম খাওয়ার জন্য নিরাপদ থাকে। শুধু দ্রুত ব্যবহার করে ফেলা ভালো। আর যদি ডিমটি পানির ওপরে ভেসে ওঠে, তাহলে সেটি না খাওয়াই ভালো। কারণ এমন ডিম সাধারণত অনেক পুরোনো হয় এবং নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে।
ডিম ভাঙার পর যেভাবে বুঝবেন
ডিম ভাঙার পরও এর সতেজতা সহজে বোঝা যায়। টাটকা ডিমের সাদা অংশ ঘন ও কিছুটা আঠালো ধরনের হয়। কুসুম থাকে উঁচু ও গোলাকার। অন্যদিকে পুরোনো ডিমের সাদা অংশ অনেক বেশি পাতলা এবং ছড়িয়ে পড়ে। কুসুমও চ্যাপ্টা দেখায়। যদি ডিম ভাঙার পর সাদা অংশ খুব বেশি পানির মতো হয়ে যায়, তাহলে সেটি বেশ পুরোনো হওয়ার ইঙ্গিত।
দুর্গন্ধ হলো সতর্কবার্তা
ডিম নষ্ট হয়েছে কি না তা বোঝার সবচেয়ে সহজ উপায় হলো গন্ধ। ডিম ভাঙার সঙ্গে সঙ্গে যদি তীব্র পচা বা সালফারের মতো গন্ধ বের হয়, তাহলে সেটি সঙ্গে সঙ্গে ফেলে দেওয়া উচিত। এমন ডিম কখনোই খাওয়া নিরাপদ নয়।
ডিম সংরক্ষণের সঠিক নিয়ম
ডিম দীর্ঘদিন ভালো রাখতে চাইলে সংরক্ষণের দিকেও নজর দিতে হবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ডিম সবসময় ফ্রিজে রাখা উচিত। সম্ভব হলে ডিম তার মূল কার্টনের মধ্যেই সংরক্ষণ করুন। এতে তাপমাত্রার ওঠানামা কম হয় এবং ডিমের গুণগত মান দীর্ঘদিন বজায় থাকে।
ডিম পুষ্টিকর হলেও তা সঠিকভাবে বেছে নেওয়া এবং সংরক্ষণ করা জরুরি। কয়েকটি সহজ কৌশল জানলেই বাজার থেকে টাটকা ডিম কিনে আনা সম্ভব। তাই পরেরবার ডিম কেনার আগে এই টিপসগুলো মনে রাখুন, আর নিশ্চিত করুন আপনার খাবারের পাতে থাকছে নিরাপদ ও সতেজ ডিম।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান, হ্যালো ফ্রেশ, মিল্ক অ্যান্ড মোর ও অন্যান্য
পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/172907