পাবনার বেড়ার চরে চিনাবাদামের বাম্পার ফলন ৫ হাজার টাকা মণ দরে বিক্রি
বেড়া (পাবনা) প্রতিনিধি: পাবনার বেড়া উপজেলার যমুনা বেষ্টিত চরাঞ্চল দীর্ঘদিন ধরেই চিনাবাদাম চাষের জন্য সুপরিচিত। এখানকার বেলে-দোআঁশ মাটি এবং অনুকূল আবহাওয়া চিনাবাদাম উৎপাদনের জন্য বিশেষভাবে উপযোগী। উৎপাদন খরচের তুলনায় লাভ বেশি হওয়ায় এ ফসল চাষে দিন দিন আগ্রহী হচ্ছেন চাষিরা। এতে করে চরাঞ্চলের বিস্তীর্ণ জমিতে চিনাবাদামের আবাদ আরও সম্প্রসারিত হচ্ছে।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে বেড়া উপজেলায় ১ হাজার ৫৬৫ হেক্টর জমিতে চিনাবাদাম চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। অনুকূল আবহাওয়ার কারণে অধিকাংশ ক্ষেতেই কৃষকরা আশানুরূপ ফলন পেয়েছেন।
চর নাগদাহ গ্রামের কৃষক ও ইউপি সদস্য জাহিদ মোল্লা বলেন, তিনি এ বছর ৫ বিঘা জমিতে চিনাবাদাম চাষ করেছিলেন। বীজ বপণের পর খরায় কিছু গাছ ক্ষতিগ্রস্ত হলেও পরবর্তীতে বৃষ্টিপাতে ভালো ফলন পাওয়া গেছে। বর্তমানে ভেজা বাদাম প্রতি মণ ৪ হাজার থেকে সাড়ে ৪ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পেচাকোলা গ্রামের কৃষক আমিন মণ্ডল জানান, ১০ বিঘা জমিতে চিনাবাদাম আবাদ করেছেন।
বিঘাপ্রতি গড় ফলন ৬ থেকে ৭ মণ হয়েছে। বর্তমানে শুকনা বাদাম প্রতি মণ ৫ থেকে ৬ হাজার টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। উৎপাদন খরচ বাদ দিয়েও ভালো লাভ থাকবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কৃষকরা জমি থেকে বাদাম গাছ তুলে খোলা জায়গায় এনে স্তূপ করে রাখছেন। নারী শ্রমিকরা গাছ থেকে চিনাবাদাম আলাদা করার কাজে ব্যস্ত।
সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত দলবদ্ধভাবে বাদাম ছাড়ানোর কাজ করছেন তারা। এদিকে হাট-বাজার ও আড়তগুলোতেও নতুন মৌসুমের চিনাবাদামের বেচাকেনা বেড়ে গেছে। সরাসরি পাইকার ও ব্যবসায়ীদের কাছে বাদাম বিক্রি হওয়ায় লাভবান হচ্ছেন চাষিরা।
পেচাকোলা গ্রামের জুলেখা, আমেনা ও মনজেলাসহ নারী শ্রমিকরা বলেন, প্রতিদিন বাদাম ছাঁড়ানোর কাজ করে টাকার পাশাপাশি বাদাম গাছও পারিশ্রমিক হিসেবে নেন তারা। শুকনো গাছগুলো বাড়িতে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার হয়। বাদামের এই মৌসুমে বাড়তি আয় করে সংসারের বিভিন্ন চাহিদা পূরণ হয়।
বেড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নুসরাত কবীর বলেন, এ বছর কৃষকদের উন্নতমানের বীজ, সার, প্রণোদনাসহ প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। যে কারণে এ বছর বাদামের আবাদ ভালো হয়েছে। বর্তমানে বাজারে চিনাবাদামের দামও বেশ ভালো।
পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/172845