বগুড়ায় অবৈধ অটোরিকশার কারণেই যানজট বাড়ছে, লাইসেন্স দেয়ার সিদ্ধান্ত
স্টাফ রিপোর্টার: বগুড়া মহানগরে যানজট বাড়াচ্ছে ব্যাটারি চালিত অটোরিকশাসহ অবৈধ যানবাহন। মহানগরে লক্ষাধিক যানবাহন চলাচল করলেও এরমধ্যে প্রায় অর্ধলাখ যানবাহনই অবৈধভাবে চলাচল করে। তবে যানজট কমাতে বগুড়া সিটি কর্পোরেশন অটোরিকশার লাইসেন্স দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
সিদ্ধান্ত অনুযায়ী উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ব্যাটারি চালিত অটোরিকশার লাইসেন্স দেয়া হবে। গতকাল সোমবার বগুড়া সিটি কর্পোরেশন কার্যালয়ে এক সভায় এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করে সিটি কর্পোরেশন এর প্রশাসক এম.আর. ইসলাম স্বাধীন বলেন, বগুড়া মহানগরে প্রতিদিন যে যানজট হয় তার প্রধান কারন অবৈধ ব্যাটারি চালিত অটোরিকশা।
তিনি বলেন, এই মহানগরে ৩০ থেকে ৪০ হাজারের মত ব্যাটারি চালিত অটোরিকশা চলে। এগুলো অবৈধ যানবাহন। তাই যানজট নিয়ন্ত্রণে প্রথম পর্যায়ে ৮ থেকে ১০ হাজার অটোরিকশাকে লাইসেন্স দিয়ে সিটি কর্পোরেশনের আওতায় আনা হবে।
পরবর্তী সময়ে প্রযোজন হলে আরও লাইসেন্স দেওয়া হবে, না হলে নয়। তিনি বলেন, লাইসেন্স এমন করা হবে যাতে এ আই প্রযুক্তিতেও নকল করা সম্ভব না হয়। তিনি বলেন, যে অটোরিকশার লাইসেন্স থাকবে সেই অটোরিকশাকে মহানগরের ভিতরে প্রবেশ করতে দেয়া হবে।
তবে যে অটোরিকশার লাইসেন্স থাকবে না সেই অটোরিকশাকে বাইর থেকে মহানগরের জিরো পয়েন্ট সাতমাথাসহ মহানগরের অভ্যন্তরে প্রবেশ করতে দেয়া হবেনা। এতে যানজট কমবে বলে তিনি জানান। তিনি আরো বলেন, ফুটপাতও দখলমুক্ত করা হবে। আগামী সপ্তাহ থেকে ফুটপাত দখলমুক্ত করতে হকার উচ্ছেদ অভিযান শুরু করা হবে।
এদিকে, শুধু অটোরিকশার কারণেই নয়, মহানগরের বুক চিড়ে যাওয়া রেলথের চারটি গেইট বেরিয়ার, সিএনজি চালিত অটোরিকশা, ইজিবাইক ও অন্যান্য যানবাহনও যানজটের অন্যতম কারণ। বগুড়া মহানগরে সেলিম হোটেল সংলগ্ন ১ নম্বর রেলঘুমটি, কবি নজরুল ইসলাম সড়কে থানা মোড়ের কাছে ২ নম্বর রেলঘুমটি, রাজাবাজার সংলগ্ন ৩ নম্বর রেলঘুমটি এবং বগুড়া সরকারি আজিজুল হক কলেজ নতুন ভবনের সামনে কামারগাড়ী মোড়ে রেলঘুমটিতে রয়েছে চারটি রেলক্রসিং।
প্রধানতঃ এই চার রেলক্রসিংয়ের জন্য যানজট হচ্ছে মহানগরে। যানজটে আটকা পড়ে মানুষের দিনে গড়ে নষ্ট হচ্ছে ২ ঘণ্টা ৪০ মিনিট কর্মঘণ্টা এই তথ্য জানিয়েছেন, বগুড়া সদর ট্রাফিক বিভাগের ইনচাদর্জ টিআই (প্রশাসন) সালেকুজ্জামান খান।
বগুড়া রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার মো: সাজেদুর রহমান সাজু বলেন, ২৪ ঘণ্টায় ওই চারটিসহ অন্যান্য রেলক্রসিং দিয়ে আন্তঃনগর ১০টিসহ মোট ১৬টি ট্রেন চলাচল করে। এই ট্রেনগুলো চলাচলের সময় দুর্ঘটনারোধে গেইট বেরিয়ারগুলো ৮ থেকে ১০ মিনিট করে বন্ধ করে রাখা হয়।
ট্রেন চলে গেলে গেইট বেরিয়ার খুলে দেওয়া হয়। রেলের নিয়ম অনুয়ায়ী এটা করা হয়। তবে সরকার যানজট নিয়ন্ত্রণে মহানগরের মধ্যে মেট্রোরেলের আদলে রেললাইন উপর দিয়ে যাবে। ফলে রেলঘুমটিতে আর আটকে থাকতে হবেনা।
যানজটে আটকা পড়া অনেক ভুক্তভোগী বলেন, শুধু রেলক্রসিংয়ের জন্যই নয়, আরো নানা কারণে শহরে যানজট হচ্ছে। সড়কের একাংশ দখল করে সিএনজিচালিত অটোরিকশা, ইজিবাইক, পিকআপ স্ট্যান্ড স্থাপন, অবৈধভাবে গাড়ি পার্কিং, ফুটপাত দখল, রাস্তা দখল করে হকারদের অবৈধ দোকান স্থাপনসহ নানা কারণে শহরে যানজট হচ্ছে।
বিশেষ করে মহানগরের জিরো পয়েন্ট সাতমাথা, কবি নজরুল ইসলাম সড়ক, থানা মোড়, বড়গোলা, টিনপট্টি, চাঁদনী বাজার (কাঠালতলা), ফতেহ আলী মোড়, চেলোপাড়া, শেরপুর রোডে, ইয়াকুবিয়া স্কুল ও কলেজ মোড়ে, গোহাইল রোড়ে, স্টেশন রোড, জলেশ্বরীতলা, কালিবাড়ী মোড়, কামারগাড়ী রেল ঘুমটি, সেউজগাড়ী আমতলা মোড়, পুরান বগুড়া তিনমাথা ও চারমাথা এলাকায় প্রায় প্রতিদিনই যানজটে পড়ে নাকাল হন সাধারণ মানুষ।
বগুড়া সদর ট্রাফিক বিভাগের ইনচার্জ ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (টিআই, প্রশাসন) মো: সালেকুজ্জামান খান আরো বলেন, প্রধানত: ওই চারটি রেলক্রেসিংয়ের কারণে যানজট বাড়ছে। বিশেষ করে ট্রেন চলাচলের সময় যখন গেইট বেরিয়ার বন্ধ করা হয় তখন যানজট হয় তীব্র।
যানজটে আটকা পড়ে যায় যানবাহন। এভাবে দিনে ১৬টি ট্রেন চলচলের সময় যানজট বাড়ে। এতে দুর্ভোগে পোহাতে হয় জন সাধারণকে। এই মহানগরে ধারণ ক্ষমতার চেয়ে তিনগুণ বেশি যানবাহন চলে। বগুড়া মহানগরে ৪০-৫০ হাজার যানবাহন চলাচলের ধারণ ক্ষমতা থাকলেও এখন চলাচল করে লক্ষাধিক। এর মধ্যে আবার প্রায় অর্ধলাখ যানবাহনের কোন বৈধ কাগজপত্র নেই বলেও তিনি জানান।
তিনি বলেন, প্রতিদিনই নতুন নতুন অটোরিকশাসহ বিভিন্ন যানবাহন রাস্তায় নামানো হচ্ছে। এসব যানবাহনের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নেই। অবৈধ যানবাহনই যানজট বাড়াচ্ছে। তিনি বলেন,অবৈধ যানবাহনের চালকের বিরুদ্ধে মামলা ও জরিমানা আদায় করে যানজট নিয়ন্ত্রনের চেষ্টা করা হচ্ছে।
পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/172840