জয়পুরহাটের কালাইয়ে চাতাল ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে রাস্তার গাছ কাটার অভিযোগ
কালাই (জয়পুরহাট) প্রতিনিধি : জয়পুরহাটের কালাইয়ে সরকারি রাস্তায় সুফলভোগীদের লাগানো ৮টি ইউক্যালিপটাস গাছ কাটার অভিযোগ ওঠেছে চাতাল ব্যবসায়ী শামসুল ইসলামের বিরুদ্ধে। গতকাল সোমবার দুপুর ১ টার দিকে পৌরশহরের মুলগ্রাম-হাটশেখা রাস্তায় এই ঘটনা ঘটেছে।
স্থানীয় লোকজন, উপজেলা প্রশাসন ও বনবিভাগ সূত্রে জানা যায়, ১৪-১৫ বছর আগে স্থানীয় বনবিভাগের সহযোগিতায় রুপায়ন কৃষক সমবায় সমিতির সুফলভোগীরা রাস্তার দুই পাশে ইউক্যালিপটাসসহ বিভিন্নজাতের গাছ লাগান। গাছগুলো ইতোমধ্যে বড় হয়ে কাটার উপযোগী হয়েছে।
মূলগ্রাম-হাটশেখা রাস্তার কোলঘেঁষে কালাই পৌরশহরের হুমায়ুন তালুকদারের অটোরাইচ মিল এলাকায় বসত বাড়ি ও ব্যবসা-প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন চাতাল ব্যবসায়ী শামসুল ইসলাম। বাড়ির পিছনে রাস্তার পাশে সরকারি জায়গায় থাকা সুফলভোগীদের মোট ৮টি ইউক্যালিপটাস গাছ সোমবার সকালে কেটে ফেলেন চাতাল ব্যবসায়ী শামসুল ইসলাম। গাছগুলো কাটার পর দ্রুত ট্রাকে করে নিয়েও যান তিনি।
এরপর দুপুরের দিকে বেশকয়েকটি গুল রাস্তার পাশে পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়লোকজন উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে খবর দেন। পরে উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) আব্দুল্লাহ আল মাহবুব ঘটনাস্থলে গিয়ে গাছের বেশকিছু গুড়ি জব্দ করেন।
চাতাল ব্যবসায়ী শামসুল ইসলামকে ঘটনাস্থলে না পেয়ে তার ছেলেকে অফিসে নিয়ে আসেন। ৮টি গাছের আনুমানিক মূল্য লক্ষাধীক টাকা। পরে বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে কর্তনকৃত গাছগুলো যে অবস্থায় আছে তার ওপর মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেন।
রুপায়ন কৃষক সমবায় সমিতির সভাপতি রেজাউল ইসলাম বলেন, গাছগুলো সমিতির, অথচ গাছগুলো কেটেছে চাতাল ব্যবসায়ী শামসুল। নিজের জায়গায় গাছ দাবি করে তিনি কেটেছেন। গাছ কাটার সময় বাঁধাও দিয়েছি, তাও শোনেনি। সুফলভোগীরদের মারপিট করতে এলে আমরা প্রশাসনকে অবগত করেছি। তিনি আরও বলেন, প্রশাসন আসার আগেই অধিকাংশ গাছের গুল ট্রাকে করে নিয়ে গেছে।
বগুড়া রেঞ্জের কালাই বনবিভাগের বন প্রহরী ইয়াসির আরাফাত বলেন, আসলে সুফল ভোগীদের গাছ তদারকি করার দায়িত্ব আমাদের নয়, বিক্রির সময় শুধুমাত্র বনবিভাগ দর নির্ধারন করে দেয়। এর বাইরে কোনো কাজ নেই। তবে ওই রাস্তার গাছ কাটার কথা শোনার পর সাথে সাথে ইউএনওকে অবগত করেছি।
অভিযুক্ত শামসুল ইসলামের ছেলে গোলাম রব্বানী বলেন, জায়গা ও গাছ উভয় আমাদের, তাই আমরা গাছগুলো কেটেছি। এখন সুফলভোগীরা অযাচিত গাছগুলো সমিতির বলে দাবি করছে। জায়গার দলিলপত্র দেখিয়ে এবং কর্তৃনকৃত গাছ না সড়ানো শর্তে মুচলেকা দিয়ে উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) অফিস থেকে চলে আসছি।
উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) আব্দুল্লাহ আল মাহবুব বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে কর্তৃনকৃত গাছগুলো জব্দ করা হয়েছে। ঘটনাস্থলে অভিযুক্ত চাতাল ব্যবসায়ীকে না পেয়ে তার ছেলেকে অফিসে এনে কর্তৃনকৃত গাছগুলো না সড়ানো ও আর কোনো নতুন গাছ কর্তন না করার শর্তে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে অবগত করা হয়েছে।
পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/172702