বগুড়ার সোনাতলায় যমুনার ভাঙন : বিলীনের পথে একের পর এক গ্রাম
সোনাতলা (বগুড়া) প্রতিনিধি: বগুড়ার সোনাতলা উপজেলায় যমুনা নদীর তীব্র ভাঙন কিছুতেই থামছে না। বছরের পর বছর ধরে চলা এই ভাঙনে নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে শত শত ঘরবাড়ি, গাছপালা ও ফসলি জমি। ভাঙন ঠেকাতে পানি উন্নয়ন বোর্ড জিও ব্যাগ (বালুভর্তি বস্তা) ফেললেও তা কোনো কাজে আসছে না বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। ভুক্তভোগী মানুষের এখন একটাই দাবি নদী ভাঙন রোধে অনতিবিলম্বে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ করা হোক।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোনাতলা উপজেলায় যমুনার এই করাল গ্রাস চলছে প্রায় ২০-২৫ বছর ধরে। প্রতি বছর বর্ষা মৌসুম এলেই ভাঙনের তীব্রতা বাড়ে। দীর্ঘ দুই দশকেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ স্থায়ী কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় ইতিমধ্যেই উপজেলার খাবুলিয়া, জন্তিয়ারপাড়া, দাউদিয়ারপাড়া, সরলিয়া, মহব্বতেরপাড়া, ভিকনেরপাড়া, খাটিয়ামারি ও পূর্ব সুজাইতপুর এলাকা মানচিত্র থেকে হারিয়ে যেতে বসেছে।
নদীপাড়ে দাঁড়িয়ে নিজেদের চরম অসহায়ত্বের কথা জানান খাবুলিয়া এলাকার ৯০ বছর বয়সী রহিমা বেগম, ৭৫ বছরের ইশারত আকন্দ ও ৯৫ বছরের ফিরোজা বেগম। তারা বলেন, চোখের সামনে বাপ-দাদার ভিটেমাটি নদীর পেটে চলে গেল। এমনকি যেখানে পূর্বপুরুষদের কবর দেওয়া হয়েছিল, আজ তারও কোনো চিহ্ন নেই। এভাবে বছরের পর বছর ভাঙন চলতে থাকলে একদিন এই বিশাল এলাকা মানচিত্র থেকে চিরতরে নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে।
ভাঙন কবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য আলহাজ্ব কাজী রফিকুল ইসলাম। পরিদর্শন কালে তিনি নদীপাড়ের ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের খোঁজখবর নেন এবং দ্রুত ভাঙন রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে বগুড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী মাহমুদ হাসান বলেন, নদী ভাঙন ঠেকাতে জরুরি ভিত্তিতে কিছু কিছু ঝুঁকিপূর্ণ জায়গায় জিও ব্যাগ ফেলা হচ্ছে। স্থায়ী সমাধানের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে পরিকল্পনা জানানো হয়েছে।
পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/172644