যুদ্ধ অবসানের চুক্তি হলে খুলে দেওয়া হবে হরমুজ প্রণালি : ইরান

যুদ্ধ অবসানের চুক্তি হলে খুলে দেওয়া হবে হরমুজ প্রণালি : ইরান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান সংঘাতের অবসান ঘটাতে একটি চুক্তি খুব কাছাকাছি পৌঁছেছে এবং সেই চুক্তির অংশ হিসেবে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আরাঘচি বলেন, সম্ভাব্য চুক্তিতে ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত নৌ অবরোধ প্রত্যাহারের বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তবে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা পরবর্তী পর্যায়ে শুরু হবে। খবর : বিবিসি। 

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার মাধ্যমে সংঘাত শুরু হয়। এর জবাবে ইরান ইসরায়েল এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোর বিরুদ্ধে হামলা চালায়। একই সঙ্গে কার্যত বন্ধ করে দেয় বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালি, যার মাধ্যমে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) পরিবাহিত হয়। এপ্রিল মাসে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও উভয় পক্ষের মধ্যে বিচ্ছিন্ন হামলা-পাল্টা হামলা অব্যাহত রয়েছে।

মার্কিন কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, সমঝোতা স্মারকে (এমওইউ) রয়েছে-হরমুজ প্রণালী পুনরায় উন্মুক্ত করা, ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ তুলে নেওয়া, ৬০ দিনের আলোচনার মাধ্যমে উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম ইস্যুর সমাধান, ইরানের ওপর আরোপিত কিছু নিষেধাজ্ঞা ধীরে ধীরে প্রত্যাহার, নির্দিষ্ট শর্ত পূরণের ভিত্তিতে ইরানের জব্দকৃত সম্পদ ধাপে ধাপে মুক্ত করা এবং মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর অর্থায়ন বন্ধ করা। তবে যুক্তরাষ্ট্র স্পষ্ট করেছে যে কোনো অর্থ বা সম্পদ আগাম মুক্ত করা হবে না। ইরান তার প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করলে তবেই অর্থনৈতিক সুবিধা দেওয়া হবে।

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সমঝোতা স্মারকের খসড়া চূড়ান্ত হয়েছে এবং এখন কেবল আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষরের অপেক্ষা। আলোচনায় পাকিস্তানের পাশাপাশি কাতারও মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে। আরাঘচি বলেন, ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের মধ্যে চুক্তি নিয়ে সমর্থক ও বিরোধী-উভয় পক্ষই রয়েছে। তবে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। আরাঘচি বলেন, আলোচনার শেষ ধাপ সম্পন্ন হলেই চুক্তি স্বাক্ষর ও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হবে। এটি আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই হতে পারে। আমি অত্যন্ত আশাবাদী।

ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী দাবি করেন, সম্ভাব্য চুক্তিতে লেবাননে ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর সংঘাত বন্ধের বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তবে মার্কিন সূত্রগুলো আগে জানিয়েছিল, লেবানন ইস্যু এই চুক্তির অংশ নাও হতে পারে।

অন্যদিকে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, উত্তর ইসরায়েলে হামলা অব্যাহত থাকলে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে যাবে ইসরায়েল।

যুক্তরাষ্ট্র, ইরান, পাকিস্তান ও কাতার—সব পক্ষ থেকেই ইতিবাচক ইঙ্গিত মিললেও এখনও কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সমঝোতা বাকি রয়েছে। গত কয়েক মাসেও একাধিকবার চুক্তি হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হলেও শেষ মুহূর্তে তা ভেস্তে গেছে। তবে এবার উভয় পক্ষই আলোচনার বিষয়বস্তু নিয়ে আগের তুলনায় বেশি খোলামেলা অবস্থান নিয়েছে, যা সম্ভাব্য সমঝোতার পথকে আরও সুগম করেছে।

 

পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/172440