বাজেট বড় হলেও বাস্তবায়ন সম্ভব : এফবিসিসিআই
আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ঘোষিত ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটকে ‘বড় হলেও বাস্তবায়নযোগ্য’ বলে অভিহিত করেছে দেশের ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন দ্য ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার্স অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফবিসিসিআই)। তবে ইতিহাসের সর্ববৃহৎ এ বাজেট বাস্তবায়নে দূরদর্শিতা, দক্ষতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছে সংগঠনটি।
আজ শনিবার (১৩ জুন) দুপুরে বাজেট পরবর্তী তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় এফবিসিসিআই এ কথা জানিয়েছে। এফবিসিসিআই জানায়, বর্তমান বৈশ্বিক ভূরাজনৈতিক বাস্তবতায় বাংলাদেশকে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির দিকে এগিয়ে নিতে এ ধরনের বাজেট প্রয়োজনীয়। তবে এর সফল বাস্তবায়নের জন্য সরকারকে সর্বাত্মক উদ্যোগ নিতে হবে। অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা, বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, উৎপাদন বৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিকে প্রাধান্য দেওয়ায় প্রধানমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রীকে অভিনন্দনও জানিয়েছে সংগঠনটি। এফবিসিসিআইর মতে, প্রস্তাবিত বাজেটে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব আহরণের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে, যা সরকারের জন্য বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ। বিদ্যমান বৈশ্বিক ও দেশীয় অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে এ লক্ষ্য অর্জনের জন্য রাজস্ব প্রশাসনে স্বচ্ছতা নিশ্চিতের পাশাপাশি জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে (এনবিআর) কার্যকর সংস্কার জরুরি।
সংগঠনটি আরও বলেছে, বাজেট ঘাটতি পূরণে অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে এক লাখ ২৭ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রে ব্যাংকিং খাত থেকে অতিরিক্ত ঋণ গ্রহণ করা হলে বেসরকারি খাতে অর্থায়ন সংকুচিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ফলে নতুন বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির গতি কমে যেতে পারে। এ পরিস্থিতিতে স্থানীয় উৎসের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল না হয়ে তুলনামূলক কম সুদে বৈদেশিক অর্থায়নের সুযোগ কাজে লাগাতে হবে। বেসরকারি খাতকে চাঙা করতে ঘোষিত ৬০ হাজার কোটি টাকার ‘স্টিমুলাস প্যাকেজ ২০২৬’-কে স্বাগত জানিয়েছে এফবিসিসিআই। একই সঙ্গে শিল্পের কাঁচামাল আমদানিতে আগাম আয়কর ৫ শতাংশ থেকে ৪ শতাংশে নামিয়ে আনা এবং চাল, ডাল, ভোজ্যতেল ও মসলাসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের আমদানিতে কর কমানোর উদ্যোগকে ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেছে তারা। এছাড়া স্টার্টআপ উদ্যোক্তা ও নারী নেতৃত্বাধীন ব্যবসার জন্য কর-সুবিধা এবং বিশেষ বরাদ্দের প্রস্তাবকেও প্রশংসা করেছে সংগঠনটি।
তথ্যপ্রযুক্তি খাতের বিকাশ ও দক্ষ মানবসম্পদ গঠনের লক্ষ্যে ল্যাপটপ, ডেস্কটপসহ বিভিন্ন কম্পিউটার সামগ্রী আমদানিতে শুল্ক ও ভ্যাট প্রত্যাহারের উদ্যোগকে সরকারের একটি যুগোপযোগী সিদ্ধান্ত হিসেবে আখ্যায়িত করেছে এফবিসিসিআই। পাশাপাশি নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারে উৎসাহ দিতে সৌরবিদ্যুৎ খাতে ২০৩৫ সাল পর্যন্ত শূন্য শতাংশ করহার বহাল রাখা এবং বৈদ্যুতিক যানবাহন আমদানিতে শুল্ক ছাড়ের প্রস্তাবকে ভবিষ্যতমুখী পদক্ষেপ বলে উল্লেখ করেছে সংগঠনটি। তবে সাধারণ মানুষের ক্রমবর্ধমান জীবনযাত্রার ব্যয় ও মূল্যস্ফীতির চাপ বিবেচনায় করমুক্ত আয়সীমা ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকায় উন্নীত করার প্রস্তাবকে যথেষ্ট মনে করছে না এফবিসিসিআই। সংগঠনটির দাবি, এই সীমা আরও বাড়ানো প্রয়োজন। একই সঙ্গে ব্যক্তিশ্রেণির করদাতাদের সর্বোচ্চ করহার বর্তমান ৩৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২৫ শতাংশ নির্ধারণের সুপারিশ করেছে তারা।
অন্যদিকে রডসহ বিভিন্ন নির্মাণসামগ্রীর ওপর ভ্যাট বৃদ্ধি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এফবিসিসিআই। তাদের আশঙ্কা, এ সিদ্ধান্ত নির্মাণ খাতের ব্যয় বাড়িয়ে শিল্পটির প্রবৃদ্ধিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। ব্যবসায়ীদের শীর্ষ এ সংগঠন জানিয়েছে, প্রস্তাবিত বাজেটের বিভিন্ন দিক নিয়ে তারা বিস্তারিত পর্যালোচনা করছে। সদস্য সংগঠনগুলোর মতামত সংগ্রহের পর অচিরেই সরকারের কাছে সুপারিশসম্বলিত একটি পূর্ণাঙ্গ প্রস্তাবনা জমা দেওয়া হবে।
পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/172414