বগুড়ার সান্তাহারে সোনার দুলের লোভে শিশুকে হত্যা বস্তাবন্দী লাশ উদ্ধার গ্রেফতার-৪
আদমদীঘি ও সান্তাহার (বগুড়া) প্রতিনিধি : আদমদীঘির সান্তাহারে সাড়ে ৬ বছর বয়সের রাকা মনি নামের এক শিশু নিখোঁজের ৬ ঘন্টা পর প্রতিবেশির বাসা থেকে বস্তাবন্দী অবস্থায় তার লাশ পুলিশ উদ্ধার করেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার রাত ১১ টায় সান্তাহার সাহেব পাড়ার প্রতিবেশি আমজাদ হোসেনের বাসা থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়। নিহত শিশু রাকা মণি ওই এলাকার অটোরিকশা গ্যারেজ মিস্ত্রী রায়হান আলীর মেয়ে।
এ ঘটনায় আদমদীঘি থানায় নিহত রাকা মনির বাবা সান্তাহার সাহেব পাড়ার রায়হান আলী বাদি হয়ে প্রতিবেশি আমজাদ হোসেন ও তার স্ত্রী বন্যা বেগম এবং বাবু হোসেনসহ ৪জনের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। পুলিশ ঘটনার সাথে জড়িত প্রতিবেশি আমজাদ হোসেন, তার স্ত্রী বন্যা বেগম ও বাবু হোসেন ও তার স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকাকে গ্রেফতার করেছে। এদিকে পুলিশ রাতেই লাশ উদ্ধার করে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল হাসপাতালে মর্গে প্রেরণ করেছে।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, রাকা মনির মা মনিরা বেগম তালাকপ্রাপ্ত হওয়ার পর থেকে রাকা মনিকে তার বাবা ও ফুপু লিপি বেগম লালান পালন করে আসছিল। সে মাদরাসায় প্লে শ্রেণিতে পড়ালেখা করতো। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টায় রাকা মনি প্রাইভেট পড়ার উদ্দেশ্যে বাসা থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হয়।
স্বজনরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজা খুঁজির এক পর্যায়ে রাত ১০ টায় প্রতিবেশি আমজাদ হোসেনের বাসার একটি কক্ষ থেকে রাকা মনির বস্তাবন্দী লাশ দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেয়া হয়। রাতেই পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে রাকা মনির বস্তাবন্দী লাশ উদ্ধার করে এবং ঘটনার সাথে জড়িত প্রতিবেশি আমজাদ হোসেন তার স্ত্রী বন্যা বেগম এবং বাবু হোসেনও তার স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকাকে গ্রেফতার করে।
নিহত রাকা মনির বাবা রায়হান আলী জানায়, তার মেয়েকে প্রতিবেশিরা কৌশলে ডেকে নিয়ে তার কানে থাকা সোনার দুল খুলে নিয়ে হত্যা করে একটি প্লাস্টিকের বস্তায় লাশ তুলে বাসায় গোপন করে রেখেছিল। এ ঘটনায় আমি ন্যায় বিচার চাই। আদমদীঘি থানার অফিসার ইনচার্জ কামরুজ্জামান মিয়া জানায়, লাশ উদ্ধার করে মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় একটি হত্যা মামলা রুজু করা হয়েছে।
পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/172350