আজ থেকে শুরু গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ
স্পোর্টস ডেস্ক : ইতিহাসের সর্বোচ্চ ৪৮ দল নিয়ে প্রথমবারের মতো আয়োজিত হতে যাওয়া ফিফা ফুটবল বিশ্বকাপ শুরু হতে যাচ্ছে আজ। যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডার মাটিতে হতে যাচ্ছে বিশ্বকাপের ২৩তম আসর। তিনটি দেশ একসঙ্গে বিশ্বকাপ আয়োজনের ঘটনাও এবারই প্রথম, দল বেড়েছে আগের চেয়ে ১৬টি।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) পর্দা উঠছে বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় ক্রীড়া আসর ফুটবল বিশ্বকাপের নতুন অধ্যায়ের। ইতোমধ্যেই ফুটবল উন্মাদনায় রাঙিয়ে তুলেছে গোটা পৃথিবীকে। মাঠের লড়াই, তারকাদের ঝলক, কোটি মানুষের আবেগ আর স্বপ্ন-সব মিলিয়ে ফুটবল বসন্তে যেন একাকার হয়ে গেছে বিশ্ব। আগামী এক মাসের বেশি সময় ধরে গ্রেটেস্ট শো অন আর্থের মোহময় আবেশে ডুবে থাকবে ফুটবলপ্রেমীরা।
ফুটবলকে বলা হয় আমজনতার খেলা। এমন এক খেলা, যা সবাই খেলতে ভালোবাসে, সবাই দেখতে ভালোবাসে। যে খেলা মানুষের চোখে আনন্দের অশ্রু আনে, আবার বেদনার কান্নাও ঝরায়। যে খেলা হাজার মাইলের দূরত্ব মুছে দিয়ে আর্জেন্টিনা থেকে বাংলাদেশকে গেঁথে দেয় একই আবেগের সুতোয়, যে খেলা ব্রাজিলের হৃদয়ে এঁকে দেয় লাল-সবুজ বাংলাদেশের প্রতিচ্ছবি। ফুটবল তাই শুধু একটি খেলা নয়, এটি ভালোবাসার ভাষা, হৃদয়ের সংযোগ, মানুষের মিলনের সেতুবন্ধন। এটি শেখায় একসঙ্গে স্বপ্ন দেখতে, শেখায় ভালোবাসতে এবং ভালো রাখতে। তাই ফুটবলের মহাযজ্ঞ শুরু হলে চোখ সরিয়ে রাখা দায়। সেই মহাযজ্ঞেরই নতুন অধ্যায় শুরু হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডার যৌথ আয়োজনে। বিশ্বকাপের রঙিন উৎসব ছড়িয়ে পড়বে মহাদেশ পেরিয়ে পৃথিবীর আনাচে-কানাচে। ফুটবলের বিশাল ক্যানভাস ভরে উঠবে শত রঙে, শত ঢঙে, অসংখ্য গল্প আর অগণিত আবেগে। আগামী কয়েক সপ্তাহ বিশ্ব যেন ডুবে থাকবে এক অনন্ত ফুটবল বসন্তে।
মেক্সিকো, কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্র-তিন দেশের যৌথ আয়োজনে বিশ্বকাপ ঘিরে আয়োজক ও অংশগ্রহণকারী দলগুলোর মধ্যে উচ্ছ্বাস-উদ্দীপনার কমতি নেই। তবে বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। বিভিন্ন দেশের খেলোয়াড়, কর্মকর্তা ও রেফারিদের সঙ্গে দেশটির আচরণ নিয়ে একের পর এক অভিযোগ উঠছে।
যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়তে পারে ইরান। ‘জি’ গ্রুপে থাকা দলটি তাদের সব ম্যাচ খেলবে যুক্তরাষ্ট্রে, কিন্তু পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে তাদের বেস ক্যাম্প থাকবে মেক্সিকোর তিহুয়ানা শহরে। ফলে প্রতিটি ম্যাচের আগের দিনই কেবল যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি পাবে ইরানি ফুটবলাররা। এদিকে, ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অভিবাসন নীতির প্রভাব পড়েছে বিশ্বকাপ সংশ্লিষ্টদের ওপরও। সোমালিয়ার প্রথম ফিফা রেফারি ওমর আব্দুলকাদির আরতান ভিসা থাকা সত্ত্বেও ইমিগ্রেশন জটিলতায় পড়ে বিশ্বকাপের দায়িত্ব থেকে ছিটকে গেছেন।
অন্যদিকে, সেনেগাল ও উজবেকিস্তানের খেলোয়াড়দের যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছেই তল্লাশির মুখে পড়তে হয়েছে। ইরাকের স্ট্রাইকার আয়মেন হুসেনকে দীর্ঘ সময় জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। একই অভিজ্ঞতার শিকার হয়েছেন ইরাক দলের চিত্রগ্রাহক তালাল শাহ; তাকে ১০ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে জেরা করা হয়েছে। সব মিলিয়ে বিভিন্ন দেশের ফুটবলার, কর্মকর্তা ও রেফারিদের সঙ্গে ট্রাম্প প্রশাসনের আচরণ নিয়ে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রশ্ন উঠছে অনেক, কিন্তু সেসব প্রশ্নের সন্তোষজনক উত্তর এখনো মিলছে না। ফিফা সব দেখেও দর্শকের ভূমিকায়।
তবুও সব বিতর্ককে ছাপিয়ে ফুটবলপ্রেমীরা অপেক্ষায় মাঠের জাদু দেখার। দট্রাই-ওন্ডার’ (বিশ্বকাপের বল) এই বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো ৪৮ দলের ৪৮টি জাতীয় সংগীত ধ্বনিত হবে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ফুটবল মঞ্চে। ১,২৪৮ জন ফুটবলার বহন করবেন কোটি কোটি মানুষের স্বপ্ন। তাদের দুই পায়ের কারুকাজেই রচিত হবে নতুন ইতিহাস, উচ্ছ্বাসে ভাসবে গোটা ফুটবল বিশ্ব। হয়তো নতুন কোনো দেশ। নয়তো পুরোদের কেউ। ফুটবলের এই বসন্তে এখন বুদ হয়ে থাকার সময়।
পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/172166