অবশেষে সেই দুই শিশু যেভাবে ফিরে পেল মা-বাবাকে

অবশেষে সেই দুই শিশু যেভাবে ফিরে পেল মা-বাবাকে

স্টাফ রিপোর্টার : অবশেষে সেই দুই শিশু ফিরে পেয়েছে মা-বাবাকে। হারানো সন্তান ফিরে পেয়ে মা-বাবা আবেগে আপ্লুত। তাদের চোখে আনন্দাশ্রু আর মুখে হাসির ঝিলিক। সন্তান হারিয়ে প্রায় পাগল হওয়া মা-বাবা ছিলেন দিশেহারা। বিভিন্নস্থানে হন্যে হয়ে আদরের সন্তান দুটিকে খুঁজতে খুঁজতে ক্লান্ত হয়ে পড়েছিলেন তারা। কিন্তু এরই মধ্যে আসে সুখবর। সন্ধান মেলে শিশু দুটির। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে দেয়া এক পোস্ট থেকে জানতে পারে শিশু রিয়াজ ও হাসান উদ্ধার হয়েছে বগুড়ায়।

তারা রয়েছে বগুড়া সদর থানা হেফাজতে। থানার ওসি ইব্রাহিম আলী শিশু দুটি উদ্ধারের বিষয়ে শিশু দুটির ছবিসহ ফেসবুকে পোস্ট দেন। এই পোস্ট দেখে শিশু রিয়াজের বাবা ঢাকার মীরপুর ১১ এর বি-ব্লক এর বাসিন্দা অটোরিকশা চালক মুক্তার হোসেনকে  জানান এক যুবক। তিনি বলেন তার সন্তান রিয়াজকে পাওয়া গেছে বগুড়ায়। সঙ্গে পাওয়া গেছে হারিয়ে যাওয়া আরেক শিশু হাসানকেও।

তাৎক্ষণিকভাবে এ খবর রিয়াজ ও হাসানের মাকেও জানানো হয়। শিশু দুটির উদ্ধারের খবরে দুই পরিবারে আনন্দের বন্যা বয়ে যায়। আজ বুধবার (১০ জুন) ভোরেই ঢাকা থেকে বাসে চেপে দুই পরিবার ছুটে আসে বগুড়া সদর থানায়।

এরপর আইনি প্রক্রিয়া শেষে অভিভাবকদের পরিচয় নিশ্চিত হয়ে সদর থানার ওসি ইব্রাহীম আলী অনুমান ৭ বছর বয়সী  শিশু রিয়াজ ও হাসানকে বুঝে দেন তাদের মা-বাবার কাছে। এসময় থানার নারী ডেস্কের ইনচার্জ এসআই জেবুননেছা উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে শিশু রিয়াজ ও হাসান একসাথে ঢাকা থেকে ট্রেনে এসে বগুড়ায় হারিয়ে যায়। এরপর পুরান বগুড়ার তিনমাথায় গত সোমবার রাত ১০ টার দিকে লোকজন শিশু দুটিকে কাঁদতে দেখে সদর থানায় খবর দেয়। পরে পুলিশ গিয়ে ওই দুই শিশুকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে।

বগুড়া সদর থানার ওসি মো: ইব্রাহীম আলী বলেন,শিশু দুটি কৌতুহলবশত: ঢাকার বিমানবন্দর রেল স্টেশন থেকে ট্রেনে উঠে বগুড়ায় এসে হারিয়ে যায়। পরে গত সোমবার রাত ১০ টার দিকে তারা বগুড়া রেল স্টেশন থেকে হেঁটে পুরান বগুড়া তিনমাথায় গিয়ে কাঁদতে থাকে। বিষয়টি সাধারণ মানুষের নজরে পড়লে তারা ওই দুই শিশুকে সেখানে রেখে সদর থানায় খবর দেয়। পরে পুলিশ গিয়ে তাদেরকে উদ্ধার করে থানায় এনে হেফাজতে রাখে।

শিশু রিয়াজের বাবা মুক্তার হোসেন বলেন, তার বাড়ি ঢাকার মীরপুর-১১ ডি ব্লক ৪ নম্বর লাইনে। তবে তার গ্রামের বাড়ি দিনাজপুর সদরের বাহাদুর বাজার স্টেশন রোডে। কিন্তু তিনি গত ৩০ বছর ধরে ঢাকায় বসবাস করে অটোরিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করে আসছেন। তার দুটি ছেলে। এরমধ্যে রিয়াজ ছোট। তিনি বলেন রিয়াজ খুব চঞ্চল। স্কুলে ভর্তি করে দিলেও পড়াশুনা করেনা।

এর আগে ৫ বার সে হারিয়ে গিয়েছিল। প্রতিবারই তাকে উদ্ধার করা হয়েছে। শেষবার সে ও হাসান হারিয়ে যায়। রিয়াজ তাকে জানিয়েছে. খেলার ছলে ট্রেনে ভ্রমনের কৌতুহল থেকে ধুলো পড়া জামা পরেই সে আর হাসান ট্রেন যাত্রা শুরু করে। কখনও ঘুমিয়ে কখনও জেগে থেকে এসেছে। এরপর কয়েক ঘন্টার মধ্যে দকখন যে তারা বগুড়ায় এসে ট্রেন থেকে নেমে হাঁটতে হাঁটতে হারিয়ে গিয়েছিল তা সে জানেনা।

রিয়াজের বাবা মুক্তার আরো জানান, শিশু হাসানের বাড়িও মীরপুর-১১তে পাশাপাশি এলাকায়। রিয়াজ ও হাসানকে উদ্ধারের খবর তিনিই হাসানের মাকে জানান। হাসানের বাবার নাম মান্নান মিয়া। তিনি পরিচ্ছন্ন কর্মী। তার মা নাজমা বেগম পানের দোকানি।

খুবই অভাব অনটনের মধ্যে তাদের সংসার চলে। হাসানও মাদ্রাসায় পড়তো। কিন্তু টাকার অভাবে বাচ্চা দুটির পড়াশোনা এখন বন্ধ রয়েছে। তিনি শিশু দুটি উদ্ধারে মহান আল্লাহ’র কাছে শুকরিয়া আদায় করেন। সেইসাথে তিনি বগুড়া সদর থানার ওসি ইব্রাহীমের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন।

পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/172125