১০ থেকে ১২ কি:মি দূরের যমুনা এখন ঘরের দুয়ারে
সোনাতলা (বগুড়া) প্রতিনিধি: বগুড়ার সোনাতলায় যমুনা নদীর অব্যাহত ভাঙনে দিশেহারা হয়ে পড়েছে নদীকুলীয় মানুষগুলো। এদিকে নদী ভাঙন রোধে ব্যবস্থা নিতে পানি উন্নয়ন বোর্ডকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে বলেছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য আলহাজ কাজী রফিকুল ইসলাম।
গত ১৫/১৬ বছর আগে থেকে বগুড়ার সোনাতলায় যমুনা নদীর ভাঙন শুরু হয়েছে। বর্ষা মৌসুমে শত শত বাড়িঘর, গাছপালা, ফসলী জমি নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেলেও স্থায়ী ব্যবস্থা নেয়নি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। যার কারনে ওই এলাকার ৫ শতাধিক পরিবারকে বাড়িঘর অন্যত্র সরিয়ে ফেলতে হয়েছে।
এছাড়াও খাবুলিয়া, জন্তিয়ারপাড়া, দাউদিয়ারপাড়া, সরলিয়া, মহব্বতেরপাড়া, ভিকনের পাড়া, খাটিয়ামারি, পূর্ব সুজাইতপুর এলাকার শত শত মানুষ এখন নদী ভাঙন আতংকে দিন কাটাতে হচ্ছে। স্থানীয়রা জানান, সরকার আসে, সরকার যায়। তাদের এমপিরা প্রতিশ্রুতি দিলেও প্রতিবছর শত শত একর ফসলী জমি যাচ্ছে যমুন নদীর গর্ভে। কোন রকমে দিন কাটলেও রাতে দু’চোখে ঘুম আসে না। কখন যেন বসতবাড়ি নদীতে হারিয়ে যায়। স্থানীয়রা আরও বলেন, একসময় নদীটি আমাদের গ্রাম থেকে প্রায় ১০/১২ কিলোমিটার দূরে ছিল। এখন সেই নদীটি ঘরের দুয়ারে এসে উকি মারছে।
এছাড়াও পূর্ব সুজাইতপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, একটি মাদ্রাসা, একটি দাতব্য চিকিৎসালয় হুমকীর মুখে। এ বিষয়ে বগুড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মাহমুদ হাসান বলেন, নদী ভাঙন রোধে এখন কোন বরাদ্দ নেই। তবে জরুরী পরিস্থিতিতে কিছু জিও ব্যাগ ফেলানোর উদ্যোগ নেয়া যেতে পারে। তবে সোনাতলায় এই মুহুর্তে এই ধরণের কোন পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। উল্লেখ্য, একসময় যে গ্রামে লোকসংখ্যা ছিল ৫ হাজারের উপরে এখন সেই গ্রামে লোকসংখ্যা মাত্র ৭শ’-৮শ’।
পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/171974