পাবনার সাঁথিয়ায় অস্বাস্থ্য পরিবেশে শিকলবন্দি নূরী খাতুনের মানবেতর জীবন যাপন

পাবনার সাঁথিয়ায় অস্বাস্থ্য পরিবেশে শিকলবন্দি নূরী খাতুনের মানবেতর জীবন যাপন

সাঁথিয়া (পাবনা) প্রতিনিধি: পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার পল্লীতে এক যুগ একটি অন্ধকার ঘরে শিকলব›দিঙ হয়ে জীবন কাটাচ্ছেন নূরী খাতুন(৫৫) নামে এক মানসিক প্রতিবন্ধী নারী। সে উপজেলার তেথুলিয়া মধ্যপাড়া গ্রামের মৃত লবা প্রামাণিকের মেয়ে। দীর্ঘদিন চিকিৎসাহীন ও অস্বাস্থ্য পরিবেশে আটকে রাখায় মানবেতর জীবনযাপন করছে। খাদ্য ও চিকিৎসা সেবার অভাবে তার শারীরিক ও মানসিক অবস্থার চরম অবনতি ঘটেছে।

গতকাল সোমবার সরেজমিনে সাঁথিয়ার তেথুলিয়া মধ্যপাড়া গ্রামে নূরী খাতুনের বাড়িতে এক মর্মস্পর্শী দৃশ্য দেখা যায়। বাড়ির পেছনে একটি পরিত্যক্ত ও নির্জন ঘরে তাকে আটকে রেখেছে পরিবারের সদস্যরা। ঘরটিতে কোনো জানালা নেই, নেই কোনো দরজা এবং বিদ্যুৎ সংযোগ।

দিনের বেলাতেও ঘুটঘুটে অন্ধকার থাকে ঘরটি। তীব্র গরমে দিন ও রাত কাটে বছরের পর বছর। চরম অবহেলা আর অনাহারে-অর্ধাহারে দিন কাটছে নূরী খাতুনের। মলমূত্র ত্যাগের ন্যূনতম ব্যবস্থা না থাকায় ঘরের মেঝেতেই প্রকৃতির ডাক সারতে হচ্ছে তাকে।

ফলে পুরো ঘর ও আশপাশের এলাকায় তীব্র দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে স্বাভাবিক মানুষের প্রবেশ করাই দুঃসাধ্য। এমন পরিবেশই যেন প্রতিদিনের বসবাসের জায়গা জুটেছে অভাগী নূরী খাতুনের। বিদ্যুৎ বা কোন প্রকার আলো না থাকায় দিন ও রাতের পার্থক্য বোঝে না নূরী।

তার প্রতি এ অমানবিক ঘটনায় এলাকাবাসী, সরকারি প্রতিনিধি বা রাষ্ট্র নেয়নি কোন কার্যকর ব্যবস্থা। এতে দিনে দিনে মানসিক প্রতিবন্ধী নারী যেন আরও অসুস্থ ও ভারসাম্য হারিয়ে ফেলছে। নূরী খাতুনের ভাই আব্দুল হামিদসহ, পরিবারের দাবি, তিনি প্রায় ৪০ বছর মানসিক রোগে ভুগছেন।

পাবনা মানসিক হাসপাতালসহ বিভিন্ন স্থানে ডাক্তার ও কবিরাজ দিয়ে তার দীর্ঘমেয়াদে চিকিৎসা করানো হয়েছে। কিন্তু কোনো পরিবর্তন না হওয়ায় এবং নিজেদের অসহায়ত্বের কারণে গত ১২ বছর তাকে এভাবে শিকলবন্দী করে রাখা হয়েছে। তারা আরও জানান, নুরীকে ছেড়ে দিলে সে হারিয়ে যায়, মানুষের উপর ক্ষিপ্ত হয়ে উঠা ও ভাঙচুরের কারণেই তাকে ঘরে বন্দী করে রাখা হয়েছে।

তবে পরিবারের এই অসহায়ত্বের অজুহাত মানতে নারাজ স্থানীয় এলাকাবাসী। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক প্রতিবেশী ক্ষোভ প্রকাশ করে অভিযোগ করেন, নূরী খাতুনের প্রতি তার পরিবার দীর্ঘদিন অমানবিক ও নির্মম আচরণ করে আসছে।

একজন অসুস্থ ও অসহায় মানুষের নূূন্যতম মৌলিক অধিকার কেড়ে নিয়ে এভাবে পশুর মতো খাঁচায় বন্দী করে রাখা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। চিকিৎসার নামে অবহেলা ও এই নিষ্ঠুরতার কারণে এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

এ বিষয়ে সাঁথিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) রিজু তামান্না গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, কাউকে শিকল পড়িয়ে ঘরে বন্দি রাখা মানবতার চরম বিপর্যয়। আমরা দ্রুতই ভুক্তভোগীর পরিবারের সাথে যোগাযোগ করে তার চিকিৎসার উপযুক্ত পরিবেশ সৃষ্টি করব এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব।

পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/171956