বগুড়ার সারিয়াকান্দিতে কাউনের বাম্পার ফলনেও কৃষকের মুখে হাসি নেই

বগুড়ার সারিয়াকান্দিতে কাউনের বাম্পার ফলনেও কৃষকের মুখে হাসি নেই

সারিয়াকান্দি (বগুড়া) প্রতিনিধি: বগুড়া সারিয়াকান্দিতে এ বছর কাউনের বাম্পার ফলন হয়েছে। গত কয়েকবছরের তুলনায় এ বছর বাজারে কাউনের দাম কম। অন্য ফসলের তুলনায় ফলন কম এবং দাম কম হওয়ায় দিন দিন কমছে এ ফসলের চাষাবাদ।

বগুড়া সারিয়াকান্দির বিস্তীর্ণ এলাকায় চরাঞ্চল হওয়ায় এখানে কাউনের বাম্পার ফলন হয়। একসময় এখানে প্রচুর পরিমাণ কাউনের আবাদ হতো। কিন্তু গত কয়েকবছর ধরেই পানিসেচের মাধ্যমে কৃষকেরা মরিচ, মিষ্টি কুমড়া বা ভুট্টা জাতীয় ফসল বেশি চাষাবাদ করছেন। ফলে কালক্রমে এ ফসলের আবাদ দিনদিন কমে যাচ্ছে। এর প্রধান কারণ হলো, বিঘাপ্রতি এ ফসলের ফলন কম এবং ফলন অনুযায়ী বাজারে কাক্সিক্ষত দাম না পাওয়া।

সাধারণত যেসব জমিতে পানিসেচ দেয়ার কোনও ব্যবস্থা নেই, সেইসব জমিতে কাউনের আবাদ করা হয়। এ ফসলটির ফলন তাই সঠিক সময়ে দুই বা একবার বৃষ্টিপাতের উপর নির্ভরশীল। এ বছর সঠিক সময়ে বৃষ্টিপাত হওয়ায় কাউনের আবাদ বেশ ভালো হয়েছে। কৃষকেরা এখন তাদের জমি থেকে কাউন সংগ্রহ করে তা বাজারজাত করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। কাউন কেটে সেই জমিতে এখন কৃষকরা পাটের আবাদ করেছেন।

সারিয়াকান্দি উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর কাউন চাষের লক্ষমাত্রা ধরা হয়েছিল ১৫১৫ হেক্টর, যা লক্ষ্যমাত্রা পেরিয়ে ১৫২০ হেক্টর জমিতে উৎপাদন হয়েছে। বিঘাপ্রতি ফলন হয়েছে ৪ থেকে ৫ মণ। সাধারণত ফেব্রুয়ারি মাসের দিকে জমিতে দুএকটি চাষ দিয়ে জমিতে কাউনের বীজ বপন করতে হয়। মে মাসের দিকে ফসল কর্তন করতে হয়।

সাধারণত এ ফসলের জীবনকাল ১০০ থেকে ১২০ দিন। এ ফসল চাষে পরিচর্যা খুবই কম। শুধুমাত্র দু একটি নিড়ানি দিতে হয়। তবে বৃষ্টি না হলে দু একবার সেচ দিতে পারলে কাউনের ফলন ভালো হয়। বর্তমানে বাজারে প্রতিমণ কাউন ১২০০ টাকা থেকে শুরু করে ১৪০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে।

উপজেলার চর বাটিয়া গ্রামের কৃষক সোনা মিয়া বলেন, এ বছর ১২ বিঘা জমিতে কাউনের আবাদ করেছি। সাধারণত যেসব জমিগুলো আমাদের পতিত থাকার সম্ভাবনা থাকে, সেইসব জমিতে আমরা কাউনের আবাদ করি। এ ফসল চাষে পরিচর্যা খুবই কম, শুধুমাত্র বপন করলেই হয়। সঠিক সময়ে বৃষ্টিপাত হওয়ায় এ বছর গড়ে বিঘাপ্রতি ৫ মণ করে কাউনের ফলন পেয়েছি। তবে বাজারে আশানুরূপ দাম পাচ্ছি না।

গত হাটে মাত্র ১২৫০ টাকা মণ কাউন বিক্রি করেছি। কিন্তু গত বছর আমরা কাউন ২০০০ টাকা থেকে শুরু করে ২২০০ টাকা মণ পর্যন্ত বিক্রি করেছি। বিঘাপ্রতি উৎপাদন অনুযায়ী বাজারে প্রতিমণ কাউন ৩ হাজার টাকার বেশি হলে আমরা এ ফসলের চাষ করে লাভবান হতে পারবো।

সারিয়াকান্দি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ বলেন, বর্তমানে কাউন পাখির খাদ্য হিসেবে ব্যপকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে। তবে কাউনের পায়েস, খিচূড়ি, পোলাও এবং পিঠা খুবই সুস্বাদু। আগে কৃষকরা কাউনের ভাত খেতো। কাউনের চাল বা ফক্সটেইল মিলেট অত্যন্ত পুষ্টিকর। এতে প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন, ফাইবার, আয়রন, ম্যাগনেসিয়াম, ক্যালসিয়াম ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে।

ভিটামিন ও খনিজে ভরপুর এই চাল দৈনন্দিন পুষ্টির চাহিদা পূরণে দারুণ কার্যকর। কাউন চাল সাধারণত, ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করে, ওজন কমাতে সহায়তা করে, হজমে সহায়তা ও কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে, এটি হৃদরোগ ও রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করে। পর্যাপ্ত ক্যালসিয়াম ও খনিজ থাকায় এটি হাড় মজবুত করতে এবং প্রোটিন শরীরের পেশি গঠনে সহায়তা করে। কাউনের চালে থাকা ফ্যাটি অ্যাসিড ও ভিটামিন ত্বককে সতেজ ও মসৃণ রাখতে সাহায্য করে।

পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/171823