বগুড়া পলিটেকনিকের দুই শিক্ষার্থীর ইন্দোনেশিয়ায় অনুষ্ঠিত বিজ্ঞান প্রতিযোগিতায় স্বর্ণপদক জয়
ধুনট (বগুড়া) প্রতিনিধি : ইন্দোনেশিয়ায় অনুষ্ঠিত দু’টি পৃথক আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান প্রতিযোগিতা ২০২৬-এ স্বর্ণপদক জিতে বাংলাদেশের মুখ উজ্জল করেছেন বগুড়া পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থীর নাইম ইসলাম ও আবু হোসাইন। নাইম ইসলাম ওই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ইলেকট্রিক্যাল ৫ম পর্বের শিক্ষার্থী ও আবু হোসাইন সিএসটি ৭ম পর্বের শিক্ষার্থী।
নাঈম ইসলাম বগুড়ার ধুনট উপজেলার মাঠপাড়া গ্রামের আব্দুল বাছেতের ছেলে এবং আবু হোসাইন সারিয়াকান্দি উপজেলার কুতুবপুর গ্রামের আবুল কালাম আজাদের ছেলে। গত শুক্রবার (৫জুন) ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী জাকার্তার ‘উনিভার্সিতাস নেগেরি জাকার্তা’ (ইউএনজে) বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত সপ্তাহব্যাপী প্রতিযোগিতায় বগুড়া পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের দলটি এ অনন্য গৌরব অর্জন করেন। গতকাল রোববার তারা দেশে ফিরেছেন।
এই প্রতিযোগিতায় বিশ্বের ১৬টি দেশের ৪০০টি দলের ১ হাজার ৩০০ জন প্রতিযোগী বিভিন্ন প্রকল্প নিয়ে অংশ নেন। নাইম ইসলাম ও আবু হোসাইন অটোমেটিক ফিশ ব্রিডিং মেশিন প্রকল্প নিয়ে প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে স্বর্ণপদক অর্জন করেন। বিভিন্ন দেশে এটার আইডিয়া নিয়ে আলোচনা চলছে, কিন্তু এখন পর্যন্ত সম্পূর্ণ প্রকল্প কোনো দেশ বাস্তবায়ন করেনি। যা প্রথমবারের মতো আবিস্কার করলেন এই অদম্য তরুণেরা।
তারা দীর্ঘদিন ধরে বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, রোবোটিক্স এবং উদ্ভাবনভিত্তিক বিভিন্ন গবেষণামূলক প্রকল্প নিয়ে কাজ করে আসছেন। তাদের সৃজনশীলতা ও প্রযুক্তিগত দক্ষতার স্বীকৃতি হিসেবেই আন্তর্জাতিক মঞ্চে অংশগ্রহণের সুযোগ আসে। আন্তর্জাতিক মঞ্চে নিজেদের উদ্ভাবন উপস্থাপনের মাধ্যমে তারা বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্মের সৃজনশীলতা, দক্ষতা ও অমিত সম্ভাবনাকে সফলভাবে তুলে ধরেছেন।
অটোমেটিক ফিশ ব্রিডিং মেশিন বাংলাদেশের মৎস্যচাষকে আধূনিক , নিরাপদ ও লাভজনক করার একটি বিপ্লবী প্রযুক্তি। হরমোনমুক্ত প্রজনন, স্বল্প ব্যয়, স্বয়ংক্রিয় পরিবেশ নিয়ন্ত্রন এবং সহজ ব্যবহারের সুবিধা। সব মিলিয়ে এ যন্ত্রটি ভবিষ্যতে স্মার্ট অ্যাকোয়াকালচারের দ্বার উন্মোচন করবে। এটি বাংলাদেশের অর্থণীতি, স্বাস্থ্য এবং কৃষি প্রযুক্তি-সব ক্ষেত্রে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে সক্ষম হবে।
স্বর্ণপদক জয়ের অনুভূতি জানাতে গিয়ে নাইম হোসেন বলেন, স্বর্ণপদক অর্জনের সেই মুহূর্ত ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন। বাংলাদেশের পতাকা হাতে দাঁড়িয়ে যখন ঘোষণা করা হলো আমরা স্বর্ণপদক পেয়েছি, তখন মনে হয়েছিল এটাই জীবনের অন্যতম গর্বের অর্জন। আমাদের পরিবার আনন্দে আপ্লুত হয়ে গিয়েছিল। শিক্ষকরাও গভীর গর্ব অনুভব করেছেন এবং বলেছেন, এ অর্জন বগুড়ার জন্যও একটি সাফল্য।
তিনি আরো বলেন, এটি শুধু একটি পদক নয় বরং বাংলাদেশের তরুণদের মেধা ও উদ্ভাবনী শক্তিকে বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। আমি বিশ্বাস করি, এই সাফল্য আগামীতে দেশের আরও তরুণকে অনুপ্রাণিত করবে। এ অর্জন আমাদের দীর্ঘ পরিশ্রম, গবেষণা, উদ্ভাবনী চিন্তা এবং সকলের দোয়া ও সমর্থনের ফল। এই সাফল্যের জন্য আমরা আমাদের শিক্ষক, অভিভাবক এবং সকল শুভাকাঙ্খীর প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি
পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/171701