নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উদ্যোগে আয়োজিত ফল উৎসবকে কেন্দ্র করে নির্মিত মঞ্চ ও প্যান্ডেলে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় অন্তত ১০ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে সংগঠনটি।
আজ শনিবার (৬ জুন) বিকেলে উপজেলার দাউদপুর ইউনিয়নের কুলিয়াদি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে এ ঘটনা ঘটে। এর আগে শুক্রবার সন্ধ্যাতেও একই স্থানে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, এনসিপির আহ্বায়ক ও মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর অংশগ্রহণে আয়োজিত ফল উৎসব উপলক্ষ্যে কয়েকদিন ধরে বিদ্যালয় মাঠে মঞ্চ ও প্যান্ডেল নির্মাণের কাজ চলছিল। শুক্রবার রাতের দিকে মোটরসাইকেলযোগে একদল ব্যক্তি সেখানে এসে মঞ্চের বিভিন্ন অংশ ভাঙচুর করে বলে অভিযোগ ওঠে। পরে প্রশাসনের সহযোগিতায় পুনরায় অনুষ্ঠানস্থল প্রস্তুতের কাজ শুরু করেন আয়োজকরা।
তবে, শনিবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে আবারও কয়েকডজন মোটরসাইকেলে করে একদল লোক ঘটনাস্থলে আসে বলে অভিযোগ করা হয়। তাদের হাতে দেশীয় ও ধারালো অস্ত্র ছিল বলে দাবি করেন প্রত্যক্ষদর্শীরা। এ সময় তারা মঞ্চ, প্যান্ডেল, চেয়ার-টেবিলসহ অনুষ্ঠানের বিভিন্ন সরঞ্জাম ভাঙচুর করে। আকস্মিক হামলায় মাঠজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং উপস্থিত লোকজন নিরাপদ স্থানে সরে যান।
এনসিপির নেতাকর্মীদের দাবি, হামলায় উপজেলা এনসিপির যুগ্ম সদস্য সচিব ফারাবি হাসান, জেলা এনসিপির যুগ্ম সদস্য সচিব ইউসুফ মোল্লা এবং জাতীয় যুবশক্তির কেন্দ্রীয় সংসদের সিনিয়র সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ইয়াসিন আরাফাতসহ অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে কয়েকজনকে রূপগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও স্থানীয় বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরবর্তীতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। পরিস্থিতি শান্ত করতে ঘটনাস্থলে যান রূপগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি মাহফুজুর রহমান হুমায়ুন। তবে, সেখানে উপস্থিত এনসিপির কিছু নেতাকর্মী তার বিরুদ্ধে স্লোগান দিলে সাময়িক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।
হামলার জন্য নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি সুলতান মাহমুদের অনুসারীদের দায়ী করেছেন এনসিপির নেতারা। তাদের অভিযোগ, পরিকল্পিতভাবে এ হামলা চালানো হয়েছে এবং পুলিশের উপস্থিতিতেই ভাঙচুর সংঘটিত হয়েছে।
তবে, অভিযোগ অস্বীকার করে সুলতান মাহমুদ বলেন, এ ঘটনার সঙ্গে আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। আমাকে জড়িয়ে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।
রূপগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি মাহফুজুর রহমান হুমায়ুন বলেন, যারা এ ধরনের ঘটনা ঘটিয়েছে তারা বিএনপির কেউ নয়। দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে একটি পক্ষ ষড়যন্ত্র করছে।
নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মেহেদী ইসলাম জানান, এনসিপির কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে এবং অনুষ্ঠানস্থলে পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। আয়োজকরা নিরাপদে তাদের কর্মসূচি পালন করতে পারবেন বলেও তিনি জানান।
পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/171504