কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে নদী থেকে জমি ও ঘরবাড়ি বাঁচাতে উত্তর ধলডাঙ্গা মানুষের সংগ্রাম
ভূরুঙ্গামারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি : কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে শিলখুড়ি ইউনিয়নে সংকোচ নদের ভাঙনে জমি ও ঘরবাড়ি বাঁচার লড়াইয়ে নিজেদের উদ্যোগে আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়েছেন এলাকাবাসী। স্থানীয় নারী-পুরুষ মিলে স্থানীয়ভাবে বস্তা সংগ্রহ করে বস্তায় বালু ভর্তি করে নদীতে ফেলে ভাঙন ঠেকানোর চেষ্টা চালাচ্ছেন।
শিলখুড়ি ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ইউসুফ আলী জানান, শিলখুড়ি ইউনিয়নের উত্তর ধলডাঙ্গা গ্রামে সংকোচ নদের ভাঙনে ইতিমধ্যে ৫০টি পরিবার অন্যত্র বসবাস করছে। এদের অনেকে ৩ থেকে ৪ বার ভাঙনের শিকার হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা মিলন জানান, ভাঙন এলাকার উজানে প্রায় ১৩শ’ মিটার নদী রক্ষা বাঁধ নির্মাণ করা হয়েছে। মাঝখানে প্রায় ১৫শ’ মিটার বাদ দিয়ে ভাটিতে পানি উন্নয়ন বোর্ডের পক্ষ থেকে জিও ব্যাগ ফেলা হয়েছিল। এরফলে মাঝখানের এলাকাটিতে ভাঙন দেখা দিয়েছে। তিনি জানান, এ ব্যাপারে গত বছর থেকে পানি উন্নয়ন বোর্ডের সাথে যোগাযোগ করা হলেও কোন পদক্ষেপ না নেয়ায় দু’বছরে শতাধিক পরিবার জমাজমি ঘরবাড়ি হারিয়ে নিঃস্ব হয়েছে। তিনি জানান, মর্তুজা নামে একব্যক্তি ১৫শ’ পলিথিনের বস্তা, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ইউসুফ ৫শ’ বস্তা এবং জোবায়ের ২ হাজার টাকা সাহায্য করেছে। স্থানীয় নারী-পুরুষ মিলে সেসব বস্তায় বালু ভর্তি করে তারা নিজেরাই নদীতে ফেলছেন ভাঙন ঠেকাতে।
ভাঙন কবলিত এলাকার খুশিজন বেগম (৩২) আজ শনিবার সকালে নিজের বাড়ি ঘর সরাচ্ছেন। এসময় কান্নাজড়িত কন্ঠে তিনি বলেন, ‘আমার বাড়ি নদীতে যায় যাক, গ্রামটা রক্ষা করেন স্যার।’
সুরুজ্জামান , বাদশা মিয়া ও এরশাদ জানান, গত বছর থেকে নদীর ভাঙনের তীব্রতা বেড়ে গেছে। এবছর আমরা নদী ভাঙনের শিকার হলেও এখন পর্যন্ত কোন সাহায্য পাইনি। তারা বলেন, এখন একটি বিজিবি ক্যাম্প, একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও মসজিদসহ অসংখ্য ঘরবাড়ি হুমকির মধ্যে রয়েছে। তারা দ্রুত ভাঙন ঠেকাতে সরকারের সহায়তা কামনা করেন।
এব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার অমৃত দেব নাথ জানান, ভাঙন কবলিত এলাকার ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা এখনো পাইনি। শনিবার বিকেলে জেলা প্রশাসক ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলীসহ আমরা সরেজমিন পরিদর্শনে যাবো। এরপর তালিকা প্রস্তুত করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান জানান, ওই এলাকার জন্য ২ হাজার জিও ব্যাগ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। দ্রুতই কাজ শুরু হবে।
পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/171476