রংপুর মেডিকেলে দালালকে ধরে ময়লা পরিষ্কার করালো ছাত্রদল নেতারা!

রংপুর মেডিকেলে দালালকে ধরে ময়লা পরিষ্কার করালো ছাত্রদল নেতারা!

রংপুর জেলা প্রতিনিধি : রংপুর মেডিকেলের জরুরি বিভাগে রোগী হয়রানী, অতিরিক্ত টাকায় আদায়ের অভিযোগে এক দালালকে ধরে অভিনব শাস্তি দেওয়া হয়েছে। শাস্তির ধরণ ছিল-তাকে দিয়ে দুর্গন্তযুক্ত ময়লার ড্রেন পরিস্কার করে নেয়া। ময়লা ড্রেন পরিস্কারের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ঘুরে বেড়াচ্ছে। গত শুক্রবার রাতে রংপুর মেডিকেল কলেছ ছাত্রদলের পূর্ব ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী এই অভিনব শাস্তি হিসেবে এই ময়লা পরিস্কার করে নেওয়া হয়। 

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ডিভিওতে দেখা যায়, আকতার হোসেন নামের এক দালাল চক্রের সদস্যকে ধরে তাকে দিয়ে ময়লা ড্রেন পরিস্কার করে নিচ্ছে রংপুর মেডিকেল কলেজ ছাত্রদলের মামুন ইসলাম। প্রথমে ড্রেন পরিস্কার, পরে সেই ময়লা ড্রামে করে নির্দিষ্ট স্থানে ফেলা হচ্ছে। এভাবেই একটা ড্রেন পরিস্কার করে নেওয়া হয় সেই দালালকে দিয়ে। রোগী নিয়ে হয়রানী কিংবা এই কাজ আর করবে না এমন ওয়াদা করা হয় সেই দালালকে। 

এ বিষয়ে রংপুর মেডিকেলে কলেজ ছাত্রদল সভাপতি মামুন ইসলাম বলেন, আমরা যখন জানতে পারি, বকশিশ না দেওয়ায় রোগী বহনে ট্রলি দেয়নি, সময় মতো রোগী চিকিৎসকের কাছে না পৌঁছানোর কারণে সেই রোগীর মৃত্যু হয়। এমন খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আমরা ছাত্রদল কর্মীরা সেখানে যাই এবং রোগীর আত্মীয়ের অভিযোগের প্রেক্ষিতে জরুরি বিভাগে হাতেনাতে দালাল ধরি। পরে সেই দালালকে দিয়ে দুর্গন্তযুক্ত ময়লার ড্রেন পরিস্কার করে নেই। তিনি আরও বলেন, এই অভিনব শাস্তি দেওয়ার উদ্দেশ্য হচ্ছে, দালাল সিন্ডিকেট কমবে পাশাপাশি ময়লা ড্রেন পরিস্কার হবে। রোগি হয়রানি, অতিরিক্ত টাকায় আদায়, ট্রলি নিয়ে ব্যবসা, এই সকল হয়রানির অভিযোগে রংপুর মেডিকেল কলেজ ছাত্রদলের পক্ষে ফেসবুকে ঘোষণা দিয়েছিলাম, চোর ছিনতাইকারী কিংবা দালাল চক্রের কেউ ধরা পড়ে, তাহলে তাকে দিয়ে ময়লা ড্রেন পরিস্কার করা হবে।

 রোগীর আত্মীয় রিপন মিয়া জানান, ট্রলি বহনকারীদের সাথে হাসপাতালের একটা শ্রেণির যোগসাজসে বড় সিন্ডিকেট গড়ে তুলছে তারা। সেই সিন্ডিকেটের টাকার ভাগ সবাই নেয়। এদের কোন একজনকে কিছু বললে পুরো সিন্ডিকেট আপনাকে হেনস্তা করবে, আপনার রোগীর প্রতি বিরুপ আচরণ করবে। চিকিৎসায় পদে পদে বাধা তৈরি করবে। যার কারণে অনেকেই বাধ্য হয়ে অন্যায় মেনে নেয়। এই সিন্ডিকেট ভাঙা দরকার। 

রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আশিকুর রহমান জানান, মেডিকেলের জরুরি বিভাগে রাতের বেলায় ট্রলি নিয়ে সিন্ডিকেট তৈরি করে অতিরিক্ত টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। আমরা চেষ্টা করছি, কিন্তু জনবল সংকটের কারণে এটা বন্ধ সম্ভব হচ্ছে না। তবে আমাদের চেষ্টার ত্রুটি নেই। এতো বড় হাসপাতালে একাই লড়াই করে, উদ্যোগ নিয়ে সফল হওয়াটা কঠিন। হাসপাতালের সার্বিক উন্নয়নে সবার সহযোগিতা দরকার।

পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/171457