কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে রাস্তার কাজ ৪০ শতাংশ শেষ হওয়ায় বেড়েছে জনদুর্ভোগ
ফুলবাড়ী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি: কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলা সদর হতে কাঁঠালবাড়ী সড়কটির বেহাল দশার কারণে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ছে জনজীবন। প্রায় ১০ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যরে গোটা সড়কটির দীর্ঘদিন বেহাল অবস্থা। চলতি বছরের শুরুতে মাত্র ৪ কিলোমিটার সড়ক সংস্কারের উদ্যোগ নেয় স্থানীয় প্রকৌশল দপ্তর। সংস্কার কাজের মেয়াদ শেষ হলেও কাজ সমাপ্ত করতে পারেনি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। ফলে চলাচলের দুর্ভোগ দূর হওয়া তো দূরের কথা, উল্টো জনভোগান্তি আরও বেড়েছে।
স্থানীয় প্রকৌশল দপ্তর সূত্রে জানা যায়, ফুলবাড়ী কাঁঠালবাড়ী ১০ কিলোমিটার সড়কের মধ্যে নাওডাঙ্গা পুলেরপাড় বাজার হতে বড়ভিটা বাজারের কাছাকাছি পর্যন্ত ৪ কিলোমিটার সড়কের সংস্কার কাজের বরাদ্দ প্রকল্পটি ২০২৫-২৬ অর্থ বছরে পল্লী সড়ক ও কালভার্ট মেরামত (জিওবিএম) কর্মসূচি প্রকল্পের আওতায় নেয়া হয়। সড়কটির রক্ষণাবেক্ষণ কাজের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয় ২ কোটি ৬ লাখ ১৩ হাজার ৪১৯ টাকা।
চলতি বছরের গত ১৯ জানুয়ারি কার্যাদেশ দেওয়া হয় কুড়িগ্রাম সদরের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এফ এইচ ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কসপকে। চুক্তি অনুযায়ী সড়কের রক্ষণাবেক্ষণ কাজ শেষ হওয়ার কথা গত ২৪ মে। মেয়াদ শেষ হলেও সড়কের মাত্র ৪০ শতাংশ কাজ হয়েছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাজের গতি ধীরে চলায় জনদুর্ভোগে পড়েছে পথচারীসহ স্থানীয় বান্দিাররা। এ নিয়ে হতাশায় পড়েছে ১০কিলোমিটার রাস্তার দু’ধারের মানুষজন।
বড়ভিটা হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক শরিফুল আলম বিএসসি ও মৎস্য চাষি সিদ্দিক মিয়া জানান, ২০১৭ সালের ভয়াভহ বন্যায় সড়কটির ব্যাপক ক্ষতি হয়। তখন থেকে যাতায়াতে চরম ভোগান্তির শিকার হতে হয় বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষের। সড়কের বেহাল দশার বিরূপ প্রভাব পড়ে মানুষের জীবন জীবিকায়। পরে ২০১৯ সালে সড়কটির অনেকটা দায় সাড়া সংস্কার কাজ করে স্থানীয় প্রকৌশল দপ্তর।
সংস্কার কাজ শেষ করার কিছুদিন যেতে না যেতেই সড়কটি যাতায়াতের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে থাকে। পথচারীদের দুর্ভোগের ৭ বছর অতিবাহিত হওয়ার পর অবশেষে সড়কটি সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছে স্থানীয় প্রকৌশল দপ্তর। তবে এতে নতুন করে ভোগান্তি আরও বেড়েছে পথচারীদের।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী শফিকুল ইসলাম বলেন, ইচ্ছে করেই সড়কের কাজ ফেলে রাখা হয়নি। সড়কের কাজ শুরুর পর থেকে বৈরী আবহাওয়ার কারণে বারবার কাজ বন্ধ রাখতে হয়েছে। ফলে নির্দিষ্ট সময়ে কাজ শেষ করা সম্ভব হয়নি। এ ব্যাপারে উপজেলা প্রকৌশলী মামুনুর রহমান বলেন, ৪ কিলোমিটার রাস্তার কাজটি সম্পন্ন করার জন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে অবগত করা হয়েছে। আশা করছি অল্প সময়ের মধ্যে সড়কের কাজ সম্পন্ন করা হবে।
পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/171401